সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:২৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
ঠাকুরগাঁও -৩ আসনে বিএনপি’র মনোনীত এমপি প্রার্থী জাহিদুরের নির্বাচনী প্রচারণা  পীরগঞ্জে সাংবাদিকের উপর হামলা, টাকা ছিনতাই  নাতনিকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় ৮০ বছরের দাদীকে নির্মমভাবে হত্যা, দুই যুবক আটক তালা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ইউএনও দীপা রানী সরকারকে ফুলেল শুভেচ্ছা তালায় শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে হামলাকারীর মৃত্যু নোয়াখালীতে লাল সবুজ বাস যাত্রীকে মারধরের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দুই জন গ্রেপ্তার অবৈধ সম্পদ অর্জন সাবেক এমপির এপিএস অচীন কুমার দাসের দুই কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ আদালতের চীনের সাথে জোরালো আলোচনা চলছে শ্রীঘ্রই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। কুড়িগ্রামে উপদেষ্টা  সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান” তালায় দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সমবায় সদস্যদের মাঝে চেক বিতরণ তালায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা

কলাপাড়ায় ১২টি ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও ৪টি প্রাইভেট ক্লিনিকে অবাধে চলছে স্বাস্থ্য বানিজ্য! দেখার কেউ নেই

