মো. আখলাকুজ্জামান, গুরুদাসপুর প্রতিনিধি,
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় গত ছয় দিনের বৃষ্টিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে বেহাল
অবস্থার শিকার হয়েছে প্রায় ৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বৃষ্টি হলেই পাকা সড়ক, রাস্তা-
ঘাট, নদ-নদী, খাল-বিল ভরপুর হয়ে উঠছে। সেই সাথে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
পাঠদান।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে হাঁটু পরিমাণ পানি
জমেছে। বৃষ্টির পানি যতই বৃদ্ধি পাচ্ছে তা ছড়িয়ে পড়ছে বিদ্যালয়ের পাঠদান ভবন কক্ষে।
ফলে নিয়মিত পাঠদানসহ বন্ধ হয়ে গেছে ছাত্রছাত্রীদের অ্যাসেম্বলি ও খেলাধুলা। গত ৫
জুলাই বুধবার থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত টানা ছয় দিনের বৃষ্টিপাতে ওই জলাবদ্ধতার
সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী বিদ্যালয় শিক্ষকরা জানান, বিদ্যালয়ের মাঠ নিচু হওয়ায় বৃষ্টি হলেই
পানি জমে যায়। আবার পানি নিষ্কাশনের নালা না থাকায় বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতার
কবলে পড়ছে বিদ্যালয়গুলো। এ কারনে বর্ষাকালীন তিন থেকে চার মাস ¯^াভাবিক পাঠদান
ব্যাহত হয়ে থাকে। বিষয়টি নিয়ে প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা
শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েও স্থায়ী সমাধান হয়নি। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি
নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে প্রথম সাময়িকী পরীক্ষা দিচ্ছে। কক্ষের অপেক্ষাকৃত উঁচু ভবনে
গাদাগাদি করে নেওয়া হচ্ছে তাদের পরীক্ষা। বিদ্যালয়ের ভবনে পানি জমে থাকায় আসবাবপত্র,
আলমারী ও চেয়ার বেঞ্চ নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া টয়লেটগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় পরিবেশ
বিষিয়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো রশি দিয়ে বেঁধে আলমারীর ওপরে রাখা
হয়েছে বলে জানালেন রাণীগ্রাম-১ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.
জাহিদুল ইসলাম।
আসমানী, কবিতা ও মায়শা নামে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, মাঠে ও
শ্রেণীকক্ষে পানি জমে থাকার কারনে তারা খেলাধুলা ও অ্যাসেম্বলি করতে পারছে না।
গাদাগাদি করে তিনটি কক্ষে তাদের পাঠদান করতে হচ্ছে। অসর্তকতায় মাঠে জমে থাকা
পানিতে পড়ে গিয়ে পোষাক ও বইখাতা ভিজে যাচ্ছে। আবার পানি শুকিয়ে গেলেও মাঠ ও
শ্রেণীকক্ষগুলো কাদা পানিতে শ্যাঁতসেঁতে হয়ে থাকে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান ও প্রাথমিক শিক্ষা
কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্ষা এলেই বিদ্যালয়গুলোর এমন
পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়। বরাদ্দ না থাকায় বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে পারছেন না
তাঁরা।
উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, তিনি বৃষ্টি
উপেক্ষা করে বিদ্যালয়গুলোর এমন দুর্দশা প্রত্যক্ষ করতে যান। বিদ্যালয় মাঠ ও ভবনের কক্ষগুলোতে
পানি জমে থাকা গাদাগাদি করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করার
বিষয়টি ব্যথিত করেছে তাঁকে। স্থানীয় সকল ইউপি চেয়ারম্যান ও বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে
ইউএনও বলেন, ‘ কোমলমতি এসব শিশু শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা’ তাঁদের ভাবা
উচিত ছিল। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পানি নিস্কাশনের স্থায়ী উদ্যোগ নিবেন তিনি।