গুরুদাসপুর প্রতিনিধি.
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এর স্ত্রী মোছা. ফজিলা খাতুন (৭৫)
নাটোরের গুরুদাসপুরে আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে এসে নেতাকর্মি, পুলিশ প্রশাসন ও
সাধারণ জনগণের সাথে আত্ম-আন্তরিকতা প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে
তিনি গুরুদাসপুর ত্যাগ করেন।
এক স্বাক্ষাৎকারে মোছা. ফজিলা খাতুন জানান, বর্তমানে তাঁর এক ছেলে ও চার মেয়েকে
নিয়ে ভাল সময় কাটাচ্ছেন এবং তারা কর্মব্যস্ত জীবনযাপন করছেন। আগামী ২১ নভেম্বর
স্বসশ্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ পরিবারের সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষাৎকার থাকায় তিনি সেখানে বেশি সময় থাকতে পারেননি।
আত্মীয় সুত্রে জানা যায়, গত সোমবার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এর
স্ত্রী মোছা. ফজিলা খাতুন গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের তেলটুপি গ্রামে
তাঁর ভায়ের মেয়ের জামাই মহরম প্রাং এর বাসায় বেড়াতে আসেন। পরে মহরম প্রাং এর ছেলে
শাহিন আলম গুরুদাসপুর থানায় ঘটনাটি জনালে থানার ওসি দিলীপ কুমার মোছা. ফজিলা
খাতুনকে সম্মান প্রদর্শন করে তার চেয়ারে বসান। এ সময় তাঁকে দেখার জন্য এবং তাঁর
সাথে স্বাক্ষাৎ করার জন্য হাজার হাজার মেহনতি জনসাধারন ও নেতাকর্মিরা ভীড় জমান।
উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালের ১৪ মার্চ যশোহরের গোয়ালহাটিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর
সাথে এক সন্মুখ সমরে সহযোদ্ধাদের অবস্থান যুদ্ধক্ষেত্রে সুসংহত করতে মৃত্যুর কাছে
আলিঙ্গন করেন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ। যশোর জেলার মহেশখালি
গ্রামে ১৯৩৬ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারী তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন
মোহাম্মদ আমানত শেখ এবং মাতা মোসাম্মত জিন্নাতুন্নেসা খানম। নূর মোহাম্মদ
স্থানীয় বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠ সম্পন্ন করেন এবং ১৯৫৯ সালের ১৪ই মার্চ
তালিকাবদ্ধ হন পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস-এ। সহযোদ্ধাদের অবস্থান যুদ্ধক্ষেত্রে সুসংহত দেখে
নূর মোহাম্মদ একাই মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গেলেও ততক্ষণই লড়েছিলেন যতক্ষণ পর্যন্ত না তার
সঙ্গীদের অবস্থান নিরাপদ হয়।