নাটোরের সিংড়ায় ছাগলে ধানের চারা নষ্ট করায় বেধড়ক পেটানো হয়েছে
আশিক নামে ৭ বছরের এক এতিম শিশুকে। শিশুটি এখন সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সের মেঝেতে শুয়ে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শিরা জানায়, সিংড়া উপজেলার শেরকোল পাঁচপাড়া গ্রামের মিন্টু
মিয়ার ছেলে আশিককে প্রতিবেশী গৃহস্থ আইয়ুব আলী (৩৫) তাকে লাথি ও লাঠি
পেটা করে আহত করে। বৃহস্পতিবার আশিক শেরকোল কংশপুর ফসলি মাঠে ছাগল
চড়াতে যায়। একটি ছাগল ওই আইয়ুব আলীর ধানের চারা নষ্ট করে। এসময় আইয়ুব
আলী ছুটে আসে এবং ক্ষিপ্ত হয়ে আশিককে ধরে লাথি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে
হাতে থাকা গরু পেটানো লাঠি দিয়ে আশিককে বেধড়ক মারপিট করে। এসময়
স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে আশিককে উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে
ভর্তি করে। আশিক এখন হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের মেঝেতে যন্ত্রনায়
কাতরাচ্ছে। পাশে বৃদ্ধ নানি আঞ্জু বেগম (৫৯) আহাজারি করছেন আর প্রলাব
বকছেন,ওর কেউ নেই । বাবা-মা থেকেও নেই। আমার যাদুকে এখন কে দেখবে। কি
দিয়ে চিকিৎসা হবে। কি অপরাধ আমার যাদুর। আমার যাদুকে যে এমন অবস্থা
করেছে আল্লাহ তার বিচার করবেন। এসময় হাসপাতালে চিকিৎসারত অনেকের
চোখ পানিতে ভিজে ওঠে।
হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুজন সরকার জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে
ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানায়,সিংড়া উপজেলার শেরকোল পাঁচপাড়া গ্রামের মিন্টু মিয়া
তিনমাস গর্ভে থাকা অবস্থায় আশিক ও তার মাকে ফেলে ভারতে পালিয়ে যায়। তার
মা আছিয়া বেগম বর্তমানে শেরকোলের এক ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করে।
জন্মের পর থেকেই আশিক তার নানির সাথে থাকে।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন মন্ডল জানান,
ঘটনাটি সম্পর্কে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়ে
খোঁজ নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।