বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে কোনো পশু সংকট নেই – সাভারে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ সাভার ও আশুলিয়ায় অপরিকল্পিত বাসা বাড়িতে বসবাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জনগণ প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকার-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী   কুমিল্লার নাগরিক সেবায় নতুন অধ্যায়: গঠিত হচ্ছে ওয়াসা ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে ছোট পাইপ স্থাপনের অভিযোগ আশুলিয়ার জামগড়া ইস্টার্ন হাউজিং বাজারে জলাবদ্ধতায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির, ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ গৃহবধূ হত্যা মামলার আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার! আশুলিয়ার বাইপাইল- ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং কতৃক অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র অপহরণের পর হত্যা: ২০ মাস পর লাশ উত্তোলন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কলাপাড়ায় শীঘ্রই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অবৈধ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট ক্লিনিক

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় রবিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৭
  • ৩৫৮ বার পড়া হয়েছে

পারভেজ, কলাপাড়া প্রতিনিধি ঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিয়ম বহির্ভূত ভাবে গড়ে ওঠা ১২টি ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও ৪টি প্রাইভেট ক্লিনিকের অপচিকিৎসার খবর গনমাধ্যমে প্রকাশের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালকের নেতৃত্বেএকটি পরিদর্শন টিম   ০৫/১০/২০১৭ বৃহস্পতিবার দিনভর এসব প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার পরিদর্শন করে গনমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।শীঘ্রই এসকল প্রতিষ্ঠানের রোগী নিয়ে বানিজ্য বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শন টিম সূত্র।জানা যায়, কলাপাড়ার উপকূলীয় এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও ষ্টাফদের সমন্বয়ে কতিপয় প্রভাবশালীদের পরিচালিত ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ওপ্রাইভেট ক্লিনিকের রোগী বানিজ্যের তথ্য গনমাধ্যমে প্রকাশের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক ডা: কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, উপ-পরিচালক ডা: শরীফ, সদস্য সচিব ডা: মেহেদি হাসান ও সদস্য ডা: মাসুদ করিম এর নেতৃত্বে একটি পরিদর্শন টিম বৃহস্পতিবার এসকল ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট ক্লিনিক পরিদর্শন করেন।এসময় কলাপাড়ার কোন ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ যথাযথ কাগজ প্রত্র প্রদর্শন করতে পারেনি। এমনকি এসকল প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক, ব্রাদার, নার্স ও টেকনিশিয়ান তাদের যথাযথ প্রশিক্ষন সনদ সহ প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল দেখাতে পারেনি পরিদর্শন টিমকে। এমনকি এসকল প্রতিষ্ঠান গুলো যে সকল শর্ত পূরনের অঙ্গীকারে লাইসেন্স পেয়েছে তার একটি শর্ত ও পূরন করতে পারেনি অদ্যবধি।শীঘ্রই এগুলো বন্ধ করার প্রয়োজনীয় উদ্দোগ সহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান নিশ্চিত করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানানোর কথা জানায় পরিদর্শন টিম সূত্র। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শন শেষে অবৈধ ভাবে পরিচালিত স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান গুলোর মালিক পক্ষ পরিদর্শন টিমকে ম্যানেজ করতে লবিং শুরু করেছে বলে জানায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর একটি সূত্র। ওই সূত্রটি আরও জানায়,পরিদর্শন টিমের একজন সদস্য একসময় কলাপাড়ার একটিবে-সরকারী স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতো। এর আগে অপর একটি পরিদর্শন টিম কলাপাড়ার একল প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন শেষে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে আর্থিক ভাবে লাভবান হয়ে কুয়াকাটায় রাত্রি যাপন শেষে ঢাকায় ফেরে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিদর্শনটিমের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য জানান, পরিচালক মহোদয়ের নেতৃত্বে পরিদর্শন টিম বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালীজেলার সরকারী ও বে-সরকারী স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান গুলো পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শন পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি তিনি।এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক ডা: কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমরা দু’টি টিমে বিভক্ত হয়ে গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিন দিন বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালীতে সরকারী ও বে-সরকারী স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান গুলো পরিদর্শন করি। আমি নিজে জেলা সদরের সরকারী স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান গুলো এবং টিমের সদস্যরা বে-সরকারী স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান গুলো পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে যে সকল প্রতিষ্ঠানের অসংগতি পাওয়া গেছে শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন তিনি।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক ডা: কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন আরও বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে দেশের সকল সরকারী, বে-সরকারী স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান সহ ব্লাড ব্যাংক গুলোকে অন লাইনের আওতায় আনা হবে। যাদের সরকারী অনুমোদন, লাইসেন্স সহ দক্ষ জনবল আছে কেবল তাদের নাম এবং প্রয়োজনীয় সকল তথ্য পাওয়া যাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওই অনলাইনে। যাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা সকল বে-সরকারী স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধকরে দিতে পারে।প্রসংগত, কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কতিপয় অসাধু চিকিৎসক, ষ্টাফ ও কতিপয় প্রভাবশালীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে স্বাস্থ্য সেবার নামে হয়রানীর শিকার হচ্ছে সাধারন মানুষ। এমনকি প্রভাবশালী এসকল প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার মালিকদের পোষা দালালদের হাতে অসুস্থ্য রোগী ও তার স্বজনদেরকে শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত করারও অভিযোগ রয়েছে। এসব ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে কর্মরত নার্স, ব্রাদার, টেকনিশিয়ান ও ল্যাব সহকারীদের মধ্যে অনেকেরই যথাযথ প্রশিক্ষন সনদ নেই।কেউ কেউ নিজের নাম পর্যন্ত লিখতে জানেনা। এসকল প্রতিষ্ঠান গুলোর দালালরা অফিস টাইমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরে ও গেটে অবস্থান নিয়ে রোগী বাগিয়ে নেয়ার বিষয়ে তৎপর থাকে সর্বদা। মাঝে মাঝে রোগী নিয়ে টানা হেঁচড়া সহ দালালে দালালে হাতা-হাতি ও চুলো-চুলির ঘটনাও ঘটছে অহরহ। এসকল ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট ক্লিনিক গুলোতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অবৈধ গর্ভপাত করারও অভিযোগ রয়েছে।কিছুদিন আগে একটি ক্লিনিকে অবৈধ গর্ভপাত করার সময় একজন রোগী মার যায়। পরে ওই ক্লিনিকটি জেলা স্বাস্থ্য প্রসাশন সীলগালা করে দেওয়ার কিছুদিন না যেতেই রহস্যজনক ভাবে আবার চালু হয়।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451