ঝালকাঠির রাজাপুর-কাঁঠালিয়া-আমুয়া
সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানখন্দ তৈরি হয়ে এবং কয়েক
স্থানে সড়ক ভেঙে খালে যাওয়ায় সড়ক সংকীর্ন হয়ে প্রায় আড়াই
মাস ধরে বাসসহ ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের
সাধারন মানুষ ঝুঁকি নিয়ে টেম্পো, নছিমন, করিমন,
আটোরিক্সা কিম্বা মটরসাইকেলে যাতায়াত করছে। এতে প্রায়শ
ঘটছে দুর্ঘটনা। অন্যদিকে পন্য পরিবহন বন্ধ থাকায় ব্যাবসায়ীরা
ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এসব এলাকার মানুষ। সড়ক নির্মান এবং
সংস্কারে নি¤œমানের উপকরন ব্যবহার করায় এ সমস্যার সৃষ্টি
হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। তবে সড়কটি সংস্কারের
কাজ হতে নেয়া হয়েছে বলে সড়ক ও জনপদ বিভাগ জানিয়েছে।
এছাড়া বাস না চলাচল বন্ধ থাকায় টেম্পো ও মোটরসাইকেল
চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার করার
অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, রাজাপুর-কাঁঠালিয়া-আমুয়া-
বামনা-পাথরঘাটা সড়কে প্রতিদিন দক্ষিনাঞ্চলের কয়েক হাজার যাত্রী
যাতায়ত করে এ সড়ক দিয়ে। এই সড়কের রাজাপুর-কাঠালিয়ার-
আমুয়া ৩৭ কি.মি. অংশে বিভিন্ন যায়গায় বড়বড় গর্ত ও
খানাখন্দক তৈরি হওয়াসহ কোথাও কোথাও ভেঙ্গে খালে পড়ে যাওয়ায়
সংকীর্ন হয়ে গেছে। ফলে দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে এ সড়কে
বাসসহ ভারী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে এ সব এলাকার মানুষকের
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া হয়ে ঘুর পথে যাত্রী ও পন্য পরিবহন করতে
হচ্ছে। যাতে অর্থ এবং সময়ের অপচয় হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, এ
সড়ক সংলগ্ন যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে টেম্পো, নছিমন, করিমন,
আটোরিক্সা কিম্বা মটরসাইকেলে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বাস না চলায় অতিকষ্টে টেম্পোতে
গাদাগাদি ও ঝুকি নিয়ে স্কুল কলেজে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ফলে
শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়য়ে ক্লাসে যেতে পারছেন না। বিপাকে
পড়েছেন চাকুরিজীবিরাও। এছাড়া ঝুকি নিয়ে চলাচল করায়
প্রায়শ ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মান
এবং সংস্কারে নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহার করায় এ সমস্যার সৃষ্টি
হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে
হাজারো খানাখন্দ। কয়েকটি স্থানের সড়ক ভেঙে খালে পড়েছে।
এতে সড়কটি সংকীর্ণ হয়ে গেছে। পীচ উঠে লালচে হয়ে গেছে।
বাস না চলায় শিক্ষার্থীসহ যাত্রীরা বিভিন্ন স্থানে গাড়ির জন্য
দাড়িয়ে আছে। এই সড়ক সংলগ্ন কাঠালিয়ার আওরাবুনিয়া
ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান নকীব জানান, সড়কের দুরবস্থার
কথা বারবার কতৃপক্ষকে জানানো সত্বেও জনসাধনের দুর্ভোগ
লাঘবে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। ফলে যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি
নিয়ে টেম্পো, নছিমন, করিমন, আটোরিক্সা কিম্বা মোটর
সাইকেলে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। ঝালকাঠি সড়ক বিভাগের
নির্বাহী প্রকৌশলি মোঃ খালেদ সাহেদ সড়কটির সমস্যার কথা
স্বীকার করে জানান, সংস্কারের জন্য ১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা
হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। এরপর নির্ভীগনে যানবাহন
চলাচল করতে পারবে। দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি সংস্কার করে যান
চলাচলের উপযোগী করার দাবি রাজাপুর ও কাঁঠালিয়াসহ দক্ষিনাঞ্চলের
মানুষের।