সোহেল রানা সোহাগ,তাড়াশ
(সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধি ঃ সিরাজগঞ্জ পাবনা ও নাটোর জেলার
মধ্যবতী অবস্থীত চলনবিল এলাকা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ ও বেত শিল্প।
বাড়ির পাশে বাঁশ বা বেতের ঝাড় গ্রাম বাংলার চিরায়ত রুপ। কিন্তু বনাঞ্চলের
বাইরে ও এখন যেভাবে গ্রামীণ বৃক্ষরাজি উজাড় হচ্ছে তাতে হারিয়ে যাবার
পথে এ জাতীয় গাছ পালা। এক সময় এ দেশেই বিস্তীর্ন জনপদে বাঁশ-বেত
দিয়ে তৈরি হত হাজারো গৃহস্থালী ও সৌখিন পন্য সামগ্রী। ঘরের কাছের
ঝাড় থেকে তরতজা বাঁশ বেত কেটে গৃহিনীরা তৈরি করতেন হরেক রকম
জিনিস। অনেকে আবার এসব বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। দরিদ্র
পরিবারের অনেক লোকের উপার্জনের একমাত্র পথ ছিল এগুলো। কিন্তু আজ
বাংলাদেশের কয়টি গ্রামে এ হস্ত শিল্প টি উর্পাজনের মাধ্যম হিসেবে
আছে তা এখন ভাবনার বিষয়। এখন সচরাচর গ্রামীন উৎসব বা মেলাতে বাঁশ
ও বেতজাত শিল্পীদের তৈরি উন্নতমানের খোল,চাটাই ,খালই, ধামা,টোনা,
পাল্লা, মোরা, বুকসেফ কদচিৎ চোখে পড়ে। যেখানে তারপাতার হাত পাখার
কদর নেই,সেখানে এগুলো তো দুরের কথা। তৃনমুলে বিদ্যুৎ যেমন পাখার
চাহিদা কমিয়েছে তেমনি মৎস্য শিকার ,চাষাবাদ,ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র
সকল ক্ষেত্রে কমেছে বাঁশ ও বেত জাতীয় হস্ত শিল্পের কদর। যতই দিন যাচ্ছে ততই
কমে যাচ্ছে এই হস্ত শিল্পের চাহিদা। ইটের ভাটায় পোড়ানোর জন্য বাঁশ ও
বেত বাদ পড়ছেনা।সিরাজগঞ্জে তাড়াশ উপজেলার সাবেক ইউপি সদস্য
এন্তাজ আলী জানান,একদিকে মুল্যবৃদ্ধি,দুষ্পাপ্যতা আর অন্যদিকে
ক্ষতিকারক প্লাষ্টিক, সিলভার,মেলামাইন যাবতীয় সামগ্রী কম মুল্য ও
টেকসই হওয়ায় নাগরিক জীবনে এর কদর কমে গেছে। এমতাবস্থায় বাঁশ ও
বেত শিল্পীরা বেকারও কর্মহীন হয়ে পড়েছে।