মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে উত্তরের জেলা পাবনা-একই এলাকায় এক দিনে ৪ জনের মৃত্যু এক গোরস্তানে তিনজনের দাফন। সাভারে অতিরিক্ত দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রি-ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা আশুলিয়ার জামগড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ১৪ জন আটক, প্রত্যেকের ৬ মাসের কারাদণ্ড ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দখল করে রেখেছে মৎস্য আড়তের গাড়ি যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা আরিচা-কাজিরহাট নৌ-রুটে স্পিডবোটে অতিরিক্ত যাত্রী পারাপার বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা ঢাকা জেলা ৮ বারের সেরা করদাতা রোমান ভুঁইয়ার পক্ষ থেকে সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা আশুলিয়ায় নারীদের ওপর নির্যাতন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তালায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত সাংবাদিকতা সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সাথে করতে হবে, পার্বতীপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবসে – বিএফইউজে সভাপতি পত্নীতলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় বুদ্ধিজীবী দিবসে  মোমবাতি প্রজ্জলন

তালপাতার পাঠশালা ২১ বছর ধরে শিশুশিক্ষায় জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছেন ‘পন্ডিত মহাশয়’ কালিপদ বিশ্বাস

সাইফুল ইসলাম কবির , বাগেরহাট
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে

 

শিশুশিক্ষার হাতে খড়ির প্রচলন হিসেবে একটা সময় ছিলো তালপাতার প্রচলন। আর লেখনী হিসেবে বাশের কঞ্চি এবং কয়লারকালি। এই সনাতনী প্রথায় আগেরকার শিশুরা অক্ষরজ্ঞান নিতো। আধুনিকতার ছোঁয়ার সাথে-সাথে এখনকার শিশুদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে অক্ষরজ্ঞান দিলেও তাল পাতার প্রচলন গ্রাম-গঞ্জের অনেক স্থানে এখও দেখা মেলে।

 

তারই ধারাবাহিকতায় বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ডুমুরিয়া দক্ষিণ পাড়া গ্রামে তাল পাতার প্রচলনে দীর্ঘ ২১ বছরধরে যিনি শিশু শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের বাতিঘর হিসেবে আলোকিত করে আসছেন তিনি হলেন, কালিপদ বিশ্বাস। কালিপদ স্থানীয় মৃত: যুধিষ্টি বিশ্বাসের ছেলে। তিনি এলাকার পন্ডিত মহাশয় নামেখ্যাত। রোববার (৬জুলাই) বেলা ১২টায় তার পাঠশালায় শিশুদের অ,আ, ক,খ ; কলরবের মধ্যেদিয়ে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। প্রথমেই তিনি বলেন এই পাঠশালার নাম “ডুমুরিয়া দক্ষিণ পাড়া শিশুবিদ্যা নিকেতন”। দীর্ঘ ২১ বছর ধরে তিনি এই পেশায় নিয়োজিত আছেন। বর্তমান তার বয়স চলে ৮২ বছর। এক প্রশ্নের উত্তরে কালিপদ বলেন, শিশুদের শিক্ষা দিতে তার ভালো লাগে। ভালো লাগার কারনেই এদের হাতে তালপাতা ধরিয়ে দিয়েছি ; যাতে করে এরা দুটি অক্ষর শেখে।

 

বিনিময় আপনি কোন পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন কিনা ? এই প্রশ্নে তিনি বলেন ৫০জন শিক্ষার্থী আছে ; হাজিরায় ৩১-৩২ জন থাকে। ওদের অভিভাবকরা যা কিছুদেয় তাই নেই। বার্ধক্য আসছে একটু ওষুধ কিনতে হয়। একটা মাছের ঘের আছে, ৫টা ছেলে মেয়ে, মোটা-মুটি চলে যায়। আধুনিক যুগে কেন তালপাতা, বাশের কঞ্চি আর কয়লার কালি দিয়ে শিশুদের অক্ষর শিক্ষা দিতেছেন ?। এই প্রশ্নে তিনি জানান, শিশুদের অক্ষর জ্ঞানের প্রথম ধাপ হচ্ছে ; অ,আ,ক,খ, এ,বি, সি,ডি,শতকিয়া ও বানান,ফালা। তাল পাতায় হাতের লেখা ভালো হয়। উপর ক্লাশে গিয়ে মার্কবেশী পায়। আমরা এবং আমাদের বাবা-ঠাকুরদাইতো ছোটকালে তাল পাতায় লিখছেন আমিও সে প্রথা ধরে রাখছি।

শিশু শিক্ষার্থী বাধন রায় এর মা’ বলেন, তাল পাতায় হাতের খেলা গুনে-মানে ভালো হয় এবং পরিস্কার অক্ষর হয় । অপর শিক্ষার্থীর মা’ জানান, এখানে প্রতিজন শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন ১২টা করে তালপাতা লিখে দেখাতে হয়। বছর শেষে এরা পরীক্ষা দিয়ে শিশু ওয়ানে ওঠে। ধৈয্য-সহনশীলতা এবং শিশুদের প্রতি মমত্ববোধ পন্ডিত মহাশয়ের বেলায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমরা তার দীর্ঘায়ু কামনা করি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451