বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০, ০৩:২৭ অপরাহ্ন

ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিতে , দর কমছে দেশে

অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এই খবরে বাংলাদেশের পাইকারি বাজারে কমে গেছে পণ্যটির দাম। তিন দিন আগেও পাইকারি বাজারে দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজের দর কেজি ৮০ টাকার আশপাশে ছিল, গতকাল বৃহস্পতিবার তা ৫৫ টাকায় নামে। একইভাবে কমেছে অন্যান্য পেঁয়াজের দামও।

ভারত রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে বাজারে দাম কমে যাওয়া এবং ভালো ফলন হওয়ায়। দেশটির খাদ্য ও ভোক্তাবিষয়ক মন্ত্রী রাম বিলাস পাসওয়ান গত বুধবার এ কথা জানান। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যমগুলো বলছে, আগামী মার্চে দেশটিতে ৪০ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে; যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ লাখ টনের মতো বেশি। দাম কমে যাওয়ায় পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি উঠছিল।

নিজেদের বাজার সামাল দিতে ভারত গত ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে। এরপরই বাংলাদেশের বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়তে থাকে। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের মানুষকে অত্যন্ত চড়া দামে পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে। একসময় দেশি পেঁয়াজের কেজি ২৫০ টাকায় ওঠে, যা স্মরণকালের মধ্যে সর্বোচ্চ।

গতকাল ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১২০ টাকা ও তুরস্কের পেঁয়াজ ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত বছরের এ সময়ের তুলনায় পেঁয়াজের দাম এখন ২৭৮ শতাংশ বেশি।

পাইকারি বাজারে ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তোলার সিদ্ধান্তের খবর আসে গতকাল সকালে। এরপরই দাম কমতে শুরু করে। খুচরা বাজারে এর প্রভাব অবশ্য ততটা পড়েনি।

পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের পাইকারি দোকান নবীন ট্রেডার্সের মালিক নারায়ণ চন্দ্র সাহা প্রথম আলোকে বলেন, নতুন মৌসুমের হালি পেঁয়াজ কয়েক দিন পরেই পুরোদমে উঠতে শুরু করবে। এখন ভারতীয় পেঁয়াজ এলে দাম একেবারে কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। এতে কৃষক আর ভালো দাম পাবেন না।

অবশ্য কারওয়ান বাজারের দুজন পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, দাম কমাটাও দরকার। মানুষ যাতে কিনতে পারে। আবার এমনভাবে কমা উচিত নয়, যাতে কৃষক ব্যাপক লোকসান দেন।

ব্যবসায়ীদের হিসাবে, দেশে বছরে যে পরিমাণ পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে, তার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানি করতে হয়। সিংহভাগই আসে ভারত থেকে।

দেশে গত ডিসেম্বর থেকে আগাম মুড়িকাটা পেঁয়াজ উঠছে। এটি সংরক্ষণ করা যায় না। হালি পেঁয়াজ বীজ থেকে হয়, যা সারা বছর ঘরে রাখেন কৃষকেরা।

এখন কৃষকদের সুরক্ষা দিতে সরকার কি আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে, জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব মো. জাফর উদ্দীন বলেন, ‘আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার খবরটি পাইনি। পাওয়ার পর সরকারের উচ্চ মহল বিষয়টি পর্যালোচনা করবে।’

এদিকে ঢাকার বাজারে দেশি নতুন রসুনের দাম কমেছে। ১৫০ টাকার রসুন এখন ১২০ টাকার মধ্যে পাচ্ছেন ক্রেতারা। আদার দামও কেজিতে ২০ টাকার মতো কমেছে। বড় বাজারে আদা পাওয়া যাচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে। অন্যান্য পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য হেরফের হয়নি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 banglarprotidin
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451