মোঃ আশিকুর রহমান(টুটুল),নাটোর ব্যুরো প্রধান:
নাটোরের লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়ার এতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প এখন বিলুপ্তির
পথে । ভোর বেলায় তাঁতের খটর খটর শব্দে ঘুম ভাঙ্গত এই এলাকার মানুষের ।
তাঁতিরা সারাদিন বাহারী রঙ্গের গামছা,লুঙ্গী, শাড়ী তৈরীতে ব্যাস্ত থাকতেন
গ্রামের গৃহবধূরা । আর কাজের ফঁকে হাটে হাটে পাশরা সাজিয়ে সে
সব গামছা,লুঙ্গি,শাড়ী বিক্রয় করতেন গ্রামের অধিকাংশ পুরুষেরা । সে
সময় ওয়ালিয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী তাঁতের তৈরী কাপড় কিনতে আসতেন
বাইরের ব্যবসায়ীরাও কিন্তু এখন এসব শুধু গল্প বা কেচ্ছা কাহিনীর মত মনে
হয়। জানাগেছে, ওয়ালিয়া পশ্চিম কারীগর পাড়ায় এখন মাত্র ১০/১২ টি
পরিবারে তাঁত রয়েছে। এর সাথে জরিত তাঁত শিল্পীরাও এখন পুজির অভাবে
খাবি খাচ্ছে । এদের অনেকেই মাহজনের ফাঁদে পা দিয়ে কোন রকমে
দিনাতিপাত করছে । লাভের অধিকাংশই চলে যাচ্ছে মাহাজনের পকেটে । তাঁত
শিল্পী মঞ্জুয়ারা বেগম জানান, গামছা বুনানোর জন্য একটি তানায়
২০মুড়া সুতা থাকে তাতে ১৭২ টি গামছা তৈরী করা যায় । যা মাহাজনদের
নিকট থেকে ২৫০০-২৭০০ টাকায় কিনতে হয় । আর এই ১৭২ টি গামছা
বুনানোর জন্য লাল,সবুজ,সাদা,কালো,গ্রীন গোলাপী রংএর মোট ৩৭
মোড়া সুতা প্রয়োজন হয়। যার প্রতি মোড়া গ্রীন কালার সুতা
৮০টাকা, লাল,হলুদ,সাদা,কালো রংএর সুতা ৭০টাকা। এই তানায় ১৭২ টি
গামছা বুনতে সময় লাগে ৩০-৪০দিন । এই প্রতি পিছ গামছা পায়কারী
বিক্রয় হয় ৫০টাকা । খুচরা বিক্রয় হয় ৬০-৬৫টাকা যার মাধ্যমে প্রতি ১৭২
টা গামছা একটি তানা বুনে আয় হয় মাত্র১০০০/১২০০টাকা ।