মো. আখলাকুজ্জামান, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিলের নাম চলনবিল। নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলা জুড়ে বিস্তৃত এ চলনবিলে
অবৈধভাবে রেণু পোনা ও ডিমওয়ালা মা মাছ ধরার মহোৎসব চলছে। এতে প্রতিদিন কোটি টাকা মূল্যের
দেশি প্রজাতির মাছ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চলনবিলের প্রাণকেন্দ্র নাটোরের গুরুদাসপুর ও সিংড়া উপজেলায়
বিস্তৃর্ন জলাভূমিতে রাতের আধারে জাল পেতে অবাধে রেণু পোনা ও ডিমওয়ালা মা মাছ ধরা হচ্ছে।
এছাড়া সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, পাবনার ভাঙ্গুরা ও চাটমোহর উপজেলায় পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ নিধন চলছে
নির্বিচারে। আর যাদের এগুলো দেখার কথা তারা রয়েছেন নির্বিকার।
এসব মাছ সংগ্রহকারীরা জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে তারা এভাবে রেণু পোনা ও ডিম সংগ্রহ করে মাছ
চাষীদের কাছে তা বিক্রি করছেন এবং ডিমওয়ালা মা মাছ ধরে বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করেন। এভাবে
সংগ্রহের সময় বিভিন্ন প্রজাতির রেণু পোনা ও ডিম জালে ধরা পড়লেও তারা রুই, কাতলা, মৃগেলসহ
কয়েক প্রজাতির রেণু পোনা ও ডিম রেখে বাকিগুলো ছেড়ে দেন।
মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে মৎস্য সপ্তাহ পালিত হলেও তেমন কোন বিধি নিষেধ করে সচেতন করেনি বলেও
জানান একাধিক জেলে। তাড়াশ উপজেলার জেলে খোরশেদ আলী জানান, টেংরা, পুঁটি, বোয়াল, বাউশ, পাবদা,
খলিসা, বাটাসহ অসংখ্য মাছের রেণু পোনা ও ডিম জালে আটকা পড়লেও চাষের অযোগ্য বলে সেসব অযত্মে
ফেলে দেয়া হয়। ফলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নষ্ট হয়ে যায় সেগুলো। কিন্তু মৎস্য বিভাগ অবৈধভাবে মাছ নিধনের
সঙ্গে জরিতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় অবিরাম চলছে রেণু পোনা ও ডিমওয়ালা মা মাছ নিধন।
বুধবার দুপুরে যোগাযোগ করা হলে গুরুদাসপুর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল হালিম ও সিংড়া
উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা জহুরুল হক বলেন, চলনবিলাঞ্চলের মাছ অত্যান্ত সুস্বাদু। কিন্তু চলনবিলের
আনাচে কানাচে জেলেরা রাতের আধারে সোঁতিজাল, বাদাইজাল, কারেন্টজাল সহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ
জাল ব্যবহার করে ডিমসহ মা মাছ ও রেণু পোনা ধরে আসছে। প্রচলিত মৎস্য আইনে এসব অবৈধ জাল
দিয়ে মাছ শিকারীদের জন্য ৬ মাসের কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এ সময়ে আমাদের
পক্ষ থেকে জেলেদেরকে সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করছি। #