শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
জয়পুরহাটে সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনার শীর্ষে নাজমা খানম রুপালি পাহাড়ে খ্রিস্টান মিশনারির তৎপরতা: পিছিয়ে পড়ছে নওমুসলিমগণ ঈদযাত্রায় জনভোগান্তি কমাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে – প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু                    কৃষকদের ফসল সুরক্ষায় ইনসুরেন্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে – খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী        ঈদযাত্রায় স্বস্তি: নির্ধারিত ভাড়ায় চলাচল, অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থা—গাবতলীতে সড়ক মন্ত্রীর পরিদর্শন দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মানবাধিকার কর্মকর্তা ফরিদ মিয়া মিরপুরে ছাত্রদল নেতা আশরাফুল হোসেন মামুনের সেহেরি আয়োজনে হাজারো মানুষের উপচে পড়া ভিড় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ বোনাস পেলেন ডিএনসিসির ৩ হাজার ৩২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নে কেউ দুর্নীতি করলে কঠোর ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে  -তথ্যমন্ত্রী  ১৪ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী মোঃ সুমন হোসেনের ঈদের শুভেচ্ছা

শুধু ঐতিহ্য নয়, স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপায় দেশ বিখ্যাত মহাস্থানের কটকটি

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় শনিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
  • ৬৯৮ বার পড়া হয়েছে

 

মোঃ ফাহিম আহম্মেদ রিয়াদ ,বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার মহাস্থানের ইতিহাস ও ঐতিহ্য যেমন পরিচিত, তেমনি যারা এখানকার মন মুগ্ধ করা দর্শনীয় স্থান ঘুরতে আসেন তাদের হাতে ইতিহাসের কোনো ঝুলি না উঠলেও ওঠে কটকটির একটি প্যাকেট।

মহাস্থানগড় ও জাদুঘর দেখতে যারা আসেন তাদের প্রায় সবাই হযরত শাহ সুলতান মাহীসওয়ার বলখী (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করেন। সেখানে গিয়ে তারা অবশ্যই কটকটি কেনেন। কারণ এখানকার ঐতিহ্যের সঙ্গে কটকটি নিবিড় ভাবে জড়িয়ে গেছে।

কটকটি দেখতে চারকোনা বিস্কুট আকৃতির শুকনো মিষ্টান্ন জাতীয় খাবার। এটিই এখন মহাস্থানের ঐতিহ্যের একটি অংশ। খাবারের তালিকায় উপাদেয় একটি নাম এখন মহাস্থানের কটকটি। মহাস্থানের কটকটি বিভিন্ন জেলার মানুষের কাছে এখন প্রিয় খাবার, কিন্তু মহাস্থান ও এর আশপাশের মানুষের কাছে তা অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপায়। স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা নির্বাহের উপায়ও এই কটকটি।

স্থানীয় বিক্রেতারা জানান, “সপ্তাহের অন্যন্য দিনের তুলনায় শুক্রবার কটকটি বেশী বিক্রি হয়। প্রতিদিন এখানে গড়ে প্রায় পৌনে ২ লাখ টাকার কটকটি বিক্রি হয়।”

এ জন্য মহাস্থানেই স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠেছে অনেক কটকটি তৈরির কারখানা। হযরত শাহ সুলতান মাহীসওয়ার বলখী (রহ.)-এর মহাস্থানে আগমনের পর এখানে প্রাচীন সভ্যতার বিলুপ্তি ঘটে। এরপর তিনি যখন এখানে ধর্ম প্রচার করে মারা যান, তারপর এলাকার মানুষ তার মাজারে নিয়মিত জিয়ারত করতে যান। সেই সময় থেকেই মহাস্থানের কটকটির প্রচলন শুরু হয়।

কটকটি নামটি কেনো জানতে চাইলে স্থানীয় প্রবীন ব্যবসায়ী লাল মিয়া বলেন, “কটকটি আমার বাপ-দাদার আমল থেকে আবিষ্কার হইছে। সে সময় চালের আটা পানিতে মেখে খামির তৈরি করার পর তা বর্গাকারে কেটে কড়া রোদে শুকানো হতো। ভালোভাবে শুকিয়ে যাওয়া দ্রব্যকে স্থানীয়ভাবে কটকটা শুকনা বলা হয়। যেহেতু ছোট ছোট বর্গাকার খামিরও কটকটা হয়ে যেত, তাই এর নাম দেওয়া হয় কটকটি।”

কটকটি কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, “আমি এখানে মাজার জিয়ারত করতে আসসি। কটকটি কিনতেছি বাসায় ছেলে মেয়ে আছে তাদের জন্য। কটকটি পেলে তারা খুশি হবে।”

মহাস্থানের প্রসিদ্ধ কয়েকটি কটকটি বিক্রয়কেন্দ্র ‘লালমিয়ার কটকটি’, ‘হামু মামা কটকটি ঘর’, ‘চায়না কটকটি’, ‘জিন্না কটকটি ভান্ডার’ সহ আরও অন্যান্য বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। মহাস্থানে কটকটি তৈরির জন্য স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠেছে বিশাল বিশাল কারখানা। এসব কারখানায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০ মণ কটকটি তৈরি হয়। আর মহাস্থানের বাসস্ট্যান্ড, মাজার গেট, গড়, ঈদগাহ মাঠ, জাদুঘর ও ডাক-বাংলোর আশপাশের প্রায় ৫০টি ছোট-বড় দোকানে সেসব কারখানার কটকটি বিক্রি হয়। গ্রামীণ এলাকায় এখনো অনেক ক্ষুদ্রশিল্প আছে যার ওপর নির্ভরশীল শত শত পরিবার। এমনই এক শিল্প মহাস্থানের কটকটি। পর্যটকেরা মহাস্থানগড় পরিদর্শনে এসে দেশ খ্যাত মহাস্থানের কটকটি না নিয়ে গেলে তাদের এবং পরিবারের মনে অতৃপ্তি থেকেইে যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451