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
  • ৪১৭ বার পড়া হয়েছে

পারভেজ, কলাপাড়া প্রতিনিধি:  মানুষের মৌলিক অধিকার স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত আমজনতার দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেড়েই চলছে। মানব রূপি  দানবদের অর্থ বানিজ্যের অমানবিক আচরনের মানবাধিকার প্রতিক্ষণে চরম ভাবে লঙ্গিত হচ্ছে।পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ৪টি প্রাইভেট ক্লিনিকের দালালদের দৌরাত্ম্যে হয়রানির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ভুক্তভোগী এসকল মানুষ সরকারী হাসপাতাল থেকে যথাযথ চিকিৎসা সেবা না পেয়ে দালালদের খপ্পড়ে পড়ে আর্থিকভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছে। এমনকি প্রভাবশালী প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকদের পোষা দালালদের হাতে অসুস্থ রোগী ও তার স্বজনদেরকেশারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করারও অভিযোগ রয়েছে।জানা যায়, কলাপাড়া পৌর শহর, মৎস্যবন্দর মহিপুর, কুয়াকাটা ও বাবলাতলা বাজারে ১২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ৪টি প্রাইভেট ক্লিনিক রয়েছে। এসকল প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোর কাগজ পত্র থাকলেও ১২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে ৬টির কাগজ পত্র নেই। এগুলো হলো- কলাপাড়া পৌরশহরের যমুনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ধুলাসার ইউনিয়নের বাবলাতলা বাজারের পায়রা ডায়াগনস্টিক ল্যাব, দি নিউ ল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কুয়াকাটায় ডিজিটাল এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার-১, কুয়াকাটা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মহিপুরে ডিজিটাল এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার-২।মহিপুরের ১টি ও কুয়াকাটার ২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের জন্য পটুয়াখালী সিভিল সার্জন কার্যলয় থেকে চিঠি দেয়ার পরও এই তিনটি রয়েছে বহাল তবিয়তে। এছাড়া ধুলাসারের বাবলাতলার দুটি ডায়াগনস্টিক ল্যাব কাগজপত্র বিহীন চলছে। এমনকি এই দু’টি ডায়াগনস্টিক ল্যাবের নাম ও জানে না পটুয়াখালী সিভিল সার্জন আফিস। সেই সাথে যে কয়টির কাগজ পত্র রয়েছে এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দক্ষ জনবল নেই। কর্মরত নার্স, ব্রাদার, টেকনিশিয়ান ও ল্যাব সহকারীদের মধ্যে অনেকেরই যথাযথ প্রশিক্ষণ সনদনেই।উপজেলা সদরে ৩টি ও মহিপুরে ১টি ক্লিনিক রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- নিউ হেলথ কেয়ার ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আলেয়া ক্লিনিক, মেডিল্যাব ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক, মহিপুর মাতৃসদন সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ক্লিনিকে ডিউটি ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও কোনটিতেই নেই সে ব্যবস্থা। এমনকি ৩ জন করে ডিপ্লোমানার্স থাকার কথা থাকলেও একমাত্র নিউ হেলথ কেয়ার ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একজন ডিপ্লোমা নার্স রয়েছে।এসকল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট ক্লিনিক গুলোর দালালরা অফিস টাইমে হাসপাতালের ভিতরে ও গেটে অবস্থান নিয়ে রোগী বাগিয়ে নেয়ার বিষয়ে তৎপর থাকে সর্বদা। মাঝে মাঝে রোগী নিয়ে টানা হেঁচড়া সহ দালালে দালালে হাতা-হাতি ও চুলো-চুলির ঘটনাও ঘটছে।কলাপাড়া হাসপাতালের খোদ চিকিৎসক ও স্টাফদের মধ্যে কেউ কেউ এসকল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবসার সাথে জড়িত থাকায় অফিস টাইমেও তারা প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসে প্রাইভেট প্রাকটিস করছেন। কলাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন ডাক্তার তার পরিবারের সদস্যদের নামে তিনটি প্রতিষ্ঠানের সাথে, দুইজন হাসপাতালের কর্মচারী দুইটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসাবে জড়িত রয়েছেন। এই সব প্রতিষ্ঠানে জড়িতরা হাসপাতালে বসেই তারা রোগীদেরদের ম্যানেজ করে বিভিন্ন টেস্ট ও অপারেশনের জন্য পাঠান তাদের নিজেস্ব ল্যাব ও ক্লিনিকে।এছাড়া দুইজন ডাক্তার হাসপাতালের চেম্বারে বসে সরকারী টিকিটে রোগী দেখার পর তার নিজস্ব ল্যাবে টেস্টের জন্য রোগীদের পাঠিয়ে দুপুর১টা পর্যন্ত রোগীদের বসিয়ে রাখেন এবং ল্যাবের চেম্বারে বসে আবার টিকিটের রোগীদের কাছ থেকে পুনরায় ৩’শ টাকা ভিজিট নিয়ে সেই রোগীদের দেখার অভিযোগ এখন মানুষের মুখে মুখে।এভাবে তিনি সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।এছাড়া একজন ডাক্তারের বিরুদ্ধে রয়েছে মারপিট করা রোগীদের মাঝে সার্টিফিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ। তিনি হাসপাতালে সবচেয়ে বেশী সময় জরুরী বিভাগের দায়িত্ব পালন করে থাকেন বলে জানা গেছে। এসকল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট ক্লিনিক গুলোতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অবৈধ গর্ভপাত করারও অভিযোগরয়েছে।সম্প্রতি কলাপাড়ার একটি ক্লিনিকে অবৈধ গর্ভপাত করার সময় একজন রোগী মার যায়। পরে ওই ক্লিনিকটি প্রসাশনসীলগালা করে দেওয়ার কিছুদিন পরেই অদৃশ্য কারনে আবার চালু হয়। কিন্তুতারপরও থেমে নেই প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দালালদের দৌরাত্ম্য।কলাপাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার এর কাছে কাগজপত্র বিহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও ক্লিনিক গুলোরদক্ষ জনবল এবং হাসপাতালে অফিস আওয়ারে টিকিটের মাধ্যমে রোগী দেখারপর টেষ্ট দিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানোর পর ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসে ওই রোগীদের কাছ থেকে ভিজিট রাখার ব্যাপারে  জানতে চাইলেতিনি  বলেন, ‘আমি এ হাসপাতালে অল্প কিছু দিন হলো যোগদান করেছি। খোঁজ খবর নিয়ে সমাধান করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451