গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জ জেনারেল
হাসপাতালে চিকিৎসক স্বল্পতার কারনে চিকিৎসা সেবা
পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে গ্রাম থেকে আসা
সাধারন মানুষ। হাসপাতালে বিভিন্ন বিভাগে
চিকিৎসকের ৬১টি পদ অনুমোদিত থাকলেও এর মধ্যে
২৫টি পদই রয়েছে শূন্য। ফলে বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা
সাধারন জনগন হাসপাতাল থেকে প্রত্যাশিত চিকিৎসা
সেবা পাচ্ছে না।
গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়,
হাসপাতালে মোট ১৩টি বিভাগ রয়েছে। বিভাগ গুলো
হলো, সার্জারী, মেডিসিন, গাইনী, শিশু,
এ্যানেসথেসিয়া, কার্ডিও, অর্থো সার্জারী, যৌন ও
চর্ম, চক্ষু, ইএনটি, রেডিওলোজি, ডেন্টাল ও প্যাথলজি
বিভাগ। এর মধ্যে সার্জারী বিভাগে সিনিয়র
কনসালটেন্ট পদ একটি, মেডিসিন বিভাগে সিনিয়র
কনসালটেন্ট, শিশু বিভাগে সিনিয়র কনসালটেন্ট,
এ্যানেসথেসিয়া বিভাগে একজন সিনিয়র কনসালটেন্ট
ও এনসথেটিষ্টের দু’টি পদ, কার্ডিও বিভাগে সিনিয়র
কনসালটেন্ট, চক্ষু বিভাগে জুনিয়র কনসালটেন্ট,
ইএনটি বিভাগে সিনিয়র কনসালটেন্টের একটি ও
জুনিয়র কনসালটেন্টের একটি পদ, রেডিওলজিষ্ট পদ একটি,
প্যাথোলজিষ্ট একটি ,আবাসিক সার্জন পদ একটি,
আবাসিক ফিজিশিয়ান একটি, মেডিকেল অফিসার
৫টি, মেডিকেল অফিসার (বিষয় ভিত্তিক) দু’টি ও
সহকারী সার্জনের চারটি পদ শুণ্য রয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে এ
সব পদ শূন্য থাকায় ওই সকল বিভাগে যথাযথ চিকিৎসা
সেবা পাচ্ছেন না গ্রাম থেকে আসা সাধারন রোগীরা।
এছাড়াও গোপালগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী খুলনা জেলার তেরখাদা,
নড়াইল জেলার কালিয়া, নড়াগাতী, বাগেরহাটে জেলার
মোল্লাহাট, চিতলমারী ও পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর
এলাকা থেকে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা অসংখ্য
মানুষ চিকিৎসা সেবা নিতে পারছে না। সকাল থেকে
হাসপাতালের বহিঃর্বিভাগে লম্বা লাইনে দাড়িয়ে থেকেও
চিকিৎসা না পেয়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে।
হাসপাতালের বহিঃর্বিভাগের ১১০ কক্ষের সামনে লাইনে
দাড়িয়ে থাকা বাগেরহাট জেলার চিতলমারীর বড়গুনি থেকে
চিকিৎসা নিতে আসা শিরীনা বেগম (৫০) বলেন, আমার
মেয়ে অসহ্যনীয় পেটের ব্যাথায় ভুগছে। তাকে নিয়ে
রোববার সকাল ১০টা থেকে লাইনে দাড়িয়ে আছি। দুপুর
গড়িয়ে গেছে। এখনও ডাক্তার দেখাতে পারিনি। কখন
ডাক্তারের দেখা পাবো জানিনা। আমি আমার মেয়েকে
নিযে খুবই দুঃশ্চিন্তায় আছি।
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার তিলছাড়া গ্রামের
কলেজ শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান (২০) বলেন, কানের সমস্যা
নিয়ে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলাম। অনেকক্ষন ধরে লাইনে
দাড়িয়ে থেকেও ডাক্তার না দেখিয়ে ফিরে যাচ্ছি। তিনি
আরো বলেন রোগীর প্রচুর চাপ থাকায় ডাক্তার সামাল দিতে
পারছিলেন না। কোন রকমে রোগী দেখে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।
