শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে কোনো পশু সংকট নেই – সাভারে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ সাভার ও আশুলিয়ায় অপরিকল্পিত বাসা বাড়িতে বসবাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জনগণ প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকার-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী   কুমিল্লার নাগরিক সেবায় নতুন অধ্যায়: গঠিত হচ্ছে ওয়াসা ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে ছোট পাইপ স্থাপনের অভিযোগ আশুলিয়ার জামগড়া ইস্টার্ন হাউজিং বাজারে জলাবদ্ধতায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির, ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ গৃহবধূ হত্যা মামলার আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার! আশুলিয়ার বাইপাইল- ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং কতৃক অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র অপহরণের পর হত্যা: ২০ মাস পর লাশ উত্তোলন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বড়াইগ্রাম ট্রাজেডির আজ তৃতীয় বর্ষ, হতাহতের পরিবারে আহাজারি থামেনি

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭
  • ২০২ বার পড়া হয়েছে

 

মোঃ আশিকুর রহমান টুটুল, নাটোর জেলা প্রতিনিধি,
আজ (২০ অক্টোবর) ভয়াবহ নাটোরের বড়াইগ্রাম ট্রাজেডি দিবসের আজ
তৃতীয় বর্ষপূর্তি হতাহতের পরিবারের আজও থামেনি আহাজারি। ২০১৪
সালের এই দিনে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের রেজুর মোড়ে মর্মান্তিক
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৩৮ জন নিহত ও অন্তত ৪০ জন মানুষ আহত হন।
এ এলাকার মানুষের হৃদয়ের মাঝে আজ রক্তক্ষরণের দিন। সেদিনের মর্মান্তিক ও
বিভীষিকার কথা স্মরণ করে আজো আঁতকে উঠেন সবাই। স্মরণকালের ভয়াবহ
এই দুর্ঘটনার দুই বছরেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি হতাহতদের পরিবারগুলো।
কালের স্রোতে হারিয়ে গেছে দুইটি বছর, চোখের পানি শুকিয়ে গেছে,
তবুও থামেনি তাদের নীরব কান্না। দুর্ঘটনায় নিহতদের ফ্রেমে বাঁধা
ছবিই এখন স্বজনদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।
স্থানীয় সুত্র জানায়, ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর একটি জোড়া খুনের মামলায়
হাজিরা দিয়ে নাটোর আদালত থেকে বাড়ী ফিরছিলেন এসব হতভাগ্যরা। পথে
বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের রেজুর মোড়ে বিপরীতমুখী ঢাকা কোচ
কেয়া পরিবহনের সঙ্গে অথৈই পরিববহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। তবে
যে মামলায় হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, সে
মামলাটি প্রত্যাহারের অনেক আবেদন-নিবেদন করেও মামলাটি প্রত্যাহার
করেনি বাদীপক্ষ। ফলে অসুস্থ-পঙ্গু ব্যাক্তিদেরকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা
দিতে হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পরপরই নিহতদের পরিবারগুলোকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১
লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। সরকারী ভাবে প্রতি মাসে ৩০
কেজি চালের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। কিন্তু তার সময় সীমাও প্রায় শেষ
পর্যায়ে। ফলে নিহতদের বিধবা স্ত্রী-সন্তানরা হতাশা আর দুশ্চিন্তা নিয়ে
মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাদের এখন দিন চলে অন্যের বাড়িতে কামলা
দিয়ে কিংবা ধিয়াল (স্থানীয় ভাষায় চাঁই) বানিয়ে। অপরদিকে দুর্ঘটনায়
আহতদের অনেকেই চিকিৎসা করাতে না পেরে পঙ্গু হয়ে মানবেতর দিন
কাটাচ্ছেন।
দুর্ঘটনায় সৌভাগ্যক্রমে বেচেঁ যাওয়া সিধুলী গ্রামের ৭ ভাইয়ের এক
ভাই আব্দুর রহমান অর্থাভাবে তার চিকিৎসা থেমে যাওয়ায় পঙ্গু হয়ে
গেছেন ও একই গ্রামের ইউনুস আলী দেশ ও দেশের বাইরে চিকিৎসা করেও
সুস্থ্য হয়ে উঠতে পারেননি। সংসারের একমাত্র উর্পাজনক্ষম ব্যাক্তি এখন
পরগাছার মত জীবন-যাপন করছেন।
আব্দুর রহমান জানান, এখনও তার প্রতি সপ্তাহে দুই হাজার টাকার ওষুধ
প্রয়োজন হয়। এই টাকা তিনি জোগার করতে পারেন না। পঙ্গু ইউনুস

আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগম জানান, তার স্বামী এখন নির্বাক। ভারতের
চেন্নাই,মাদ্রাজসহ বিভিন্ন্ধসঢ়; স্থানে উন্নত চিকিৎসা করে ১৫ লাখ
টাকা খরচ করেও কোন লাভ হয়নি। দুর্ঘটনায় আহত একই গ্রামের কৃষক
ফারুক আহম্মেদ (৩৫) দুই বছরেও সুস্থতার মুখ দেখতে না পেয়ে অবশেষে গত
ঈদ উল আজহার আগের রাতে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। অপর আহত জহুরুল
ইসলাম ঘটনার পর থেকে প্রায় ১৬ মাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় থেকে সাত
মাস আগে মারা গেছেন। জহুরুলের বিধবা মা জমেলা বিবি জানান, এখন
আমি সরকারী জমিতে ঘর তুলে ভিক্ষা করে জীবন চালাই। আমার ছেলেটা
দুর্ঘটনার দেড় বছর পর মারা যাওয়ায় আমি কোন সরকারীভাবে দেয়া এক লাখ
টাকার আর্থিক অনুদানও পাইনি।
দুর্ঘটনায় আহত মন্টু জানান, গ্রাম্য দলাদলিতে দুজনকে হত্যা মামলায়
আমাদেরকে অযথা আসামী করা হয়েছিল। সে মামলায় হাজিরা দিয়ে ফেরার
পথেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় মামলার ১৪ আসামী মারা গেছে।
কিন্তু তাতেও বাদীপক্ষের মন গলেনি। তারা মামলা প্রত্যাহার না করায় আহত শরীর
নিয়েই আমাদেরকে হাজিরা দিতে হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর নাটোরের তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ
আলীর নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার তিনটি কারণ উল্লেখ করে
১৭টি সুপারিশসহ সাত পৃষ্ঠার পুর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রনয়ন করেন।
কিন্তু সেসব সুপারিশ অদ্যাবধি আলোর মুখ দেখেনি।
এদিকে, ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর এই মহাসড়কসহ বনপাড়া হাইওয়ে থানা
এলাকায় যমদূত যেন পিছু ছাড়ছে না। প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনা।
বনপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশের সার্জেন্ট আমিনুল ইসলাম জানান, ওই
ঘটনার পর গত দ্#ু৩৯;বছরে প্রায় ৯৪ টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ
হারিয়েছে অন্তত ৮২ জন। আহত হয়েছে আরো প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ।
নাটোর জেলা নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সুন্দর
আগরওয়ালা জানান, দুর্ঘটনার দিনই সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল
কাদের দুর্ঘটনাস্থলে এসে সারা দেশের মহাসড়কের তালিকাভূক্ত ১৭২টি
বিপদজনক মোড়ের পাশাপাশি রেজুর মোড়টিও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি
দিয়েছিলেন। কিন্তু গত দুই বছরেও এই মোড়টি সম্প্রসারণের কোন
উদ্যোগ নেয়নি সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
উপজেলা মানবাধিবকার বাস্তবায়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক খাদেমুল ইসলাম
বলেন, দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা কবলিত স্থানটিতে স্মৃতিস্তম্ভ
নির্মাণের দাবী ছিলো শুরু থেকেই। গতবার প্রথম বার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে
উপজেলা প্রেসক্লাবের মানববন্ধনকালেও এ দাবী জানানো হয়। কিন্তু
অদ্যাবধি এ দাবী পুরণ হয়নি।
নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজী আতিয়ুর রহমান
জানান,আহত নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত
কমিটির প্রতিবেদনটি সুপারিশ সহকারে মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করা হয়েছে।
মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ পাওয়ার পর সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
নেওয়া হবে। বনপাড়া পৌরসভা স্মৃতি স্তম্ভ নিমান করার কথা। ক্ষতিগ্রস্থ

পরিবারগুলো নতুন করে সহায়তার আবেদন করলে বিষয়টি সহানুভুতির সাথে
দেখা হবে।
নবাগত জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন জানান, সড়কের চিহ্নিত ৮ টি
বাঁকে সড়ক প্রশস্ত করণ কাজ চলতি অর্থ বছরেই করা হবে। সড়ক বিভাগ তা
বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। ইতিপুর্বে কাজ শুরুর কথা ছির কিন্তু
বৃষ্টির কারনে শুরু করা যায়নি। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর বিষয়ে খোজ নিয়ে
ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451