বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন

আগুন-গুলি-বোমাবাজি-গহনা ছিনতাই, এক কেন্দ্রেই সব?

অনলাইন ডেক্স
  • আপডেট টাইম বুধবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দুলুখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে বোমা ফাটিয়ে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের পর আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন বেপারীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর সোয়া ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় দুই সাংবাদিক ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

পুলিশ নির্বাচন কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা জানায়, শরীয়তপুরে পঞ্চম ধাপে বুধবার সকালে নড়িয়ার ভোজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শহীদুল ইসলাম সিকদার, দেলোয়ার হোসেন বেপারী, রুনা আক্তার ও এনামুল হক বেপারী। দোলোয়ার হোসেন ব্যাপারী সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক ও নড়িয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইসমাইল হকের চাচাতো ভাই।

দুপুর সোয়া ২টার দিকে ২২ নম্বর দুলুখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হামলা করেন দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর সমর্থকরা। তারা বোমা বিস্ফোরণ ও গুলি ছুড়ে ভোটারদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর ভোটকেন্দ্র দখল করে তিনটি ব্যালট বাক্স, ৩ হাজার ব্যালট ও নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

এরপর বাহির থেকে দড়জা আটকে দিয়ে ভোট কেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, আনসার সদস্য ও ভোটাররা ওই কক্ষে আটকা পরে। তারা দড়জা ভেঙে সেখান থেকে প্রাণে বাঁচেন। এ সময় ১০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

সেখানে উপস্থিত কালের কণ্ঠের সংবাদদাতা শরীফুল আলম ইমন, যমুনা টিভির সাংবাদিক মনিরুজ্জামান, প্রথম আলোর প্রতিনিধি সত্যজিৎ ঘোষ, ডেইলি স্টারের প্রতিবেদক এমরুল হাসান বাপ্পী, ও মানবাধিকার খবরের সাংবাদিক হেমন্ত দাস, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কক্ষে আটকা পরেন। তাদের কক্ষে ককটেল বোমার হামলা ও গুলি করা হয়।

কেন্দ্রে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পাল্টা গুলি ছুরে কেন্দ্র রক্ষার চেষ্টা করেছেন। তাদের গুলি শেষ হয়ে গেলে তারও পিছু হটে আত্মরক্ষা করেন। এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজন দাস গুপ্তর নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা অবরুদ্ধদের উদ্ধার করেন। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছেঁ স্কুল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলাকারীরা অন্তত ৮ নারী আনসার সদস্য ও নারী ভোটারদের গহনা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মলায় আহত নারী আনসার সদস্য সেলিনা বেগম বলেন, কেন্দ্রের চারিদিকে শুধু বোমা ও গুলির শব্দ। ভেতরেই আশ্রয় নেই আমরা। পরে ভোট বাক্স, ব্যালট ছিনিয়ে নেওয়ার পর স্কুল ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে মারধর করে আমাদের গায়ের গহনা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদুল ইসলাম সিকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই ইউনিয়নে আমার গণজোয়ারের কারণে সন্ত্রাসী দেলোয়ার হোসেন বেপারীর সমর্থকরা ভোট বানচাল করার জন্য তিনটি কেন্দ্রে হামলা চালায়। সকাল থেকে ককটেল হামলা করে আতঙ্ক ছরায়। পরে দুপুরের দিকে ৫ নম্বর ওয়ার্ড কেন্দ্র আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন বেপারীর মুঠোফোনটি কয়েকবার ফোন করলেও বন্ধ পাওয়া যায়।

শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভোটকেন্দ্রে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2016-2021 BanglarProtidin
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451