গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জ-মাওয়া মহাসড়কেও
চলছে পরিবহন ধর্মঘট। দেশব্যাপী ডাকা অনির্দিষ্টকালের
পরিবহন ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে গোপালগঞ্জ-মাওয়া
মহাসড়কেও। যানবাহন সঙ্কটে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে
মহাসড়ক।
সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক
মিশুক মনিরসহ ৫ জন নিহতের মামলায় বাস চালক জামির
হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায়ের প্রতিবাদে মঙ্গলবার
ভোর থেকে শুরু হয় এ ধর্মঘট।
ধর্মঘটের কারণে ভোরে গোপালগঞ্জ থেকে দূরপাল্লার
কোনো বাস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি। হরিদাশপুর,
বৌলতলী, চন্দ্রদিঘলিয় ও পুলিশ লইন মোড় এলাকায় ট্রাক,
লেগুনা, ইজিবাইক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গোপালগঞ্জ-
ঢাকা মহাসড়কে বাস চলাচল নেই বললেই চলে। যে কোন
ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ গোপালগঞ্জ-ঢাকা
মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছে। গোপালগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়কে
লেগুনা, ইজিবাইক, নছিমন, করিমন চললেও তা খুব কম।
অন্যদিকে গোপালগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ
থাকায় বিপাকে পড়েছে এই রুটের যাত্রীরা। পরিবার-পরিজন
নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছে শতাধিক যাত্রী। নির্দিষ্ট সময়ের
মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন
অনেক যাত্রী।
পরিবহন ধর্মঘটে গোপালগঞ্জ স্থবির হয়ে পড়েছে। ঢাকা-
খুলনা-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের গোপালগঞ্জ এলাকার প্রায়
৮০ কিলোমিটার রাস্তা ছাড়াও অভ্যন্তরীন রাস্তায় কোন
যানবাহন চলছে না। গোপালগঞ্জ বাস টার্মিনালের দুই
দিকের মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের দীর্ঘ লাইন। অসংখ্য মাল
বোঝাই ট্রাক আটকে আছে। মহাসড়কে ভ্যান,
ইজিবাইক, নছিমন, করিমনসহ সব ধরনের যানবাহন
চলাচলে পরিবহন শ্রমিকরা লাঠি হাতে বাঁধা দিচ্ছে।
গোপালগঞ্জ থেকে মঙ্গলবার ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম,
ফরিদপুর, রংপুর, কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে কোন বাস ছেড়ে
যায়নি। যাত্রীরা অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সোমবার বিকেলে ও রাতে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করার
পর গোপালগঞ্জ থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যানবাহন ছেড়ে
যায়। কিন্তু মঙ্গলবার সারা দেশে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হলে
আবার অচলাবস্থার সৃস্টি হয়।