শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
জয়পুরহাটে সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনার শীর্ষে নাজমা খানম রুপালি পাহাড়ে খ্রিস্টান মিশনারির তৎপরতা: পিছিয়ে পড়ছে নওমুসলিমগণ ঈদযাত্রায় জনভোগান্তি কমাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে – প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু                    কৃষকদের ফসল সুরক্ষায় ইনসুরেন্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে – খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী        ঈদযাত্রায় স্বস্তি: নির্ধারিত ভাড়ায় চলাচল, অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থা—গাবতলীতে সড়ক মন্ত্রীর পরিদর্শন দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মানবাধিকার কর্মকর্তা ফরিদ মিয়া মিরপুরে ছাত্রদল নেতা আশরাফুল হোসেন মামুনের সেহেরি আয়োজনে হাজারো মানুষের উপচে পড়া ভিড় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ বোনাস পেলেন ডিএনসিসির ৩ হাজার ৩২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নে কেউ দুর্নীতি করলে কঠোর ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে  -তথ্যমন্ত্রী  ১৪ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী মোঃ সুমন হোসেনের ঈদের শুভেচ্ছা

অযত্ন অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের পথে মন্দির

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় বুধবার, ৪ জুলাই, ২০১৮
  • ৫৮৬ বার পড়া হয়েছে
dav

 

টি.আই সানি,গাজীপুরঃ
ভাওয়াল রাজার সময় কালে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের
বেকাসহারা গ্রামে দৃষ্টি নন্দন প্রচিন কালের এই মন্দিরটি এখন অযতœ,
অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের পথে । গাজীপুরের কাপাসিয়া-শ্রীপুর
ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান শ্রী প্রসন্ন কুমার বসু হিন্দু
ধর্মাবলম্বীদের পূজা অর্চনার জন্য প্রায় সাড়ে ৩ একর জমির উপর শ্রীপুরের
তেলিহাটি ইউনিয়নের বেকাসহারা গ্রামে দৃষ্টি নন্দন ১৩৩৬ সালে ২৪ আষাঢ়
একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
মন্দিরের পাশেই রয়েছে ঘাট বাঁধানো পুকুর। মন্দিরটির গাঁ জুড়েই রয়েছে
সিরামিকের দৃষ্টি নন্দন কারুকার্য। কিন্তু অযতœ, অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে
কালের স্বাক্ষী এ মন্দিরটি এখন ধ্বংসের পথে। যেকোনো মুহুর্তেই তার অন্তীম
সমাপ্তির আশংকা রয়েছে। তাই হিন্দু ধর্মলম্বীদের দাবি অচিরেই পুন:সংষ্কার
করে তাদের পূজা অর্চনার জন্য মন্দিরটি উপযোগী করার ব্যবস্থা করে দেয়া হোক।
শ্রী প্রসন্ন কুমার বসুর উত্তরসূরী মন্দিরের সেবায়েত নিহার চন্দ্র বসু বলেন,
আমার বয়স যখন ছোট তখন দেখতাম, উপজেলার পাঁচটি গ্রামের হিন্দু ধর্মের
অনুসারীদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের একমাত্র ভরসা ছিল এই শ্রী শ্রী কৃষ্ণ
চন্দ্র জিউর মন্দির। বিভিন্ন পূজার সময় উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের হিন্দু
ধর্মের অনুসারীরা আসায় এখানে প্রাণের জোয়ার তৈরী হতো। পূণ্যার্থীদের
আগমণে মুখরিত হয়ে থাকতো চারপাশ। কিন্তু এখন আর সে পরিবেশ নেই। প্রায়
বিশ-পঁচিশ বছর আগ থেকেই মন্দিরটি সংস্কারের অভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায়
আছে। বর্তমানে মন্দিরের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। প্রাণনাশের
ভয়ে এখন আমরা ওই ভবনের পাশে একটি টিনের ছাপড়া নির্মাণ করে পূজা
অর্চনার কাজ চালাচ্ছি।
তিনি আরও জানান, মন্দিরটি প্রতিষ্ঠার পর ২১৭ নম্বরের একটি দলিলের মাধ্যমে
প্রতিষ্ঠাতা শ্রী প্রসন্ন কুমার বসু শ্রীপুরের বিভিন্ন মৌজা থেকে প্রায়
শতাধিক বিঘা জমি ও ঢাকার একটি বাড়ি মন্দিরের নামে রেজিষ্ট্রি করে দেন।
কিন্তু কালের পরিক্রমায় এর অধিকাংশ ভূমি বেদখল হয়ে গেছে। বিভিন্ন ভূমি
দস্যূরা জাল কাগজপত্র তৈরী করে ভূমির মালিকানা দাবি করছে। এছাড়া প্রসন্ন
কুমার বসুর কয়েকজন উত্তরসূরী মন্দিরের ভূমি দাবি করে আদালতে মামলা
মোকদ্দমা দায়ের করেছেন। নানা জটিলতায় মন্দিরের শতাধিক বিঘা ভূমি বেহাত
হয়ে গেছে।
জেলা সাবেক ঢাকা হালে গাজীপুর, থানা-শ্রীপুর অধিন বেকাসাহরা মৌজার
সি.এস এস.এ আর. এস জে এল নং -৪০ সি.এস খতিয়ান-২০,এস.খতিয়ান
৩৪,যাহার সি.এস.ও এস এ-৬২নং দাগের-২.৩৬,৬৩নং দাগে০.৪,৬৪নং দাগে-
০.৩৯একর,মোট ২.৭৯ একর,আর.এস খতিয়ান-৮৫,আর.এস -৩৭০দাগে-১৩.৩৭১
দাগে-১.৪৫ ৩৭২দাগে ৩৯,৩৭৩ দাগে-১০,৩৭৫দাগে-১৪.৩৭৬দাগে ৬০ একর,মোট

