মোঃ আশিকুর রহমান টুটুল,নাটোর জেলা প্রতিনিধি:
পদ্মা নদীতে তীব্র ভাঙ্গন না থাকলেও পানি বাড়ার সাথে সাথে নদীর তীর রক্ষায়
নির্মিত সিসি ব্লকের তৈরী নদী ভাঙ্গন রোধ ব্যবস্থা হুমকীর মুখে পড়েছে।
ইতিমধ্যেই প্রায় ৪৫ মিটার এলাকার সিসি ব্লক পদ্মা নদীতে ধ্বসে
পড়েছে। নুরুল্লাপুর ও আকছেদ মোড় এলাকায় ৪টি পয়েন্টে ধ্বস লক্ষ্য করা
গেছে। সোমবার (১৪ আগষ্ট) সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নাটোরের
নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার ও লালপুর উপজেলা নির্বাহী
অফিসার নজরুল ইসলাম সিসি ব্লকের ধ্বস এলাকা পরিদর্শন করেন।
জানা গেছে, সিসি ব্লকের ধ্বস শুরু হওয়ায় নটোরের লালপুর উপজেলার নদী
তীরবর্তি পালিদেহা, গৌরীপুর, নুরুল্লাপুর, লক্ষীপুর, তিলকপুর ও নবীনগর
গ্রাম হুমকীর মূখে পড়ছে। আর এজন্য এলাকার লোকজন নদী থেকে
অবৈধভাবে বালি উত্তোলনকে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, নদীর তলদেশ থেকে
বালি উত্তোলনের ফলেই সিসি ব্লকের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে সিসি
ব্লক নদীতে ধ্বসে পড়ছে।
এলাকাবাসী জানায়, পদ্মা নদীর লালপুর উপজেলার নবীনগর, লক্ষীপুর, পালিদেহা, ও
গৌরীপুর এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়ে থাকে। এলাকার
প্রভাবশালী একটি মহল এ কাজের সাথে জড়িত। ফলে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে
সাহস পান না। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বালু মহল ইজারা না হলেও নদী
থেকে বালু ও ভরাট উত্তোলন থেমে থাকে না। প্রতি বছরই নদীর তলদেশ থেকে
বালু উত্তোলন করা হয়।
এদিকে উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানাযায়, বালু মহাল নিয়ে মামলা
থাকায় ২০০৯ সাল থেকে লালপুরের বালু মহাল ইজারা দেওয়া হয়নি। এছাড়া
পালিদেহা, নবীনগর, লক্ষীপুর এসব এলাকা বালু মহল হিসেবে ঘোষণা হয়নি।
ফলে ইজারা দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।
নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার
সরকার জানান, পদ্মানদীর লালপুর অংশে নদীর তীর রক্ষা সিসি ব্লকের ৪৫ মিটার
ধ্বস লক্ষ্য করা গেছে। তবে তা বড় ধরনে কোন সম্যসা নয়। এব্যাপারে
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুস্ক মৌসুমে নদীর তীরে অবৈধ ভাবে বালু
উত্তোলনের বিষয়টি তার জানা নেই বলে তিনি জানান।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন সিসি ব্লকের ভাঙ্গন
রোধে পানি উপন্নয়ন বোর্ড শিঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এই
মহুর্তে ভয়ের কিছু নেই।