মোঃ আশিকুর রহমান টুটুল, নাটোর জেলা প্রতিনিধি,
নাটোরের লালপুর উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু মাত্র একজন
আবাসিক মেডিকেল অফিসার দিয়েই চলছে চিকিৎসা সেবা। গত দুই মাস যাবত এই
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন মেডিকেল অফিসার নেই। মোট ১১ জন ডাক্তারের মধ্যে সেবা
দিচ্ছে মাত্র একজন (আরএমও) ডাক্তার। হাসপাতালটির জরুরী বিভাগে রোগী থাকলেও কোন
ডাক্তার না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা।
বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার প্রায় ৩ লক্ষ অতি দরিদ্র ও পিছিয়ে
পড়া এই বিশাল জনগষ্ঠির একটি মাত্র হাসপাতাল, যেখানে প্রয়োজনীয় রোগীদের সেবা
দিচ্ছেন একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রাজ্জাক। কথাটি শুনতে
হাস্যকর হলেও সত্য। হাসপাতালের নিয়োগপ্রাপ্ত ৭ জন মেডিকেল অফিারের ৬ জন ডাক্তারই
আসছেনা হাসপাতলটিতে। যার কারনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে অধিক টাকা
ব্যায়ে এই দরিদ্র অঞ্চলের রোগীদের ধরনা দিতে হচ্ছে রাজশাহী ও নাটোরে বিভিন্ন
হাসপাতালে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এই হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার ও সমমানের পোস্ট
রয়েছে ১১ টি যার দুইজন কর্মরত রয়েছে, বাঁকি ৯টি পোস্টই শূন্য রয়েছে। এই
দুইজনের একজন (ডা. মুজিবুল হক সবুজ ) ফাউন্ডেশনের ট্রেনিংএ বগুড়াই রয়েছেন।
এখন শুধুমাত্র (আরএমও) আব্দুর রাজ্জাক এর মাধ্যমেই চলছে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা।
এছাড়াও নিয়োগ দেওয়া (ডা. উদয় কুমার, ডা. পলাশ কুমার শাহ, ডা. আতিয়ার
চৌধুরী) মেডিকেল অফিসারা সংযুক্তিতে ঢাকায় কাজ করছে। কিন্তু বেতন ভাতা তুলছে
এই হাসপাতালের নামে। যাতে করে কাঙ্খিত চিকিৎসা হতে বঞ্চত হচ্ছে লালপুরের প্রায় ৩
লক্ষ জনসাধারণ। হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ৫০ শয্যার এই
হাসপাতালে প্রতি নিয়োত প্রায় ২৫-৩০ জন রোগী ভর্তি হয়। যদিও হাসপাতালে ৫০
শয্যার তার পরেও সব সময় হাসপাতালে ৬০-৭০ জন রোগী ভর্তি থাকে। যা দের সেবা দেওয়ার
জন্য প্রয়োজন ১১ জন জন মেডিকেল অফিসার সেখানে ৭জন নিয়োগ থাকলেও তার
একজন ডা. মুজিবুল হক সবুজ ফাউন্ডেশননের ট্রেনিং ও অপরজন ডা. হাফিজ ইকবাল
কোর্সে রয়েছেন। এছাড়াও বাঁকি ৩ জন (ডা. উদয় কুমার, ডা. পলাশ কুমার শাহ, ডা.
আতিয়ার চৌধুরী) সংযুক্তিতে ঢাকায় কাজ করছেন। কিন্তু তাদের বেত ভাতা
নিয়োমিতো এই হাসপাতালের নামেই উত্তোলন করছে। প্রয়োজনীয় ডাক্তার না থাকায়
হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা বর্তমানে ভেঙ্গে পড়েছে। হাসপাতালে যে পরিমান রোগী
ভর্তি রয়েছে তাদের চিকিৎসা সেবা আমার একার পক্ষে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তার পরেও
হাসপাতালে আগত প্রতিনিয়োত রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দিতে
বাধ্য হচ্ছি। এই হাসপাতালে রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অতিসপ্তর
ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া প্রযোজন। এদিকে হাসপাতলের ভিতরে গিয়ে দেখা যায়, বেডে
রোগীরা শুয়ে আছে নেই কোন ডাক্তার। এসময় বেডে শুয়ে থাকা উপজেলার বালিতিতা
গ্রামের শাহিনা খাতুন, মারিয়া, সাজদার সহ অনেক রোগীদের সঙ্গে কথা বললে তারা
বলেন, এই হাসপাতালে শুধু একজন ডাক্তার আছে। যে দিনে এক থেকে দুইবার ভিজিট
করে। আমরা অত্যান্ত গরীব মানুষ তাই এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছি। তবে
মাঝে মধ্যে এক জন নার্স এসে খোজ খবর নেই। ডাক্তার না থাকার কারনে আমরা কাঙ্খিত
চিকিৎসা পাচ্ছিনা।
এব্যাপারে লালপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনর রশিদ পাপ্পু বলেন, উপজেলায় একটি মাত্র
হাসপাতাল তাতে প্রয়োজনীয় ডাক্তার না থাকায় এই অঞ্চলের অসহায় জনগন চিকিৎসা
সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছে। অতি সল্প সময়ের মধ্যে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ডাক্তার
নিয়োগের মাধ্যে এই অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসার সমস্যর সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট
কর্তিপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।###