এখানে কোন ভাল চিকিৎসা পাবো না তাই ভেবে ডাক্তার
না দেখিয়েই চলে যাচ্ছি।
গোপালগঞ্জের পাটকেলবাড়ী এলাকার গৃহবধূ সাথী রানী
অভিযোগ করে বলেন, আমার একমাত্র মেয়ে রুপা (২) বেশ
কিছু দিন ধরে অসুস্থ। ওর শরীরের জ্বর কমছেই না। মেয়ের
চিন্তায় আমি সব কিছু ছেড়ে দিয়েছি। হাসপাতালে বড়
ডাক্তার দেখানোর জন্য এসেছি। সকাল ৯টা থেকে অপেক্ষা
করছি। এখন বেলা সাড়ে ১২টা বাজে। এখনও ডাক্তার দেখাতে
পারিনি। আদৌ ডাক্তার দেখাতে পারবো কিনা, তাও বুঝতে
পারছি না।
রাজনৈতিক ও উন্নয়ন কর্মী ইলিয়াস হকের সাথে এ
বিষয়ে কথা হলে তিনি তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন,
বর্তমানে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায়। এ সময়
গোপালগঞ্জের মানুষ হাসপাতালে এসে চিকিৎসা সেবা
পায় না বা ডাক্তার খুজে পাওয়া যায় না এ সব কথায় আমরা
হতাশ হই। এ ব্যপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেয়া
উচিত।
গোপালগঞ্জ আড়াই’শ শয্যা হাসপাতালের সহকারী পরিচালক
ডাঃ ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী সমস্যার কথা স্বীকার করে
বলেন, হাসপাতালের ১৩টি বিভাগে ৬১ জন চিকিৎসক
থাকার কথা। এরমধ্যে বর্তমানে ২৫টি পদই খালি আছে।
এছাড়ও নার্সসহ অন্যান্য জনবলেরও যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।
এ জন্য আপাততঃ চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থায় কিছুটা
সমস্যা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, গোপালগঞ্জ জেনারেল
হাসপাতালে নার্সের ১৭৯টি পদ থাকলেও বর্তমানে
নার্সের সংখ্যা রয়েছে ১৪৬ জন আর পদ ফাঁকা রয়েছে
৩৩টি। এছাড়াও সহকারি নার্সের ৫টি পদ থাকলেও রয়েছে
মাত্র ২ জন বাকি ৩টি পদ রয়েছে ফাঁকা। তা ছাড়াও সেবা
তত্বাবধায়কের ১টি পদ থাকলেও তা রয়েছে ফাঁকা। উপ সেবা
তত্বাবধায়কের পদ রয়েছে ১টি তাও আবার ফাঁকা। নার্সিং
সুপারের ৩টি পদ রয়েছে সেখানে ২ জন থাকলেও ১টি পদ
রয়েছে ফাঁকা। স্টাফ নার্সের ১১টি পদ থাকলে রয়েছে মাত্র ৯
জন বাকি ২টি পদ রয়েছে ফাঁকা।
এছাড়াও গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে অনেক পদ রয়েছে
ফাঁকা সে গুলি হল, প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদ ১টি,
পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পদ ১টি, মেডিকেল টেকনিশিয়ান
(ল্যাব) পদ ১টি, মেডিকেল টেকনিশিয়ান (ফিজিও) পদ
১টি, মেডিকেল টেকনিশিয়ান (বøাড ব্যাংক) পদ ১টি,
মেডিকেল টেকনিশিয়ান (বায়োকেমিষ্ট) পদ ১টি,
মেডিকেল টেকনিশিয়ান (ফার্মা) পদ ১টি, হেলথ
এডুকেটর পদ ১টি, কার্ডিও গ্রাফার পদ ১টি, জমাদ্দার বা
সরদার পদ ১টি ও সুইপারের ৩টি পদ রয়েছে ফাঁকা।
দ্রæত ওই ফাঁকা পদগুলি পুরন করে গোপালগঞ্জ জেনারেল
হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান আরো উন্নত করার জন্য
প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রীসহ উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কাছে
জোর দাবী জানিয়েছে সাধারন মানুষসহ অভিজ্ঞ মহল।