তালা অফিস:
পুলিশের গ্রেপ্তার বাণিজ্যের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাতক্ষীরা তালা উপজেলার খলিলনগর
ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। এমনকি আতংকের মধ্যে আছে সংখ্যালঘু অনেক পরিবার। তথাকথিত
অভিযোগ এনে আটক করে অর্থ নিয়ে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে তাদের। খলিলনগর পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার
বিভিন্ন গ্রাম থেকে আটক করা হয় এসব সাধারণ মানুষকে। পরে মধ্যস্থতায়কারী তিন নেতাদের
মাধ্যমে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় তাদের। এভাবে চলছে তালার খলিলনগর পুলিশ ফাঁড়ির গ্রেপ্তার
বাণিজ্য।
এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২২ নভেম্বার) সকাল ১১ টার দিকে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার
কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে এলাকাবাসি। এসময় খলিলনগর পুলিশ ফাঁড়ির
ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কাদেরকে প্রত্যাহারের দাবী জানান তারা। পাশাপাশি
পুলিশের গ্রেপ্তার বাণিজ্যো বন্ধে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি খলিলনগর পুলিশ ফাঁড়িতে যোগদান করেন
এসআই আব্দুল কাদের। এরপর টাকার জন্য যেন মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। গত ৯ নভেম্বর খলিলনগর
ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিশ্বজিৎ মন্ডলকে আটক করেন তিনি। দুই ঘন্টা পর থানায় এনে দফারফা
করে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।
এছাড়া বাড়ির পাশে চায়ের দোকানে বসে কথা বলার সময়ে ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭ টার দিকে
দিপায়ন মন্ডলসহ সাতজনকে আটক করেন তিনি। পরে থানায় নিয়ে আসার সময় রাস্তা থেকে ১০
হাজার টাকা নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। দিপায়ন খলিলনগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম-
আহবায়ক।
আবার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে বৈঠক ঘর (গোল ঘর) সংষ্কারের নামে এলাকার সাধারণ মানুষ ও
ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে তিনি টাকা উত্তোলন করছেন। এছাড়া খলিলনগর ইউনিয়নের
মাছিয়াড়া, দাসকাটি, প্রসাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ
আটক করে বাণিজ্য করছেন তিনি।
মাছিয়াড়া গ্রামের দিপিকা সরদার ও শিবানি মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ আতংকে রাতের
ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আগে কখনও গ্রামে পুলিশ আসেনি। বাড়ির পাশে বা ঘেরের বাসায়
বসে কথা বললেও পুলিশ এসে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আবার টাকা নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে।
মাছিয়াড়া গ্রামের অঞ্জলি মন্ডল জানান, ১৯৭১ সালের পর থেকে তাদের পাড়ায় পুলিশ আসেনি।
সংখ্যালঘু পাড়ায় প্রথম পুলিশ এসে হয়রানি করছে। সাধারণ মানুষ ধরছে, আর টাকা নিয়ে
ছাড়ছে।
মাছিয়াড়া গ্রামের মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মোস্তফা গাজী জানান, পুলিশ ফাঁড়ির
সামনে গোল ঘর তৈরির নামে তার কাছে থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। ওই এলাকার
অনেক ঘের ব্যবসায়ীর কাছে থেকে দারোগা টাকা নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
খলিলনগর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিশ্বজিৎ মন্ডল আক্ষেপ করে বলেন, ১০ বছরের মেম্বরই জীবনে এমন
দারোগা দেখেনি। যে টাকা হলে সব পারে। আমার প্রতিপক্ষরা ষড়যন্ত্র করে তারে টাকা দিয়ে
আমাকে হয়রানি করেছে।
খলিলনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সরদার ইমান আলী
জানান, তিনি যোগদান করে -জামায়াতের কর্মীদের বাড়ি দাওয়া খেতে ব্যস্ত আছেন। তাদের
পরামর্শে সংখ্যালঘুসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের আটক করে হয়রানি করা হচ্ছে। তাদের
কাছে থেকে টাকাও নেওয়া হচ্ছে।
খলিলনগর ইউনিয়ন পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কাদের বলেন, আমি এলাকার
আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে যা করার করছি। কাউকে হয়রানি করেনি বা বাণিজ্যও হয়নি।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছগির মিঞা বলেন,‘বিক্ষোভ করাটা সঠিক হয়নি।
পুলিশ অন্যায় কোন কাজ করেনি।’