ম্যারাডোনা এবং মেসি আর্জেন্টিনার দুই সেরা খেলোয়াড়। বিশ্ব ফুটবলের সেরাদের তালিকায়ও অনেক রাখবেন এই দুই আর্জেন্টাইনকে। এদের মধ্যে মেসি এখনো আর্জেন্টিনার হয়ে ফুটবল মাতাচ্ছেন। আর ম্যারাডোনা দেশকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে এবং রানার্স আপ করে ১৯৯৪ সালে অবসর নিয়েছেন। কোচিংয়ে নেমে মেসিদের দায়িত্বও পালন করেছেন ম্যারাডোনা। কিন্তু এমন একজন কোচ আছেন যিনি আর্জেন্টিনার দুই সময়ের সেরা দুই তারকাকে কোচিং করিয়েছেন।
ম্যারাডোনা ১৯৭৭ সালে আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলা শুরু করেন। দেশকে এনে দেন ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ। এরপর আবার ১৯৯০ সালে রানার্স আপ হয় আর্জেন্টিনা। দেশের হয়ে তিনি খেলেছেন ১৭ বছর। আর মেসি আর্জেন্টিনার জার্সি প্রথম গায়ে চড়ান ২০০৫ সালে। ম্যারাডোনার অবসর নেওয়ারও ১১ বছর পরে।
ম্যারাডোনার সময়ে তাকে জাতীয় দল কিংবা ক্লাবের হয়ে কোচিং করানো ছিল অনেক কোচের স্বপ্ন। মেসির ক্ষেত্রেও তাই। কিন্তু আলফিও বাসিল তার কোচিং ক্যারিয়ারে এই দুই তারকাকে সামলেছেন। এখন পর্যন্ত তিনিই একমাত্র কোচ যিনি আর্জেন্টিনার সেরা দুই তারকাকে কোচিং করিয়েছেন।
বাসিল ছিলেন সেন্ট্রাল ব্যাক। আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি ১৯৬৮-৭৩ সাল পর্যন্ত আট ম্যাচে মাঠে নেমেছেন।গোল করেছেন মাত্র একটি। এরপর ১৯৭৬ সালেই নেমে পড়েন কোচিংয়ে। আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে দায়িত্ব পান ১৯৯১ সালে। বিশ্বকাপের ফাইনালে হারার জন্য কালোর্স বিলার্ড বেশ সমালোচিত হন। তার নেতিবাচক কৌশলের জন্য দল হেরেছে বলে শুনতে হয় বিলার্ডকে।
এরপর দায়িত্ব দেওয়া হয় বাসিলকে। তিনি সে সময়ে বেশ কিছু নামকরা ফুটবলার সামলেছেন। ম্যারাডোনার কোচ থেকেছেন চার বছর। তার প্রথম দায়িত্ব পড়ে দলকে ১৯৯১ সালে কোপা আমেরিকার জন্য প্রস্তুত করা। বাসিল দায়িত্ব নিয়ে নতুন খেলোয়াড় দলে সুযোগ দেন। এ সময় তিনি ডিয়াগো সিমিওনে, গাব্রিয়েল বাতিস্তুতা, লিওনার্দো রদ্রিগেজদের কোচিং করিয়েছেন। তবে তার সময়ে ড্রাগ নেওয়ার অভিযোগে ১৫ মাস মাঠের বাইরে ছিলেন ম্যারাডোনা।
এরপর ২০০৬ বিশ্বকাপের পর পেকারম্যানকে সরিয়ে আবার দায়িত্বে আনা হয় বাসিলকে। বাসিলও দায়িত্বটা সাদরে গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেন বছর খানেক দলে সুযোগ পাওয়া মেসিকে সামলানোর।
তবে প্রথম যেভাবে আর্জেন্টিনাকে কোচিং করিয়ে খ্যাতি পেয়েছিলেন এবার তেমনটা হয়নি। আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে হেরে যায় তার অধীনে। এরপর ২০০৬ বিশ্বকাপে হারের পর ২০১০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব শুরু হয় তার অধীনে। কিন্তু ভালো শুরু না করায় তাকে ২০০৮ সালেই সরে দাঁড়াতে হয়।