রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২০, ০৭:১৩ অপরাহ্ন

জয়দেবপুরে থানার পুলিশ পারেনি, সিআইডির উদ্ঘাটন

অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইম শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২০
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের জয়দেবপুরে একটি স্কুলের ক্যানটিনের মালিক ফরিদ হোসেন (২৮) ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে অজ্ঞাতনামাদের গুলিতে নিহত হন। এর পরের পাঁচ বছরেও কে বা কারা তাঁকে গুলি করেছিল, তা জানতে পারেনি থানার পুলিশ। অবশেষে গত জানুয়ারিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার পর এক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যের সূত্রে বেরিয়ে আসে হত্যাকাণ্ডের রহস্য। জানা যায়, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় স্থানীয় ছাত্রদলের এক নেতা ফরিদকে খুন করান।

গাজীপুরের এ রকম আরও তিনজনকে হত্যার রহস্য থানা–পুলিশ দীর্ঘ তদন্তেও সুরাহা করতে পারেনি। যা পরে পুলিশের তদন্ত সংস্থা সিআইডি উদ্ঘাটন করেছে। সিআইডির কর্মকর্তারা বলছেন, থানা–পুলিশের অবহেলা ও আসামির সঙ্গে সখ্য গড়ে প্রভাবিত হওয়ার কারণে প্রথম দফা তদন্তে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি। একটি মামলা দ্বিতীয় দফায় অন্য সংস্থার হাতে গিয়েও আসামি শনাক্ত হয়নি।
মামলাগুলো তত্ত্বাবধানকারী সিআইডির উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি, ঢাকা বিভাগ) মাইনুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, দুই থেকে সাত বছর আগে গাজীপুরে ঘটে যাওয়া এই চার খুনের কোনো সূত্র ছিল না।

দেখেছিলেন একজন
সিআইডি সূত্র জানায়, ফরিদ হোসেন পরিবার নিয়ে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার যোগীতলায় থাকতেন। ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়েছিলেন। ওই ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে জয়দেবপুর থানায় হত্যা মামলা করেন ফরিদের মা ফুলমতি বেগম। তিন বছরে জয়দেবপুর থানার পাঁচজন কর্মকর্তা মামলার তদন্ত করলেও তাঁরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। পরে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০১৮ সালের ২৫ মার্চ সিআইডি তদন্তের দায়িত্ব নেয়।
সিআইডির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্ত শুরুর পর স্থানীয় এক ব্যক্তি মাহাবুবের সঙ্গে ঝগড়া-হাতাহাতির কথা জানান। তাঁর কথার সূত্র ধরে মাহাবুবের সঙ্গে কথা বলেন সিআইডির কর্মকর্তারা। তাঁর এলোমেলো কথায় আরও চেপে ধরেন কর্মকর্তারা। একপর্যায়ে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। গত ৩০ জানুয়ারি মাহাবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আপনজনই খুনি
২০১৮ সালের ২৫ মে রাতে ময়মনসিংহের ত্রিশালের শিমলা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ একটি হত্যা মামলা করে। পরে জানা যায়, নিহত যুবকের নাম ফজলু মিয়া, তাঁর বাড়ি শেরপুরে। তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুরের কোনাবাড়ি এলাকার ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন।
এদিকে ফজলুর হদিস না পেয়ে তাঁর মা অজুফা বেগম জয়দেবপুর থানায় মামলা করতে গেলে থানা মামলা নেয়নি। পরে গাজীপুর আদালতের নির্দেশের পরও থানা মামলা গ্রহণে দুই মাস কালক্ষেপণ করে। এরই মধ্যে ফজলু যে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন, তার মালিক ও ছাত্রলীগের নেতা শাহিনুর ইসলাম ভুল বুঝিয়ে অজুফা বেগমকে দিয়ে শেরপুর আদালতে অপহরণের একটি মামলা করান। ওই মামলায় শাহীনুর সাক্ষী হন। তখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন স্নাতকোত্তরের ছাত্র ও জয়দেবপুর থানা ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন।
সিআইডি জানায়, ২০১৯ সালে জয়দেবপুর থানার অপহরণের মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। সিআইডি ফজলুর মা অজুফা বেগমের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে, মামলা করেও বিচার না পেয়ে অজুফা শাহীনুরের বাড়িতে গেলে তাঁর সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করা হয়। নিহত কর্মীর মায়ের সঙ্গে শাহীনুরের দুর্ব্যবহারে সন্দেহ হয় কর্মকর্তাদের। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে শাহীনুর খুনে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

বাধা দেওয়ায় হত্যা
গাজীপুরের জয়দেবপুরের নান্দুয়াইনের বৃদ্ধা জয়মন নেছার (৭০) গলায় গামছা প্যাঁচানো লাশ পাওয়া যায় তাঁর নিজ ঘরে, ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর ভোরে। রহস্য উদ্ঘাটনে থানা–পুলিশের ব্যর্থতায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তভার পায়। পিবিআইও উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হলে সিআইডি তদন্তভার পায়।
সিআইডির পরিদর্শক রেজাউল করিম বলেন, তদন্তে জানা যায়, জয়মনের বাড়ির পাশে আবু সাঈদ নামের এক নির্মাণশ্রমিক থাকতেন। ঘটনার চার-পাঁচ মাস আগে তিনি ওই এলাকা ছাড়েন। সন্দেহের বশে আবু সাঈদকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার রহস্য বেরিয়ে আসে। জানা যায়, ডাকাতির সময় বাধা পেয়ে চারজন মিলে জয়মনকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন তাঁরা।

স্ত্রী, শ্যালিকার হাতে খুন
নিখোঁজের ছয় দিন পর ২০১৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি কবিরাজ সাহেব আলীর (৬৫) গলিত লাশ পাওয়া যায় জয়দেবপুরের একটি পানাপুকুরে। জয়দেবপুর থানা-পুলিশ ও গাজীপুর ডিবি পুলিশ পাঁচ মাস তদন্ত করে কিছুই পায়নি। ২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তভার পায় সিআইডি। সিআইডির পরিদর্শক রেজাউল করিম জানান, সাহেব আলীর তৃতীয় স্ত্রী মর্জিনা বেগম পৃথক বাসায় থাকতেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মর্জিনা পারিবারিক বিরোধের কথা বলেন। রিমান্ডে নেওয়ার পর মর্জিনা বলেন, পারিবারিক বিরোধে তিনি, তাঁর মা ও বোন মিলে তাঁদের ভাড়া বাসায় সাহেব আলীকে মারধর করলে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তাঁরা তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 banglarprotidin
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451