সেলিম হায়দার :
তালা উপজেলা সদর বাজারের কোল ঘেষে বয়েগেছে এক সময়ের খর¯্রােতা কপোতাক্ষ নদী। কালের
বিবর্তনে সেটি ভরাট হয়ে মরা নদীতে পরিনত হওয়ায় বর্তমান সরকারের প্রধান মন্ত্রী ২৬২
কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। এতে রয়ে যায় চরভরাটি কিছু জমি। সেটি ইউএনও
মহোদয়ের চেষ্টায় পেরিফেরি ভুক্ত করা হয়। পেরিফেরি ভুক্ত জায়গা সরকারি রাজস্ব নিয়ম অনুযায়ী ৫
টাকা রাজস্ব ফি থাকলেও আবেদন প্রতি ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া
গেছে। স্থানীয় তালা সদর ইউনিয়ন তহশীলদার আব্দুল মজিদ কতিপয় দালালদের মাধ্যমে হাতিয়ে
নিচ্ছে কোটি টাকা। ৪৪৭টি আবেদনের বিপরীতে এক থেকে দেড় হাজার আবেদন উক্ত দপ্তরে জমা
হয়েছে বলে জানাগেছে। জায়গা বরাদ্ধের রাজস্ব এর টাকা জমার কোন রশিদ দেওয়া হচ্ছেনা বলেও
অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সুত্রে জানাগেছে, তালা উপজেলার সদরের কাঁচা বাজারে দীর্ঘদিন চরভরাটি জায়গা পেরিফেরি
ভুক্ত না হওয়ায় বাজারের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ভাবে ভোগ দখল করে আসছে। ইতোপূর্বে সাবেক
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফরিদ হোসেন এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চরভরাটি জায়গা
পেরিফেরি ভুক্ত হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের মাঝে জায়গা বরাদ্ধের ঘোষনা দেওয়া হলে
ব্যবসায়ীরা আবেদন করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এই সুযোগে বণিক সমিতির সাবেক কতিপয়
কর্মকর্তা ও দালালদের যোগ সাজসে তহশীলদার জায়গা বরাদ্ধের আশ্বাস দিয়ে ব্যবসায়ীর নিকট
থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন ব্যবসায়ী
জানান, তারা প্রত্যেকে জায়গা বরাদ্ধ পাবার জন্য কেউ ৩০ হাজার আবার কেউ ৪০ হাজার টাকা
তহশীলদার এর নিকট জমা দিয়েছে। কিন্তু সেটিও আবার টাকা জমার রশিদ ছাড়া। এ অবস্থার
পরিবর্তন চেয়ে বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ঠ উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ
কামনা করেছে।
তালা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক সরদার মশিয়ার রহমান জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি
এবং এর কিছুটা সত্যতা পেয়েছি। এব্যাপারে বাজারের ব্যবসায়ীদের নিয়ে দ্রুত মিটিং এর
আহবান করব। মিটিং এ একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তালা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ জানান, আমি শুনেছি কে বা কাহারা
ব্যবাসায়ীদের নিকট থেকে আমার নাম করে টাকা নিচ্ছে। কিন্তু আমি কোন ব্যবসায়ীর নিকট
থেকে টাকা গ্রহন করিনি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিমেষ বিশ্বাস জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রাজস্ব
নেওয়ার কথা। এর বাইরে যদি কেউ কোন প্রকার অনিয়ম করে তাহলে প্রমানিত হলে ব্যবস্থা গ্রহণ
করা হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) মোঃ আব্দুল হান্নান জানান, সরকারি ফি এর বাইরে যদি কেহ
অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করে তাহলে প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা
হবে।