অনলাইন ডেস্কঃ-
১০ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন পেয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবর। সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম কেশব রায় তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।
মামলায় পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করার আগ পর্যন্ত তার এ জামিন বহাল থাকবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারের পর সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবরকে কারাগারে পাঠানো হয় গত বুধবার।
এর আগে গত সোমবার আসিফের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা করেন গীতিকার, সুরকার ও গায়ক শফিক তুহিন। তার অভিযোগ- তার রচিত শতাধিক গান ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তর করে মোবাইল ফোনের কনটেন্ট হিসেবে বিক্রি করেছেন আসিফ। এর প্রতিবাদ করায় ফেসবুকে তাকে হুমকিও দেন আসামি। মামলায় আসিফ ছাড়াও আসামি করা হয় অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার থেকে পাঁচজনকে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, সিআইডি তদন্ত করছিল মামলাটি। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে মঙ্গলবার রাতে আসিফকে মগবাজার এলাকায় তার প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রেফতার করা হয়।
শফিক তুহিন তার মামলায় অভিযোগ করেছেন, গত ১ জুন রাত ৯টার দিকে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ‘সার্চলাইট’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসিফ অনুমতি ছাড়াই তার সঙ্গীতকর্মসহ অন্য গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীদের ৬১৭টি গান অনুমতি ছাড়াই সবার অজান্তে বিক্রি করেছেন। পরে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, আসিফ তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আর্ব এন্টারটেইনমেন্টের চেয়ারম্যান হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গানগুলো ডিজিটাল রূপান্তর করে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন প্রতারণার মাধ্যমে।
শফিক তুহিন বলেছেন, ঘটনা জানার পর তিনি ২ জুন রাতে অনুমোদন ছাড়া গান বিক্রির বিষয়টি উল্লেখ করে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেন। সেই পোস্টের নিচে আসিফ অশালীন মন্তব্য করেন এবং হুমকি দেন। পরের দিন রাত ১০টার দিকে আসিফ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে তার (শফিক তুহিন) বিরুদ্ধে অবমাননাকর, অশালীন ও মিথ্যা বক্তব্য দেন। আসিফ লাইভে শফিক তুহিনকে শায়েস্তা করবেন বলে হুমকি দেন। পাশাপাশি ভক্তদের উদ্দেশে বলেন, শফিক তুহিনকে যেখানেই পাবেন, সেখানেই প্রতিহত করবেন। আসিফের এ বক্তব্যের পর তার ভক্তরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাদীকে হত্যার হুমকি দেন।
অবশ্য ২ জুন রাতে ফেসবুক লাইভে আসিফ দাবি করেন, জালিয়াতি করে অন্যের গান বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার যে অভিযোগ শফিক তুহিনসহ কয়েকজন শিল্পী করেছেন, তা পুরোপুরি মিথ্যা। এই শিল্পীর দাবি, তিনি আট বছর গান থেকে দূরে ছিলেন এবং আবার ফিরে এসে ‘চুটিয়ে’ কাজ করছেন। এটাই সবার মাথাব্যথার কারণ।
২০০১ সালে আসিফের প্রথম অ্যালবাম ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ প্রকাশিত হয়। ওই অ্যালবামের গানগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পায়। পাশাপাশি বেশ কিছু সিনেমার গানেও কণ্ঠ দিয়ে জনপ্রিয়তা পান। একপর্যায়ে গান গাওয়ায় অনিয়মিত হলেও সঙ্গীত প্রযোজনায় নাম লেখান। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়ান আসিফ। নির্বাহী কমিটির সদস্যও হন তিনি। পরে পদত্যাগ করেন সেখান থেকে। তবে তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি বলে জানায় বিএনপির একটি সূত্র।
গীতিকার হিসেবে শফিক তুহিনের পরিচিতি থাকলেও একাধারে তিনি সুরকার ও গায়ক। তার প্রথম গান ‘এর বেশি ভালোবাসা যায় না, ও আমার প্রাণপাখি ময়না’ দিয়েই আলোচনায় আসেন। ২০১১ সালে জিতে নেন সেরা গীতিকারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
দ্বন্দ্বের শুরু যেভাবে: আসিফ আকবর ও শফিক তুহিন দু’জনেই বাংলা গানের জনপ্রিয় শিল্পী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের পোস্ট দেখে এটা স্পষ্ট- কিছুদিন ধরেই মনোমালিন্য চলছিল তাদের মধ্যে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার হয়। সেখানে বলা হয়- মেধাস্বত্ব আইনের তোয়াক্কা না করেই গীতিকার ও সুরকারদের বঞ্চিত করে গান বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। আসিফকে অভিযুক্ত করা হয় সেখানে। অনুষ্ঠানটি প্রচার হওয়ার পর গায়ক শফিক তুহিন তার ফেসবুক পাতায় লিখেছিলেনচ্ গান তুমি কার? দেখুন, কীভাবে মেধাস্বত্ব চুরি করে শিল্পীদের ফকির বানিয়ে একদল সঙ্গীত-দুর্বৃত্ত সম্পদের পাহাড় গড়েছে। ফেসবুক পেজে শফিক তুহিন কিছু কাগজপত্র দিয়ে স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে গান বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি ভালোভাবে নেননি আসিফ আকবর। তিনি স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে শফিক তুহিন ফেসবুকে অভিযোগ করেন- অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন আসিফ।