নাটোর জেলা প্রতিনিধি,
নাটোরের সিংড়ায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরি পদে জাল
সনদধারী এক প্রার্থীকে চাকরী পাইয়ে দিতে তদবির করে চলেছেন স্থানীয়
এক আওয়ামীলীগ নেতা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাফি ইসলাম নামে ওই
প্রার্থীর ৮ম শ্রেণী পাশের প্রদানকৃত সনদ জাল বলে প্রমানিত হওয়ার পরও
ডাহিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সিরাজুল মজিদ মামুন
তদবির সহ চাপ দিচ্ছেন স্কুল কর্তৃপক্ষকে। স্কুল পরিচালনা কমিটির
সভাপতি আবু বক্কর এবিষয়ে অভিযুক্ত প্রার্থীকে উকিল নোটিশ প্রেরন করার
পরও ওই আওয়ামীলীগ নেতার তদবির বন্ধ হয়নি।
এলাকাবাসী সুত্রে জানাযায়, সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের
সরিষাবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরির শুন্য পদে বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশের পর সাফি ইসলাম সহ বেশ কয়েকজন প্রার্থী আবেদন করেন।
আবেদনকারীদের কাগজপত্র পরীক্ষা নিরিক্ষার পর সাফি ইসলামের সনদ জাল বলে
প্রমানিত হয়। কিন্তু সাফির নিকটাত্মীয় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা
সিরাজুল মজিদ মামুন তদবির করেন তাকে চাকরী দেওয়ার জন্য। কিন্তু স্কুল
কর্তৃপক্ষ জাল সনদের বিষয় তাকে জানায়। সিরাজুল মজিদ মামুন জাল
সনদের বিষয়টি ষড়যন্ত্রমুলক বলে দাবী করে ওই পদে সাফিকে চাকরী দেওয়ার
জন্য চাপ দিচ্ছেন। এতে অন্য প্রার্থী সহ এলাকার মানুষদের মধ্যে ক্ষোভের
সৃষ্টি করেছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন জাল সনদের সত্যতা নিশ্চিত করে
জানান, আবেদনকারী সরিষাবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২য় শ্রেণী
পর্যন্ত পড়েছে। তার জন্ম নিবন্ধন ও ৮ ম শ্রেণী পাশের সনদের সাথে কোন
মিল নেই। এমনকি যে মাদ্রাসা থেকে সনদটি নেওয়া হয়েছে যার স্বাক্ষরে
তিনি ওই সময় অবসরে ছিলেন। তার স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছে।
স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবু বক্কর জানান, বিষয়টি প্রমানিত
হওয়ার পর ওই প্রার্থীকে উকিল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাকে চাকরী দেওয়ার
কোন সুযোগ নেই।
আওয়ামীলীগ নেতা সিরাজুল মজিদ মামুন স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উল্টো
অভিযোগ করে বলেন, প্রার্থী তার মামাতো ভাই হওয়ায় ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা
অভিযোগ তোলা তার বিরুদ্ধে। সাফি ইসলাম সিংড়ার একটি স্কুলে
তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হয়। পরে আয়েশ বছিরুল উলুম মাদ্রাসায় ভর্তি
হয় সে। জাল সনদের অভিযোগ সঠিক নয়।