বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীসহ দুই ভাই গুলিবিদ্ধ

অনলাইন ডেক্স
  • আপডেট টাইম শনিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২১
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের গুলিবর্ষণে জাতীয় শ্রমিক লীগের কক্সবাজার জেলার সভাপতি জহিরুল হক সিকদার এবং তাঁর ভাই ঝিলংজা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কুদুরত উল্লাহ সিকদার গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গত রাত ১০টার দিকে লিংক রোডে কুদুরতের অফিসে দুর্বৃত্তরা গুলি করে পালিয়ে যায়। তাঁদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ আনসারী জানান, কুদুরত উল্লাহ সিকদার ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার এবং আগামী ১১ নভেম্বরের নির্বাচনে একই পদে প্রার্থী। স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কুদুরতের প্রতিপক্ষ মেম্বার পদপ্রার্থী লিয়াকত আলীর লোকজন দুই ভাইকে গুলি করেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে লিয়াকতের বক্তব্য জানা যায়নি। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।

এদিকে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও তাঁর দুই সমর্থক কৃষক লীগ নেতার ওপর বৃহস্পতিবার হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। বিএনপি নেতা ও একই ইউপির স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল আউয়ালের সমর্থকরা এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন আহত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সুব্রত সাংমা।

একই রাতে বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউপি নির্বাচনে নৌকার কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগে ৬৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ৫০০-৬০০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়েছে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ছয়ানী ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান সমন্বয়কের বাড়িতে গুলিবর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পটুয়াখালীর গলাচিপার ডাকুয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী পোস্টার লাগানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়াধাওয়ি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় একটি নির্বাচনী ‘প্রচার ক্যাম্প’ থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার ও গত বৃহস্পতিবার রাতে এসব ঘটনা ঘটে।

দুর্গাপুরের বিপিনগঞ্জ বাজারে হামলায় আহত অন্যরা হলেন উপজেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম এবং কুল্লাগড়া ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির কাজল। আহতদের দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই কুল্লাগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা শামছুল হক উপজেলা বিএনপির সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল আউয়ালসহ ২৭ জনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় মামলা করেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। দুর্গাপুর থানার ওসি শাহ নুর এ আলম জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছে। তাদের ধরতে অভিযান চলছে।

বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ওহিদুজ্জামান অহিদের (আনারস প্রতীক) প্রধান সমন্বয়ক মোহাহের রশিদ অভিযোগ করেন, গতকাল ভোররাতে তাঁর বাড়িতে বৃষ্টির মতো গুলি চালানো হয়। তিনি এ ঘটনার জন্য নৌকার প্রার্থী শাহাদাত হোসেন রশিদকে দায়ী করেন। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা কেউ ঘর থেকে বের হইনি। তা ছাড়া বিল্ডিংয়ের কারণে গুলি ঘরে ঢুকতে পারেনি।’ শাহাদাত হোসেন রশিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটা সাজানো নাটক। বেগমগঞ্জ থানার ওসি জাহিদুর রহমান রনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলি ছোড়ার আলামত পায়নি। তবে দু-তিনটি গুলির খোসা তাদের দেখানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বরগুনার এম বালিয়াতলী ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম নাসিরের বড় ভাই ছগির হোসেন বাদী হয়ে গতকাল সকালে মামলাটি করেন। এ মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিছিলসহ পথসভায় যাওয়ার সময় মনসাতলী নামক স্থানে নৌকার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর জের ধরে নৌকার সমর্থকরা সন্ধ্যা ৭টার দিকে লাকুরতলা এলাকায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক তোফাজ্জেল হোসেনকে মারধর করে। পরে সাড়ে ৭টার দিকে পরীরখাল নামক এলাকায় নৌকার সমর্থকরা পথসভায় যাওয়ার সময় বিদ্রোহী প্রার্থী এম এ বারী বাদলের সমর্থকরা হামলা করে। এক পর্যায়ে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হয়। পথসভা শেষে রাত ১০টার দিকে পরীরখাল বাজার থেকে পুলিশ পাহারায় কর্মীদের নিয়ে ফেরার পথে বাদলের সমর্থকরা আবার নৌকার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে নৌকার কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে অন্য বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম সারোয়ার শাহিনের প্রচার গাড়িতে হামলা চালায়। আহত কর্মীদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় তাদের বহনকারী অ্যাম্বুল্যান্সে হামলা চালানো হয়। পরে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে বরগুনা সদর হাসপাতালে পাঠায়।

নাজমুল ইসলাম নাসির বলেন, এম এ বারী বাদল পরিকল্পিতভাবে নৌকা সমর্থকদের ওপর হামলা করেছেন। বাদল বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র মজুদ করে রেখেছিলেন। হামলায় তাঁর (নাসির) পক্ষের ১২ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। একজনকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে এম এ বারী বাদল বলেন, ‘প্রচারণার শুরু থেকেই নৌকার কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন স্থানে আমার কর্মীদের মারধর, হুমকি ও বাধা দিয়েছে আসছে। গতকালের ঘটনাও নৌকার প্রার্থীর ইন্ধনে তাঁর সমর্থকরা ঘটিয়েছে।’

বরগুনা সদর থানার ওসি কে এম তারিকুল ইসলাম বলেন, হামলার খবর পেয়ে বাবুগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বরগুনা থেকেও পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) মহরম আলী বলেন, তিনি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গলাচিপার ডাকুয়া ইউনিয়নের পশ্চিমপাড় ডাকুয়া গ্রামে গতকাল দুপুরে নির্বাচনী পোস্টার লাগানো নিয়ে ধাওয়াধাওয়ির সময় ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকদের মারধর করা হয়। পরে ঘোড়ার সমর্থকরা নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের ধাওয়া দেয়। তারা কাউকে না পেয়ে নৌকার পাঙ্গাসিয়া নির্বাচনী অফিসের কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। গলাচিপা থানার ওসি এম আর শওকত আনোয়ার ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এখন পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।

উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ণিমাগাঁতী ইউপিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আল আমিন সরকারের নির্বাচনী প্রচার ক্যাম্প হিসেবে পরিচিত স্বপ্নচূড়া ক্লাব থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুটি রামদা, একটি হাঁসুয়া ও ৪৮টি লাঠি উদ্ধার করে উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ। আল আমিন সরকার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

এ ব্যাপারে থানার উপপরিদর্শক মোতাহার হোসেন এ দিন রাতে বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। মামলায় আল আমিন সরকারের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্যসহ প্রায় ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আল আমিন সরকার বলেন, স্বপ্নচূড়া ক্লাবটি তাঁর নির্বাচনী ক্যাম্প নয়। তাঁর ব্যাপক জনসমর্থন থাকায় বিপক্ষ দল তাঁকে ফাঁসানোর জন্য ওই ক্লাবে দেশীয় অস্ত্র রেখে পুলিশকে ফোন দিয়েছে।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন নেত্রকোনা, নোয়াখালী, বরগুনা, দুর্গাপুর (নেত্রকোনা), গলাচিপা (পটুয়াখালী) ও উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি]

kalerkantho

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2016-2021 BanglarProtidin
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451