মোঃ ফাহিম আহম্মেদ রিয়াদ (বগুড়া)ঃ বগুড়ায় ফেসবুকে মৃত্যুর ১৮ ঘন্টা
পূর্বে আগাম ঘোষনা দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বগুড় আমর্ড পুলিশ
ব্যাটালিয়ন স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্র রায়ান রাব্বী তাসিন।
সূত্রমতে, ভালবাসা দিবসে প্রেমিকার অবহেলা এবং পাবিবারিক কোন্দলের
কারনে শহরের শিববাটী এলাকার ব্যবসায়ী জুয়েলের পুত্র রায়ান রাব্বী
বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুল ভবনের ৪তলা থেকে ঝাপ দিয়ে আতœহত্যার চেষ্টা
করে। তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল
হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে অপারেশন করার পর আইসিইউতে
লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে
মৃত ঘোষণা করেন। রায়ান রাব্বী তাসিন তার ফেসবুক এ্যাকাউন্ট
(জধরুধহ জধননর ঞধংরহ) এ সে গত ক’দিন থেকেই আগাম স্ট্যাটাস দিয়ে
আসছে। তাতে কখনও লেখা ছিল সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ অনেক দুঃখ কষ্ট
দেয়ার জন্য। সবাইকে বিদায় ইত্যাদি। এরপর সে একটি স্ট্যাটাস দেয় “আজ
মোর হৃদয়ের শেষ যাতনার যাপন। আজ মোর নয়নের শেষ নীড় ফেরার
আপ্যায়ন। আজ মোর অন্তরে শেষ গর্জনের আয়োজন।” মৃত্যুর ১৮ ঘন্টা
আগে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছে। তাতে সে লিখেছে পরিবারের জন্য একটা
বোঝা কমতে যাচ্ছে। ফলে সাশ্রয় হবে প্রচুর অর্থ, সমস্যা কমবে সম্পত্তি
নিয়ে। এছাড়াও লিখেছে, একটা মেয়ের জন্য একটা ছায়া নিখোঁজ হয়ে
যাবে। যাকে ধরা না দেয়ার জন্য মেয়েটা সারাক্ষণ অবহেলা করতো এবং
লুকিয়ে থাকতো। তবে কয়েক পল পর থেকে এই আবর্জনা পৃথিবী থেকে
মোচন হতে যাচ্ছে। রায়ান তার মৃত্যুর আগে তার প্রোফাইল পিকচার
পরিবর্তন করে তাতে লেখে আমি আত্মহত্যা করিনি আমায় হত্যা করা
হয়েছে। এ ঘটনায় স্কুল শাখার প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক বলেন,
“পারিবারিকভাবে সে বিপর্যস্ত ছিল। স্কুলে সে প্রায়ই অমনোযোগী
থাকত। তার বাবা-মার ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর থেকেই তাসিন মানসিকভাবে
ভেঙে পড়ে।” সহপাঠী এরফান ইমতিয়াজ বলেন, “আনুমানিক ২টার দিকে
তাসিন ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েছে এমন সংবাদ পেয়ে ক্যাম্পাস থেকে
ছুটে যাই। গিয়ে দেখি সে রক্তক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।” তাসিনের বাবা
জুয়েল হোসেন সোহাগ বলেন, “প্রতিদিনের মতোই আমার ছেলে স্কুলে
গিয়েছিল। হঠাৎ দুপুরে খবর পাই সে ছাদ থেকে পড়ে আহত হয়ে
হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। কী কারণে ছাদ থেকে সে পড়ে গেল তা এখন বলতে
পারছি না।” তার মৃত্যুতে স্কুলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।