বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে কোনো পশু সংকট নেই – সাভারে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ সাভার ও আশুলিয়ায় অপরিকল্পিত বাসা বাড়িতে বসবাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জনগণ প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকার-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী   কুমিল্লার নাগরিক সেবায় নতুন অধ্যায়: গঠিত হচ্ছে ওয়াসা ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে ছোট পাইপ স্থাপনের অভিযোগ আশুলিয়ার জামগড়া ইস্টার্ন হাউজিং বাজারে জলাবদ্ধতায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির, ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ গৃহবধূ হত্যা মামলার আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার! আশুলিয়ার বাইপাইল- ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং কতৃক অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র অপহরণের পর হত্যা: ২০ মাস পর লাশ উত্তোলন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

গলদা চিংড়ির দরপতনে  বাগেরহাটে হাজারো চিংড়ি চাষি দিশেহারা

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০১৭
  • ৩১০ বার পড়া হয়েছে

   এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট  :  গলদা চিংড়ির দাম কমে
যাওয়ায় চিংড়ির ভান্ডারখ্যাত বাগেরহাটের  চিতলমারী উপজেলার  হাজারো চিংড়ি  চাষি  দিশে হারা হয়ে পড়েছেন। অধিক মূ                                                                                        
ল্যে মাছের পোনা ও খাবার ক্রয়  করে চিংড়ি বিক্রয়ের সময় দাম কম থাকায়
চাষিরা তাদের খরচের টাকাও ঘরে তুলতে পারছেন না। এ অবস্থায় এলাকার
চিংড়ি চাষিদের  মধ্যে  বিরাজ  করছে  চরম  হতাশা। গলদা চিংড়ি চাষের
উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন এলাকার হাজারো চাষি।সরেজমিনে চিতলমারী সদর
বাজার, বাখেরগঞ্জ বাজার, ডুমুরিয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার মৎস্য আড়ৎ,
চিংড়ির ডিপো ঘুরে দেখা গেছে, ছোট আকারের গলদা চিংড়ি প্রতি কেজি ৪শ
টাকা, মাঝারি ৬শ টাকা ও বড় আকারের চিংড়ি প্রতি কেজি ৭শ টাকা দরে
বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বিভিন্ন খোলা বাজারেও কম মূল্যে প্রচুর পরিমানে চিংড়ি
পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় দুই মাসের অধিক সময় ধরে চিংড়ির দাম কম থাকায় দেনার
দায়ে বাধ্য হয়ে চাষিরা নাম মাত্র মূল্য চিংড়ি বিক্রি করছেন।উপজেলা মৎস্য
অফিস সুত্রে জানা গেছে, বড়বাড়িয়া, কলাতলা, হিজলা, শিবপুর, চিতলমারী
সদর, চরবানিয়ারীসহ  ৭ ইউনিয়নে চলতি বছরে  ৬ হাজার ৮শ পনের হেক্টর
মৎস্য ঘেরে সাড়ে ৭ হাজার মৎস্য চাষি চিংড়ি ও সাদা মাছ চাষ করেন । গত
ডিসেম্বর পর্যন্তএ উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার মেট্রিকটন চিংড়ি উৎপাদিত হয়।
চিংড়ি চাষের সাথে প্রত্যক্ষ পরোক্ষ এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ জড়িত।

এলাকাবাসির  সাথে  কথা  বলে  জানা গেছে, উপজেলার অধিকাংশ  পরিবার
মৎস্য ঘেরে চিংড়ি  চাষের  উপর  নির্ভরশীল। গত বছর জুন মাসের  ভয়াবহ
বন্যা ও  ঝড়ে এলাকায়   প্রায় শতভাগ চিংড়ি চাষিরা  ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। এ ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আগেই গলদা চিংড়ির বড় ধরনের দর পতনে এলাকার হাজার হাজার চিংড়ি চাষির মাথায় হাত উঠেছে।  এখানকার  অধিকাংশ  চাষি  বিভিন্ন  ব্যাংক, এনজিও, দাদন ব্যবাসায়ী ও  সুদেকারবারিদের  কাছ থেকে অধিক  মুনাফায় টাকা  এনে বেশি দামে মাছের পোনা ও মাছের ফিড ক্রয় করে  চাষাবাদে  ব্যয়  করেছেন। এ পরিস্থিতিতে চিংড়ির বাজার মূল্য কমে যাওয়ায় তারা খরচের টাকাও ঘরে তুলতে পারছেন না।  দেনার  দায়ে  জর্জরিত  এসব  চাষিরা ঘুরে  দাঁড়ানোর  মতো কোন পথ  দেখছেন না। চরবানিয়ারী  ইউনিয়নের  শ্যামপাড়া  গ্রামের চিংড়ি  চাষি দিজেন গাইন, স্বপন মন্ডল, সুমন মীর, সদর ইউনিয়নের রায় গ্রামের বিনয় সিংহ, পারডুুমুরিয়া  গ্রামের লতিফ শেখ, কবির শেখ, হেমায়েত  সরদারসহ অনেকে হতাশা ব্যক্ত করে  জানান, বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও ও  সুদে কারবারিদের  কাছ থেকে অধিক  মুনাফায় টাকা এনে তারা  চিংড়ির চাষ করেছেন। কিন্তু চিংড়ির দাম কম থাকায় তারা উৎপাদন খরচও ঘরে তুলতে পারছেনা।     এ  ব্যাপারে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা গৌতম মন্ডল জানান, কিছু অসাধু চাষি গলদা চিংড়ির খাবার হিসেবে পোল্ট্রি ফিড ব্যবহার করায় স¤প্রতি গলদা চিংড়িতে এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে। ফলে আমদানীকারক দেশ দুটি চালান মাছ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কারনে মাছের দর পতন ঘটে। তাছাড়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারনেও মাছের বাজার দর কম রয়েছে।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451