নাটোর জেলা প্রতিনিধি,
‘ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি’ আর মাত্র ৪ দিন পরে অনুষ্ঠিত হবে মুসলমান
ধর্মঅবলম্বীদের সবচেয়ে ধর্মীয় উৎসব হলো ঈদুল ফিতর।ঈদ কে সামনে রেখে শেষ সময়ে
কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন নাটোরের মুসলিম নারীর পাশাপাশি পুরুষেরাও। ঈদের
আনন্দ নিজে এবং পরিবারের সকল সদস্যদের মাঝে ভাগাভাগি করে নিতে জেলা ও উপজেলার
মার্কেট গুলিতে ঘুরছেন অনেকেই। রমজানের ২য় সপ্তাহ থেকে উপজেলার মার্কেট গুলিতে
কেনাকাটা শুরু হলেও শেষ সময়ে ঈদের কেনাকাটা জমে উঠেছে। এ বছর ঈদ কে সামনে
রেখে ফ্যাশান ও ডিজাইনে এসেছে ভিন্নতা। বিভিন্ন উৎসব কিংবা ঋতু পরিবর্তনে
নিজেকে আলাদা করে উপস্থাপন করতে রুচিশীল পুরুষের রয়েছে ভিন্নতা। ঈদের ব্যস্ততা আর
মার্কেট গুলিতে ভীড় বাড়ার আগেই অনেকে ঘুরে গেছেন বিপণীবিতান গুলি। ঈদে রুচি ও
অভিব্যক্তি অনুযায়ী পোষাকে পরিবর্তন আনে পুরুষেরাই এই কারনেই একটু সময় নিয়ে
বিপণীবিতান গুলিতে ঘুরতে দেখা গেছে তরুণ ও যুবকদের।পছন্দের তালিকায় গরম কিংবা
বর্ষার কথা মাথায় রেখে পাঞ্জাবী ও টি-শার্ট কিনছেন তারা।এদিকে ঈদ আনন্দে লাল-নীল
আলোক বাতি আর পোষাক প্রতি বিভিন্ন অফার-ডিসকাউন্টের ব্যানার ও পোষ্টার দিয়ে
মার্কেট গুলি সাজানো হয়েছে জাঁকজমক ভাবে। দোকানের ভিতরে নতুন নতুন পোষাকের
পসরা সাজিয়ে বসে আছেন দোকানিরা।এ বছর নাটোর জেলার নিচাবাজার, মন্দির
মার্কেট, বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া বাজারের আর এস মার্কেট, হিরা সুপার
মার্কেট, বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়রামপুর বাজারের মানিক কুন্ডু মার্কেট, লালপুর
উপজেলার গোপালপুর মসজিদ মার্কেট, ওয়ালিয়া বাজারের মার্কেট গুলিতে শিশু ও তরুণ
তরুণীর জন্য ফ্রক, জিপসি, লেহেঙ্গা, থ্রিপিচ, ফ্লোরটাচ, সিনথেটিক ফ্রক, স্টার জলসার
নায়িকাদের পোষাক, সাবরিয়া জামা ও বোরকা বিক্রয় হচ্ছে। এই সকল পোষাক গুলির দাম
এক হাজার থেকে সাত হাজার টাকার মধ্যে। শাড়ীর মধ্যে রয়েছে গ্যাস সিল্ক, দোতারী
সিল্ক, সিল্ক জামদানী, মিরপুরের লেহেঙ্গা শাড়ী, টাঙ্গাইলের সুতি কাতান, স্বর্ণ কাতান,
বেনারসী কাতান ও পাকিজা প্রিন্ট শাড়ি। এগুলি বিক্রয় হচ্ছে এক হাজার থেকে পনেরো
হাজার টাকার মধ্যে। ছেলেদের জন্য রয়েছে, রাজশাহী সিল্ক পাঞ্জাবী, ইন্ডিয়া কিউজি
পাঞ্জাবী, খদ্দর, সুতি পাঞ্জাবী, প্রিন্ট পাঞ্জাবী, সেরওয়ানী, তৈরী শার্ট, গেঞ্জী, প্যান্ট-
শার্টের পিচ যা বিক্রয় করা হচ্ছে পাঁচশত টাকা থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে বিক্রয়
করা হচ্ছে। তবে অধিকাংশ দোকানগুলিতে ক্রেতাদের ভীর ছিলো চোখে পড়ার মতে এর বেশি
ভাগই ছিলো নারী ক্রেতা। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত মার্কেট গুলিতে চলছে
ঈদের কেনা কাটা।
ঈদে কেনাকাটা করতে আশা ক্রেতা রাত্রী, আনছার আলী বলেন,‘ মার্কেট গুলি ঘুরে
পরিবারের সকলের জন্য ঈদের নতুন পোষাক কেনাকাটা শেষ। এ বছর দোকান গুলিতে চাহিদা
মতো পোষাক সাধ্যের মধ্যে পাওয়া আমরা খুশি।
এ ব্যাপারে নাটোর নিচাবাজারের বিসমিলল্লাহ মার্কেট, মন্দির মার্কেট, বনপাড়া আর
এস মার্কেট ও মা শাড়ী বিতানের মালিক, বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়রামপুর বাজারের
মানিক কুন্ডু মার্কেটের ফিশন হাউজের মালিক, লালপুর উপজেলার গোপালপুর কেন্দ্রীয়
মসজিদ মার্কেটের গার্মেন্টস বিক্রেতা, ওয়ালিয়া বাজারে গার্মেন্টস মালিক মিলন,
সোহাগ, নাসির বলেন,‘রমজানের ২য় সপ্তাহ থেকে ঈদের কেনাকাটা শুরু হলেও শেষ সময়ে
বিক্রয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ঈদ কে সামনে রেখে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন আধুনিক
ডিজাইনের পোষাকে দোকান ভরপুর রয়েছে।আশা করছি ক্রেতাদের চাহিদার পাশাপশি
আমাদের বিক্রয়ের লক্ষ মাত্র পুরন হবে। এমনটিই আশা করছেন উপজেলার ব্যবসায়ীরা। নাটোর
সদর, নিচাবাজার, মন্দির মার্কেট, দয়রামপুর বাজার, লালপুর বাজার, গোপালপুর বাজারও
ওয়ালিয়া বাজারে মার্কেট গুলিতে রয়েছে ক্রেতাদের উপছে পড়া ভীড়।