সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
নাটোরের সিংড়ার চলনবিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের চারতলা ভবন নির্মাণ কাজের
অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভবন নির্মাণের জন্য আনা ইট, সুরকি ও
স্যানিটেরী এবং পানি সরবরাহের কাজে ফিটিংগুলো নি¤œমানের ব্যবহার করা
হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মহিউদ্দিন টিপু।
সূত্রে জানা যায়, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বে-
সরকারি কলেজ সমূহ উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সিংড়ার প্রাণকেন্দ্রে
অবস্থিত চলনবিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের চারতলা ভবনের নির্মাণ কাজ করছেন
পাবনার প্রভাষ ভদ্র ও আশরাফুল ইসলাম নামের দুই ঠিকাদার। যার চুক্তি মূল্য ধরা
হয়েছে ২কোটি ২৬লাখ ৭৭হাজার টাকা। কিন্তু সম্প্রতি কলেজের নতুন ভবনের
নিচতলায় স্যানিটেশন ও পানি সরবরাহের কাজে
নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কলেজের অধ্যক্ষ। এর পরও
রোববার বিকেলে সরোজমিনে কলেজে গিয়ে দেখা যায় নিচতলায় স্যানিটেরী ও
পানির কাজে নি¤œ মানের পাইপ ও ফিটিং ব্যবহার করা হচ্ছে। এসময় সেখানে
সাংবাদিকদের দেখে কর্মরত শ্রমিকরা তড়িঘড়ি করে পাইপ ঢেকে দেয়ার চেষ্টা
করে। পরে চতুর্থ তলায় গিয়ে দেখা যায় নি¤œমানের ইট দিয়ে ভবনের কাজ করা
হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে কাজে নিয়োজিত সিদ্দিক ও আজাদ
আলী বলেন, এখন ১হাজার ইট কিনলেই ভাটা থেকেই নি¤œমানের মিশ্রিত
কিছু ইট মিশ্রিত করে দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এবিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশলীর
কর্মকর্তাদের অবগত করা হলে তারা সরোজমিনে এসে কাজ পরিদর্শন করে
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নি¤œমানের মালামাল ফেরত নিতে বলেছেন। কিন্তু
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সেদিকে কর্ণপাত না করে ইচ্ছে মতো কাজ
চালিয়ে যাচ্ছে। সচেতন মহল মনে করেন, এভাবে স্কুল ও কলেজের ভবন নির্মাণ করা
হলে যে কোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। আরও অভিযোগ রয়েছে, ইতিমধ্যে
শিক্ষা প্রকৌশলীর কর্মকর্তাদের যোগ সাজসে ভবন নির্মাণের বেশির ভাগ বিল
উত্তোলন করা হয়েছে।
ঠিকাদার আশরাফুল ইসলাম বলেন, স্যানিটেরী বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারের
সাথে কথা বলেন। অন্য ঠিকাদার প্রভাশ ভদ্র বলেন, অনেক ইটের মধ্যে কিছুটা
সমস্যা থাকতে পারে তবে সেগুলো খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা করবেন।
চলনবিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মহিউদ্দিন টিপু বলেন,
স্যানিটেরী বিষয়ে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার দেখে তিনি ভবনের কাজ
তদারককারী সদস্যদের কাছে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি এখন কমিটির লোকজন
ভালো বলতে পারবে।
নাটোরের শিক্ষা প্রকৌশলী ফারুকুজ্জামান বলেন, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে
ব্যবস্থা নিবেন।
উল্লেখ্য সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকের মাধ্যমে সিংড়া
দমদমা পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের নির্মাণ কাজে দুর্নীতির অভিযোগ পেয়ে হাতে
নাতে তা ধরেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলক।
আর কোথাও দুর্নীতির প্রমাণ পেলে রুখে দাঁড়ানোর আহ্ধসঢ়;বানও জানান তিনি।
তিনি ফেসবুকে লেখেন, ‘নাগরিকের সচেতন এবং সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে
টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে। উপজেলার যেকোন প্রান্তে দেশরতœ শেখ
হাসিনার উন্নয়ন কর্মকা-ে কোন ধরণের অনিয়ম লক্ষ্য করলে অবহেলা না করে
প্রতিবাদ করুন।’ পরে অনেকেই প্রতিমন্ত্রীর এমন উদ্যোগের প্রশংসা
করেন।