জাকির হোসেন, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাও) থেকে : বাংলাদেশ অংশ থেকে এক বাংলাদেশী
নারীকে বিএসএফ সদস্যরা ধরে নিয়ে গিয়ে ভারতের কারাগারে আটক রেখেছে বলে
অভিযোগ উঠেছে। তাকে ফেরত পেতে শনিবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ
প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্বামী সহ স্বজনরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত
বক্তব্য পাঠ করেন ভারতের কারাগারে আটক থাকা সেলিনার স্বামী মোঃ দবির। লিখিত বক্তব্যে
তিনি জানান, তারা ঠাকুরগাও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা
এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের লোক। তাঁর মেয়ে সলেমা খাতুন ও জামাই আব্দুল কুদ্দুস ভারতের
পশ্চিম বঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদ থানার সমেশপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।
দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের সাথে তার স্ত্রী মোছাঃ সেলিনার দেখা সাক্ষাত হয়নি। এতে মায়ের
মন মেয়েকে দেখতে বেকুল হয়ে উঠে। এ অবস্থায় সেলিনা জানতে পারেন, হিলি
চেকপোষ্টোর কাছে গেলেই মেয়ে এবং জামাইয়ের সাথে দুর থেকে দেখা করা যাবে। এ
নিয়ে মেয়ে-জামাইর সাথে মোবাইল ফোনে আলাপ করার পর ঠিক হয়, হিলি বর্ডারে
এপার-ওপারে দাঁড়িয়ে থেকে তারা দেখা সাক্ষাত করবে। সে অনুযায়ী মেয়ের সাথে দেখা
করতে গত ২০ মে বিকালে হিলি চেক পোষ্টের কাছে যায় এবং মেয়ে ও জামাইয়ের জন্য
চেক পোষ্টের কাছে অপেক্ষা করছিল। এসময় বাংলাদেশ অংশ থেকে সাক্ষাতের আগেই
বিএসএফ তার স্ত্রী সেলিনাকে ভারতে ধরে নিয়ে যায় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
করেন তিনি। দবির আরো জানান, বর্তমানে তার স্ত্রী ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট
জেলে আটক আছেন। তাকে ফেরত পেতে গত ১৯ জুন বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন
করা হয়েছে। তিনি একজন বয়স্ক মানুষ হওয়ায় এখন কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না বলেও
দাবী করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। এর জন্য সরকারের উচ্চ মহলে সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন দবির
ও তার স্বজনরা।
এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, তাদের
আবেদনটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক
মিডিয়ার সংবাদ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।