জমির পরিমাণ-২.৮১সি.এস ও এস.এ-৬৫নং দাগে জমির পরিমাণ১.৭৩,আর.এস-
৩৬৮নং দাগে-১.৬০,৩৬৯নং দাগে-১৪একর মোট জমির পরিমাণ ১.৭৪,মেট
নালিশি সম্পত্তির পরিমাণ-৩.৬৯একর। এবর্তমানে মহামান্য হাইকোর্টের
নিষেধাজ্ঞা জারি আছে,
মন্দিরের পুরোহিত নারায়ণ চন্দ্র ব্যানার্জী জানান, মন্দিরের ভেতর থেকে প্রায়
সময়ই পলেস্তরা খসে শরীরের উপর পরতো, মন্দিরটি ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কায় আমরা
পাশেই একটি ছাপড়া ঘর নির্মাণ করে পূজা অর্চনা করছি। কিন্তু তাতে
নিরাপত্তা জনিত সমস্যায় ভুগছি। আমাদের ধর্মীয় অনুসারীদের ধর্মীয় কাজ
চালানোর জন্য মন্দিরটি পুনঃসংস্কারের জন্য সরকারের নিকট দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় ৬নং ওয়ার্ড সদস্য মমতাজ উদ্দিনের মতে, আমরা বিভিন্ন সময়ে এ
মন্দিরটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু অবস্থা এতই জরাজীর্ণ যে,
সংস্কার করলেও কোন কাজ হবে না, এটা পুনঃনির্মাণ করতে হবে। তাই সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে শ্রীপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আকতার বলেন, এ
বিষয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষ আমাকে জানানোর পরে আমি মন্দিরটি পরিদর্শনে
যাই। তাদের মন্দির সংস্কারের জন্য একটি আবেদন দিতে বললেও তারা পরে আর কোন
প্রকার যোগাযোগ করেনি। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি বিবেচনার
জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451