মোঃ রুহুল আমীন, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
নওগাঁয় জেলার অন্যতম বৃহত্তম সেতু বয়তুলাহ সেতুর দুই প্রান্তের রাস্তা আজও
পাকাকরণ না হওয়ায় প্রতিদিন চরমভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এলাকাবাসী।
স্বাধীন বাংলার প্রথম ডেপুটি স্পিকার মরহুম বয়তুল্লাহর নামে আত্রাই নদীর উপর
আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া নামক স্থানে এই সেতু নির্মাণ করা হয়। এই সেতু
হচ্ছে আত্রাই, রাণীনগর, বাগমারা তিন উপজেলা হতে নওগাঁ জেলা শহরের প্রবেশপথ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির নির্মাণের পর আনুষ্ঠানিকভাবে
উদ্বোধন করা না হলেও শতভাগ কাজ শেষ হওয়ার কারণে তিন উপজেলার হাজার হাজার
মানুষের চলাচলের জন্য এই সেতুটি উম্মুক্ত করে দেয়া হয়। কিন্তু সেতুটির দুই
পাশের সংযোগ সড়কের দুইপাশের রাস্তার কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে যায়। সেতুতে
প্রবেশ পথের সকল সড়ক গুলো পাকাকরণ করা হলেও সেতুর প্রবেশপথে কোন কাজ
রাস্তা করা হয় নাই।
উপজেলা প্রকৌশলী সূত্রে জানা যায়, গত ২০১২-১৩ অর্থ বছরে নওগাঁর সড়ক ও
জনপদ বিভাগ হতে স্থানান্তরিত ১শত ৭৫ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজের
নির্মাণ প্রকল্পটি জিওবি তহবিলের আর্থিক সহযোগিতায় প্রায় ১০ কোটি
টাকা ব্যয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে ১বছরের মধ্যে সেতুটির নির্মাণ
কাজ সম্পন্ন করা হয়। এরপর দুই উপজেলার জনসাধারণের চলাচলের জন্য উদ্বোধনের
আগেই সেতুটি উম্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সেতুটির উপড় দিয়ে ছোট ছোট
যানবাহন সহ জনসাধারণ চলাচল করে।
বান্দাইখাড়া গ্রামের অনেকজন জানায় সেতুতে প্রবেশপথের রাস্তার কাজ না করার
জন্য একটু রোদ হলে হয় প্রচন্ড ধুলাবালি ও বৃষ্টি হলে হয় কাদা। জীবনের ঝুঁকি
নিয়ে সেতুতে উঠতে হয়। সেতুতে প্রবেশপথের এক পূর্ব পার্শে অনেক উচু
হওয়ায় রোদ বৃষ্টির ভেতর যানবাহন নিয়ে চলতে অনেক সময় ঘটেছে দুর্ঘটনা।
বান্দাইখাড়ার স্থানীয় ইউপি মেম্বার আবু তালেব জমির জানায়, বান্দাইখাড়া মরহুম
বয়তুল্লাহ সেতুর দুই,প্রান্ত বেহাল অবস্থা। হাজার হাজার জনসাধারনের একমাত্র
রাস্তা এটা। একেবারে চলাচলের অনুপযোগী। গাড়ী চলাচলের ব্যাপক দুর্ভোগ।
জনগনের এই দুর্ভোগ দেখে হাটকালু পাড়া ইউনিয়নের অবিভাবক হাটকালুপাড়া
ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুস শুকুর সরদার নিজস্ব উদ্যোগে রাস্তাটি সংস্কারের
কাজ করছেন। তাতে সাময়িক ভাবে লোকজন যাতায়াত করতে পারবে। বিধায় এল জি
ইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও এম, পি মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষন করছি,
অনতিবিলম্বে, তদন্ত সাপেক্ষে রাস্তাটি মেরামতসহ পাকাকরণ করে এলাকা বাসির
দুর্দশা লাঘব হবে এমনটা মনে করে, সচেতন মহল।