মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পর নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ও তৎপরতা শুরু হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কারা আসছেন, তা নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে হিসাব-নিকাশ।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখার বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের অনুমোদনে দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের ৯ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মো. রবিন খান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আকরাম আহমেদের নাম ছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়।
কমিটি বিলুপ্তির পর নতুন নেতৃত্বে কারা আসতে পারেন, তা নিয়ে সাবেক নেতাদের মধ্যে একাধিক নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিনিয়র সহসভাপতি গোলাম মওলা গোলাপ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল সোহেল, সাবেক সহসভাপতি মো. শরীফুল ইসলাম, সাবেক দপ্তর সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম রিয়াজ ও জাকারিয়া খান সিজার রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
এ ছাড়া সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোক্তাদির ভূঁইয়া, সাবেক সভাপতি—সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউট ছাত্রদল, এবং সহসভাপতি পর্যায়ের নেতা কাওসার খান, সৈয়দ নেছার উদ্দিন রুজেন ও কাজী শাওন আলমের নামও নতুন কমিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
নেতাকর্মীদের একটি অংশের মতে, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা এবং বিতর্কমুক্ত ভাবমূর্তি নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে আকরাম আহমেদ ও গোলাম মওলা গোলাপের নাম তুলনামূলকভাবে বেশি আলোচিত হচ্ছে বলে সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এখনো কারও নাম চূড়ান্ত করা হয়নি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলকে আরও সক্রিয় ও গতিশীল করতে নতুন কমিটিতে রাজপথে পরীক্ষিত এবং সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিদ্ধান্তের ওপর। নতুন কমিটি ঘোষণার আগ পর্যন্ত আলোচনায় থাকা কোনো নামকেই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।