গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া
থানাধীন শ্রীরামকান্দি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত
আবদুল হাই শিকদারের নিজ ক্রয় কৃত সম্পত্তি জোর
পূর্বক দখলের অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে।
এ ব্যাপারে মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই শিকদারের স্ত্রী
মরিয়ম বেগম সাংবাদিকদের জানান, আমার স্বামী ১৯৭৪
সালে শ্রীরামকান্দি ১৪২ নং বাশুরিয়া মৌজায় ৪৯৫/৫
দাগে ৪ বিঘা জমি ক্রয় করে ছিলেন জমি ক্রয়ের পর থেকে এ
প্রর্যন্ত আমার পরিবার প্রায় ৪২ বছর যাবত ভোগ দখল
করছে। ২০১৫ সালে মাঠ জরিপে হাল রের্কড আমার ছেলে
মেয়েদের নামে হয় কিন্তু ২০০৮ সালে আমার ছোট ছেলে
মিরান জমির রাস্তার পাশে গাছ লাগাতে যায় তখন হঠাৎ
একই এলাকার সন্ত্রাসী ও আতœস্বীকৃত ভূমিদস্যু
বোরহান শেখ, আছাদ শেখ ও তার ভাইয়েরা মিলে আমার ছেলে
মিরান কে মারধর করে এবং বলে এ জমি আমাদের। তখন আমার
ছেলে নিরুপায় হয়ে আদালতের আশ্রয় নেয়।
তিনি আরো বলেন, আমাদের কাগজ পত্র প্রমানাদি সাপেক্ষে
২৪-০৫- ২০১৫ ইং তারিখে টুঙ্গিপাড়া দেওয়ানী আদালত
আমাদের পক্ষে রায় প্রদান করে। তারপর এই চিহ্নিত
ভুমিদস্যুরা বোরহান শেখ, আছাদ শেখ ও তাদের মদদ দাতাদের
উসকানিতে একের পর এক মামলা দিয়ে আসছে
মামলাবাজরা। এমনকি আমার ছেলেদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে
জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকি দিতেছে।
সম্প্রতি ৪ মে ২০১৬ ইং রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার
দিকে নিজের মাথা নিজে কেটে গোপালগঞ্জ সদর
হাসপাতালে ভর্তি হয়। থানায় গিয়ে মামলা করতে গেলে
এই মামলাবাজদের মিথ্যা মামলা গ্রহন করে না। তখন এই
ভুমিদস্যু মামলাবাজরা বিভিন্ন ধারা দিয়ে আদালতে
মামলা করে। আদালত তখন তদন্ত পূর্বক এফ আই আর করার
অনুমতি দেয়।
তিনি আরো বলেন, এই বোরহান শেখ, আছাদ শেখ জাল
কাগজ পত্র তৈরী করে অনেক নিরীহ হিন্দু, মুসলমানদের জমিও
দখল করেছে। অনেক হিন্দু পরিবার তাদের জীবন রক্ষার্থে ভারতে
চলে গেছে। আমার বয়স ৭৫ বৎসরের উপরে। আমার ছেলের
বউরা ভয়ে আতঙ্কে তাদের বাবার বাড়ী বসবাস করছে। আমার
মেজো ছেলে মিজান সিকদার বর্তমানে বাগেরহাট জেলার
এস আই তার নামেও আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।
আমার ছোট ছেলে মিরান সিকদার আমার দেখা শুনা করে
তাকে মারধর ও প্রান নাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি এই বয়সে
আমার ছেলেদের ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে আশংকায় আছি। এক
দিকে থানায় হয়রানী অন্যদিকে ওরা আমার ছেলেদের
প্রাননাশের হুমকি দিচ্ছে। আমার স্বামী মৃত আবদুল হাই
শিকদার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসর প্রাপ্ত পুলিশ সদস্য
তাছাড়া ও আমার স্বামীর আরো ৩ ভাই তারা সবাই
মুক্তিযোদ্ধা। বাংলাদেশ সরকার আমার স্বামীকে মুক্তিযোদ্ধার
যে সম্মানী ভাতা দেন সে টাকা মামলা মোকাদ্দমার পিছে
ব্যায় হয়ে যায় যার প্রভাব আমার পরিবারের উপর পড়েছে।
তিনি আরো জনান আমি গত ২৬-০৫- ১৬ তারিখে
প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি আবেদন করি তার
পরিপ্রেক্ষিতে ভুমিদস্যু বাহিনি আমার পরিবারের নামে
আরো হয়রানি মূলক মামলা দায়ের করে। এমতোবস্থায় আমি
ভীষণ ভাবে ভেঙ্গে পরেছি ও দু:খ কস্ট ভয়ভীতির মধ্য দিয়ে জীবন
যাপন করছি। আমি এবং আমার পরিবার প্রধানমন্ত্রী ও
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।