গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি,
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নন্দকুঁজা নদীর মোল্লা
বাজার বিয়াঘাট হাট ব্রিজ নির্মানের অভাবে ১০ টি স্কুল-কলেজ
শিক্ষার্থীসহ ওই এলাকার ১৫টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের নদীপারাপার
ভোগান্তি চরম আকার ধারন করেছে। প্রাপ্ততথ্যে জানা যায়, প্রায় একযুগ
আগে নাজিরপুর ইউনিয়নের মোল্লা বাজার, মামুদপুর, বেড়গঙ্গারামপুর,
হামলাইকোল ও জুমাইনগর ছাড়াও উত্তর পাড়ের বিয়াঘাট ইউনিয়নের
বিয়াঘাট, দস্তানানগর, সিয়ানপাড়া, বাবলাতলা, চিকুরমোড়, নারায়নপুর,
কুমারখালি, দূর্গাপুর-সাবগাড়ি ও জ্ঞানদানগরসহ ১৫টি গ্রামের অসহায়
মানুষের নদী পারাপার ব্যবস্থা তরান্বিত করার লক্ষ্যে মোল্লাবাজার-বিয়াঘাট হাট
বরাবর নন্দকুঁজা নদীতে একটি ৯০ফিট দৈর্ঘ্য ব্রীজ নির্মানের
প্রস্তাবনা করা হয়। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা আর সরকারের পালাবদলের
কারনে ওই প্রস্তাবনাটি মুখথুবরে পড়ে। ফলে সেখানে অস্থায়ীভাবে
নৌপারাপারের মাধ্যমে কোনোমতে যাতায়াত ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হয়।
কিন্তু ওই নদীটির দক্ষিনপাড়ে নাজিরপুর ইউনিয়ন এলাকায় রয়েছে মামুদপুর
মোল্লাবাজার কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজ, হামলাইকোল সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়, আলহাজ আবদুল কুদ্দুস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং উত্তরপাড়ে
বিয়াঘাট ইউনিয়নের বিয়াঘাট হাইস্কুল, চলনবিল কারিগরি ও কমার্স
কলেজ, বিয়াঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় দশটি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙ্গি নৌকার
মাধ্যমে ওই নদী পারাপার করে থাকেন । কোনো কোনো বছর বর্ষাকালে
নৌকা ডুবে শিশু শিক্ষার্থীদের সলিল সমাধি হবার ইতিহাসও রয়েছে।
প্রস্তাবিত ওই জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি নির্মানের জন্য স্থানীয় সাংসদ
সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস বিগত ০৮/১১/২০১৬ তারিখে
মোল্লা বাজার-বিয়াঘাট হাট বরাবর নন্দকুঁজা নদীর ওপর ৯০ মিটার দৈর্ঘ্য
একটি আরসিসি ব্রিজ নির্মানের জন্য ডিওলেটার প্রদান করেছেন
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বরাবর । আগারগাঁওয়ে অবস্থিত স্থানীয়
সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ব্রিজ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ এবাদত
আলী গত ১০/১১/২০১৬ ইং তারিখে সেখানে জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি
নির্মানের সম্ভাবতা যাচাই পূর্বক ওই সাইডের রঙ্গিন ছবি পাঠানোর
জন্য নাটোর স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর
নির্দেশ প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশে গুরুদাসপুর
উপজেলা প্রকৌশলী রতন কুমার ফৌজদার গত ২৬/১২/২০১৬ তারিখে যথা
নিয়মে ওই ব্রিজটির নির্মান কাজের স্বপক্ষে সম্ভাব্যতা যাচাই রিপোর্ট
দাখিল করেন। নাটোর নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তর বরাবর । ইতি মধ্যে
তিনবার করে সয়েল টেস্ট ও সাইড সিলেকশনে কাজ সম্পন্ন হলেও নির্মান
কাজের কোনো প্রস্তুতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে
উপজেলা প্রকৌশলী রতন কুমার ফৌজদার জানান, অফিসিয়ালভাবে উর্দ্ধতন
কতৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক প্রতিবেদন দাখিল করে পরবর্তী নির্দেশের
অপেক্ষায় রয়েছি। এদিকে বিয়াঘাট চলনবিল কারিগরি কমার্স কলেজের
অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান জানান, ওই জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি নির্মানের জন্য
আমাদের মাথার ঘাম পায়ে ঝরিয়েছি কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। অপরদিকে
বিঘাট গ্রামের বাসিন্দা বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা ডিগ্রি কলেজের
প্রভাষক নাসরিন সুলতানা রুমা ও মোল্লা বাজারের নেতৃস্থানীয় আব্দুর রাজ্জাক
ক্ষোভ ও দুঃখ করে বলেন আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ ব্রিজটি নির্মানের জন্য
সরকারের কাছে আবেদন নিবেদন করেও কুলকিনারা পাচ্ছি না। আদৌ
ব্রিজটি নির্মান হবে কিনা এ ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে পড়েছে
এলাকাবাসী।