মো. আখলাকুজ্জামান, গুরুদাসপুর প্রতিনিধি.
অবিরাম বর্ষন ও ঊজান থেকে নেমে আসা বন্যার প্রকোপে বৃহত্তর চলনবিলের গুরুদাসপুর-তাড়াশ
মৈত্রী সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে।
বুধবার দুুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গুরুদাসপুর-তাড়াশ মৈত্রী সড়কের বিলসা থেকে
রুহাই এবং রুহাই থেকে কুন্দইল পর্যন্ত পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ফলে
তাড়াশের সাথে গুরুদাসপুর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে
পড়েছে। সড়কের এই বেহাল অবস্থায় সেখানে সিএনজি, অটোরিকসা, মোটরসাইকেল ও
সাইকেল সহ সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে একমাত্র নৌকা যোগে সেখানে
গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে চলাচল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অন্যান্য যান্ত্রিক যানবাহনের মাধ্যমে
বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ক দিয়ে তাড়াশ এবং চাঁচকৈড় বিলদহর হয়ে সিংড়ার সড়ক
ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
বিশেষ করে অতিবন্যার ফলে গুরুদাসপুর-তাড়াশ মৈত্রী সড়কের ঐতিহ্যবাহি ‘মা জননী সেতু’
বিপদসীমার নিচে থাকলেও সিংড়ার ডাহিয়া, বেড়াবাড়ি, পাঙ্গাসিয়া, তৃষিখালী, বাড়–হাস
ও গুরুদাসপুরের বিলসা, যোগেন্দ্রনগর, জ্ঞানদানগর, দূর্গাপুর, বাবলাতলা, শ্রীপুর, হরদমা,
বিলহরিবাড়ি, রুহাই, পিপলা এবং তাড়াশের নাদোসৌদপুর, ধামাইচ, কাটাবাড়ি,
চরকুষাবাড়ি, দিঘিসগুনা, কামারসন ও মাকর্সন সহ বন্যা প্লাবিত বিভিন্ন এলাকায়
যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নৌকা অথবা কলার ভেলা ব্যাবহার করা হচ্ছে।
এছাড়াও এলাকার পাটচাষীরা পাটকাটা, ধোয়া এবং শুকানো নিয়ে পড়েছেন দূর্বিপাকে।
একদিকে নতুন পাটের বেহাল অবস্থা অপরদিকে পাটের মুল্য কম পাওয়ায় চাষীরা উৎপাদনে উৎসাহ
হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।