নাটোর জেলা প্রতিনিধি:
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার বড়াল নদী থেকে হাত পা বাঁধা অবস্থায়
মোয়াজ্জেম হোসেন (৩৮) নামে নিখোঁজ এক ভ্যান চালকের মরদেহ উদ্ধার
করেছে বাগাতিপাড়া থানার পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে ভ্যানচালক মোয়াজ্জেমের
বাড়ি থেকে কিছু দূরে মল্লিকপুর এলাকার বড়াল নদী থেকে তার হাত-পা ও গলা
বাধাবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ পাশের গ্রাম রহিমানপুর সরকারপাড়ার বিদ্যুৎ নামের
একজনকে আটক করেছে। তবে নিহতের ভ্যানের কোন খোঁজ মেলেনি।
পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার নূরপুর চকপাড়া গ্রামের মৃত মজির
উদ্দিনের ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন (৩৮) সোমবার রাত থেকে নিখোঁজ
ছিলেন। সন্ধ্যায় ভ্যান নিয়ে বের হয়ে সে আর ফিরে আসেনি। এ ঘটনায়
মঙ্গলবার পরিবারের লোকজন থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন। পরে অনেক
খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ওই দিন বিকেল তিনটার দিকে স্থানীয়
মল্লিকপুর মোড় সংলগ্ন বড়াল নদী থেকে তার হাত পা ও গলা বাঁধা লাশ উদ্ধার
করা হয়।
তার গায়ের শার্ট-লুঙ্গি ছিঁড়ে দড়ি বানিয়ে গলা ও হাত-পা পিঠমোড়া
দিয়ে বেঁধে বড়াল নদীতে নিহতের মরদেহ ফেলে রাখে হত্যাকারীরা। নিখোঁজ
হওয়ার একদিন পর এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের শরীরে গোপনাঙ্গসহ
একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, গত সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে তমালতলা
মোড় থেকে মোয়াজ্জেম কয়েকজন যাত্রী নিয়ে বাঁশবাড়িয়ার দিকে যান। পরে
রাতে তিনি বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন অনেক
খোঁজাখুঁজি করে তার কোন সন্ধান পাননি। নিখোঁজের পরদিন মঙ্গলবার
দুপুরে স্থানীয়রা মল্লিকপুর মোড়ের পাশের লিচু বাগানে একজোড়া স্যান্ডেল
দেখে পরিবারকে খবর দেয়। পরে পরিবারের লোকজন ঘাসের উপরে টানা-হেঁচড়ার
চিহ্ন দেখে পাশের বড়াল নদীতে খুঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে মরদেহ দেখতে
পায়। পরে খবর দিলে পুলিশ তা উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া থানার (ওসি) মনিরুল ইসলাম লাশ উদ্ধারের সত্যতা
নিশ্চিত করে বিলেন, ব্যাটারি চালিত অটো ভ্যানের কারণে দুর্বৃত্তরা তার
ভ্যানটি ছিনতাই করে খুন করার পর হাত-পা বেধে নদীতে ফেলে দিতে পারে বলে
প্রাথমিক ভাবে ধারণ করা যাচ্ছে। তবে হত্যার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাগাতিপাড়া মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়েরের
প্রস্তুতি চলছিলো।