দামুড়হুদা প্রতিনিধি ::-
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর গ্রামে আরজিনা বেগম (৪০) নামের
এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের ছেলে ইমন আলী
ওই অভিযোগ করেন। শনিবার গভীর রাতে এই হত্যাকাÐের ঘটনা ঘটে। রোববার সকাল
১০ টার দিকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহরতর ভাই মওলা বক্স বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি হত্যা
মামলা দায়ের করেছেন। এই হত্যার সাথে জড়িত এজাহার নামিয় ৩ জন নিহত
গৃহবধুর শ্বশুর সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক, শ্বাশুড়ি মনোয়ারা খাতুন ও
সতিন মনোয়ারা বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জুড়ানপুর গ্রামের হাসাদুলের সাথে প্রায় ২৫
বছর আগে কুষ্টিয়ার সাকধারচর গ্রামের বিল্লাল মন্ডলের মেয়ে আরজিনা খাতুনের
বিয়ে হয়। পরে হাসাদুল যশোরে মনোয়ারা খাতুন নামের এক মহিলার সাথে দ্বিতীয়
বিয়ে করে। এরপর থেকে সংসারে শুরু হয় অশান্তি। হাসাদুল দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে
যশোরে বসবাস করছিল। দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে গত মঙ্গলবার গ্রামের বাড়িতে
আসে হাসাদুল। এ নিয়ে প্রথম স্ত্রী আরজিনা বেগমের সাথে হাসাদুলের
পরিবারের বিবাদ সৃষ্টি হয়। শানবার দিনগত রাতে একই কারণে তাদের মধ্যে
বাগবিতÐা হয়।
নিহতের ছেলে ইমনের অভিযোগ, দ্বিতীয় বিয়ের পর বাবা হাসাদুল, দাদা
সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক, দাদি মনোয়ারা ও সৎ মা মনোয়ারা তার মায়ের
উপর অত্যাচার শুরু করে। শনিবার গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে তারা আমার মা আরজিনা
খাতুনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বাড়ির উঠানের একটি কুলগাছের সাথে
ঝুলিয়ে রাখে তার বাবাসহ পরিবারের লোকজন। ঘটনার পর থেকে তার বাবা হাসাদুল
পলাতক রয়েছে।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকরাম হোসেন
জানান, খবর পেয়ে রোববার সকাল ১০টার দিকে আরজিনা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে
ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মওলা
বক্স বাদী হয়ে হাসাদুলসহ ৪ জনকে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের
করেছেন। পরে অভিযান চালিয়ে নিহত আরজিনার শ্বশুর সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল
খালেক, শ্বাশুড়ি মনোয়ারা খাতুন ও সতিন মনোয়ারা বেগমকে গ্রেফতার করা
হয়েছে। হাসাদুল পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালানো হচ্ছে।