গতকাল সোমবার কাতারভিত্তিক টিভি চ্যানেল ‘আলজাজিরা’ ক্রিকেটে ম্যাচ গড়াপেটা নিয়ে সম্প্রচার করেছিল একটি তথ্যচিত্র। সেখানেই উঠে এসেছে গলের দুটি টেস্ট নিয়ে সন্দেহের কথা। ভারতের বিপক্ষে গত বছরের টেস্ট নিয়ে কথা না বললেও ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজ জিতে নেওয়া টেস্ট ম্যাচের পেছনের ব্যাখ্যা দিয়েছে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)।
বছর দুয়েক আগের সে সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশ করেছিল স্বাগতিকরা। তবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টটায় এমন স্পিন উইকেট বানানো হয়েছিল যে অসিদের ২০ উইকেটের ১৮টিই যায় স্পিনারদের দখলে। ম্যাচটা শেষও হয়ে যায় মাত্র আড়াই দিনেই।
ম্যাচটি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় কাতারের গণমাধ্যমটি চালিয়েছে এক গোপন তদন্ত। সেই তদন্তের ওপর ভিত্তি করেই বানানো হয়েছে ‘ক্রিকেট’স ম্যাচ ফিক্সারস’ নামে একটি তথ্যচিত্র।
আর সেই তথ্যচিত্রের খাতিরে লুকানো ক্যামেরায় উঠে এসেছে এক জুয়াড়ির নাম। রবিন মরিস নামের মুম্বাইয়ের এক লোক জড়িত আছে ম্যাচ গড়াপেটার পেছনে। জানা যায়, গলের মাঠকর্মীকে টাকা খাইয়েই এমন উইকেট বানানো হয়েছিল সে টেস্টে।
সেই তথ্যচিত্র প্রকাশ পাওয়ার ঠিক পরের দিন আজ মঙ্গলবার মুখ খুলল লঙ্কান বোর্ড। স্পিনবান্ধব উইকেট ছিল, তেমনটা মানতে কোনো সমস্যা নেই তাদের। তবে শুধু যে স্পিনাররাই সুবিধা পেয়েছে, তেমনটা মানতে একদমই অস্বীকৃতি জানান এসএলসির সহসভাপতি মোহন ডি সিলভা।
মোহন বলেছেন, ‘হ্যাঁ, এটা সত্য যে আমাদের স্পিনাররা অনেক উইকেট নিয়েছে। বাট অস্ট্রেলিয়া দলের পেসাররাও উইকেট পেয়েছিল। মিচেল স্টার্ক একাই তো ১১ উইকেট নিয়েছিল। আমাদের দলের শক্তির জায়গাটা সব সময়ই স্পিন, এটা তো নতুন কিছু না। টেস্টে মুত্তিয়া মুরালিধরনের ৮০০ উইকেট কিংবা রঙ্গনা হেরাথের ৪০০ উইকেট রয়েছে। তাই আমাদের স্পিনিং উইকেট বানানোটা তো অস্বাভাবিক কিছু নয়। বরং এটাই স্বাভাবিক।’
স্বাগতিকদের সিরিজ জিতে নেওয়া সে টেস্ট শেষ হয়ে গেয়েছিল তৃতীয় দিনের মাঝামাঝি সময়েই। আলজাজিরার সন্দেহ হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল এটাও। কিন্তু সেখানেই পাল্টা প্রশ্ন মোহনের।
যেখানে ম্যাচের আম্পায়ার বা রেফারির সন্দেহ হয়নি, সেখানে তাদের এমন সন্দেহে বিস্মিত মোহন, ‘তারা বারবার বলছে এই টেস্ট মাত্র আড়াই দিনেই শেষ হয়ে গেছে কেন? কিন্তু সে ম্যাচের দায়িত্বে থাকা আম্পায়ার কিংবা ম্যাচ রেফারি তো এ নিয়ে কোনো কথাই বলেননি। গলে সেদিন অশুভ কিছু ঘটেছে, তেমনটা বিশ্বাস করা আমাদের জন্য কঠিনই। তবে আইসিসি এ নিয়ে তদন্ত করছে। আর ক্রিকেটের ক্ষতি হয় এমন কোনো কিছুর পক্ষে কথা বলার মানসিকতা আমাদের নেই।