ভোলা প্রতিনিধি:
জোয়ারের পানিতে গ্যাংওয়ে ডুবে ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌপথে ভোলা অংশে
ইলিশা ফেরিঘাটে যানবাহন ওঠা-নামা করতে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি
হয়েছে। ফেরিঘাটের র্যাম ও এপ্রোস সড়কে দুই/তিন ফুট পানির কারণে
যানবাহন পারাপার হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে। ফলে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা
বন্ধ রাখতে হচ্ছে ফেরি চলাচল। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাড়ে তীব্র
যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ঈদের ছুটিতে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ ২১টি জেলা
থেকে শেষ মুহূর্তে নাড়ির টানে বাড়ি আসা মানুষদের পড়তে হচ্ছে
নানা বিড়ম্বনায়।
শনিবার বিকাল ৪টার দিকে জোয়ারের পানিতে ঘাট তলিয়ে যাওয়ায়
বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। এতে করে ভোলা-লক্ষ্মীপুর
অংশে দুই শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় থাকে। অন্যদিকে চরম
দুর্ভোগে পড়েন ঈদে ঘরমুখো সাধারণ যাত্রীরা। তাদেরকে ফেরিঘাটে
এসে হাঁটু পরিমাণ নদীর পানির ভেতর দিয়ে বহু কষ্টে যাতায়াত করতে
হয়।
এ সময় চট্টগ্রাম থেকে ভোলায় আসা যাত্রী কামাল উদ্দিন জানান, ঈদের
ছুটিতে তিনি পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ভোলা এসেছেন।
ফেরিঘাটের বেহাল অবস্থার কারণে ফেরি থেকে নেমে হাঁটু পরিমাণ
পানির ভেতর দিয়েই ইলিশাঘাট পাড় হন তিনি। তার মত বহু যাত্রী এভাবেই
হাঁটু পরিমাণ পানির ভেতর দিয়েই ইলিশাঘাটে আসেন।
গাড়ি চালক আঃ কাদের ও ফেরি কনকচাঁপা দিয়ে আসেন চট্টগ্রাম
থেকে। কাদের বলেন, ঈদের ছুটিতে ভোলায় এসেছি। কিন্তু ইলিশা ঘাটের
যে অবস্থা তাতে ঈদ করতে আর গ্রামের বাড়ি আসা সম্ভব না।
ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের
ব্যবসায়ী মালেক বলেন, ডুবন্ত পন্টুনের মাঝপথে বাস আটকে পড়ায়
আমরা এখন হাঁটু পরিমাণ পানির ভেতর দিয়ে অনেক কষ্টে ইলিশা ঘাটে
এসেছি। ঘাট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে আজ ইলিশা ফেরিঘাটটি
বেহাল দশা হয়েছে। এ ফেরিঘাটের দিকে কেউ কোনো নজর দিচ্ছে না।
ফেরি কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোলার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ
পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের সহজ মাধ্যম হচ্ছে ভোলা-লক্ষ্মীপুর
ফেরি সার্ভিস। এ রুটে বর্তমানে কৃষানি, কুসুম কলি এবং
কনকচাঁপা নামে তিনটি ফেরি চলছে। ঈদ মৌসুমে গণপরিবহন এবং
পণ্যবাহী যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উভয় পাড়ে যানবাহন আটকে
আছে।
অন্যদিকে চাঁদপুর-সৈয়দপুর রুটের ফেরিতে সমস্যা থাকায় খুলনা ও
বরিশাল অঞ্চলের পরিবহনগুলো ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুট দিয়ে আসা যাওয়ায় করায়
যানবাহনের চাপ অনেক বেড়েছে। এসব যানবাহনের দীর্ঘ লাইন ছাড়াও
পানি সমস্যায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটের ফেরির ব্যবস্থাপক বিআইডব্লিউটিসি
কর্মকর্তা আবু আলম বলেন, প্রতি আমাবস্যা পূর্ণিমার জো আসলে
জোয়ারের পানিতে ফেরির পন্টুনের র্যাম ডুবে যায়। ডুবন্ত পন্টুন
দিয়ে শনিবার বিকালে একটি যাত্রীবাহী বাস ওঠার সময় আটকে গেলে
এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নদীতে ভাটা এলে বাসটি পন্টুনে উঠে
যাবে। তখন যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।
বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ পন্টুনটি মেরামত না করায় যাত্রীরা
ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলেও জানান বিআইডব্লিউটিসির এ
কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ ভোলার ট্রাফিক ইনচার্জ মো. নাছিম
বলেন, ইলিশা ফেরিঘাটে পন্টুনের গ্যাংওয়ের কাজ চলছে। আশা করা যায়
২/১ দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।