জাকির পাটোয়ারী,রামগঞ্জ প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের চাঞ্চল্যকর শিশু নুশরাত জাহান নিশু (৮) ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী
রুবলকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার সন্ধায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের
সহযোগীতায় রামগঞ্জ থানা পুলিশ ঘাতক রুবেলকে খুলনা থেকে গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তারকৃত মো: রুবেল হোসেন উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম নোয়াগাঁও কালা
মেস্ত্রী বাড়ীর মোঃ সিরাজ মিয়া ছেলে ও একই বাড়ীর সম্পর্কে হতভাগ্য শিশু নুশরাতের চাচা।
সোমবার সাড়ে ১১টায় লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার আ.স.ম মাহতাব উদ্দিন রামগঞ্জ থানায়
আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং এ জানান, দেশব্যাপী আলোচিত শিশু নুসরাত ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের
মূল আসামী রুবেলকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রেপ্তার করেন। শিশু নুসরাতকে ঘাতক রুবেল
আইসক্রিম খাওয়ার লোভ দেখিয়ে ২৩ মার্চ শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজের সময়ে তার ঘরে
ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর তাকে শাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। ঘাতক রুবেল বোরহানের
সহোযোগিতায় লাশ ব্যাগে ভরে সিএনজি যোগে ওইদিন রাত্রেই কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের
ব্রহ্মপাড়া গ্রামের ঠাকুর বাড়ীর সামনের ব্রীজের নিচে ওয়াবদা খালে ফেলে দেয়।
রামগঞ্জ থানা পুলিশ ২৬মার্চ সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় শিশু নুশরাতের অর্ধগলিত বস্তা ও
ব্যাগভর্তি লাশ উদ্ধার করে জেলা মর্গে প্রেরণ করেন। ব্যাগ ও বেল্ট ইস্যুকে কেন্দ্র করে পুলিশ ওই
গ্রামে অনুসন্ধান করেন। ওই ব্যাগ,ব্যাল্ট ফেসবুকে ভাইরাল হলে শিশু লাশ বহনকারী নোয়াগাঁও
গ্রামের সিএনজি চালক রাকিবুল হাসানের নজরে আসে। রাকিবুল হোসেন স্থানীয় ইউপি
চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন রানাকে অবহিত করেন লাশের সাথে ব্যাগ ও বেল্ট পেছানো
বস্তাটি রুবেল (ঘাতক) তার সিএনজি ভাড়া করে কাঞ্চনপুর ইউপির ভ্রাম্ম্যপাড়া ঠাকুর বাড়ির
ব্রিজের সামনে নিয়ে যায়। রাকিবুল হোসেন পুলিশ হেফাজতে বলেন শিশু নুশরাত হত্যার কোন
ঘটনা তিনি জানেন না।
নুশরাত জাহান নিশু গ্রেপ্তারকৃত ঘাতক রুবেল খুবই চালাক। শিশু নুসরাতের লাশ উদ্ধারের
ঘাতককে গ্রেপ্তারের দাবীতে আয়োজিত বিভিন্ন মানবন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহন
করে এবং রামগঞ্জ থানায় একাধিকবার যাতায়াত করেন।
কিন্তু ব্যাগ ও বেল্ট ছবি সংযুক্ত লিফলেট ফেসবুক,পত্র-পত্রিকায় দেখলে সে আতœগোপন করে
চাঁদপুর তার শ্বশুর বাড়ীতে অবস্থান করেন। সংবাদ পেয়ে লক্ষ্মীপুর থেকে পুলিশের একটা স্পেশাল টিম
ঘাতকের শশুর বাড়ি চাঁদপুর প্রেরণ করলে টের পেয়ে রুবেল পালিয়ে কুমিল্লায় গিয়ে ঢাকা ও
চট্রগ্রামের দুইটা বাসের টিকেট কেটে সে ফেরিযোগে শরিয়তপুর হয়ে খুলনায় প্রবেশ
করেন।
প্রযুক্তি মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশের স্পেশাল টিম খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের
সহোযোগিতায় ঘাতক রুবেলকে গ্রেপ্তার করেন।
উল্লেখ্য গত ২৩শে মার্চ শুক্রবার উপজেলার পশ্চিম নোয়াগাঁও কালামিয়া মেস্ত্ররী বাড়ির প্রবাসী
এরশাদ হোসেনের মাদ্রাসায় তৃতীয় জামাতের ছাত্রী নুশরাত জাহান নিশু (৮)কে আইসক্রীম লোভ
দেখিয়ে ঘাতক নিজের ঘরে নিয়ে জোর পূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পরেই নুশরাতকে
শ্বাসরোধে হত্যা করে একটি ব্যাগে লাশ ভর্তি করে নিজের ব্যবহ্রৃত ব্যাল্ট দিয়ে ব্যাগ মুছিয়ে
রাখেন। সন্ধ্যায় সিএনজি চালক রাকিবুল হোসেনের গাড়ী দিয়ে কাঞ্চনপুর ইউপি ঠাকুর
দিঘীর ব্রিজের সামনে নামে।
নুশরাত নিখোজ হওয়ার সাথে সাথে ফেসবুক,মাইকিং.প্রতিটি মসজিদের মাইকে,থানায়
ডায়েরী করা হয়েছে। নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় মিডিয়াতে। নুশরাতের বাবা এরশাদ
হোসেন বাড়ী থেকে কাতার যাওয়ার ১মাস ১২দিন্ধেসঢ়;র মধ্যে সন্ধান নিখোঁজ শুনে শনিবারে
বাড়ী এসে অচেতণ হয়ে পড়েন। সোমবার নুশরাতের বস্তাবর্তী গলিত লাশ ভ্রাম্ম্যপাড়া ঠাকুর
বাড়ির খালে ভাসতে প্রত্যক্ষদর্শিরা পুলিশকে জানান। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে
নুশরাতের গলিত লাশ উদ্বার করলে নিহত নুশরাতের পরনের পোষাক দেখতে পেয়ে স্বজনেরা সনাক্ত
করেন। পুলিশ প্রাথকিম সূরত হালে নুশরাতকে ধর্ষণ করে শ্বাসরোধে হত্যার আলামত পান।
এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে গত সোমবার থেকে ঘাতক রুবেল আটকের পূর্ব মুহূর্তে রামগঞ্জ সহ
দেশব্যাী প্রাথমিক,মাধ্যমিক,উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নুশরাত হত্যার
ঘাতকের গ্রেপ্তার দাবীতে মানববন্ধন,ফেসবুকে উত্তাল হয়ে পড়েন। বিভিন্ন জাতীয়,স্থানীয়
পত্রিকা,ইলেকট্রনিক্য্র মিডিয়াতে সংবাদ ফলাও হয়।