বি এ সিদ্দিকি, চট্রগ্রাম থেকে ঃ-
মূল ভূখণ্ড থেকে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ৪ লাখ মানুষের জনপদ বিচ্ছিন্ন ছিল জাতীয় গ্রীড থেকেও। কাংক্ষিত উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে ছিল এই জনপদ। দেশের প্রতিটি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া প্রকল্পের আওতায় জাতীয় গ্রিড থেকে সন্দ্বীপে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে একনেক বৈঠকে প্রকল্পটির জন্য ১৪8 কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
সন্দ্বীপবাসীর বহুল প্রতিক্ষিত এই সাবমেরিন প্রকল্পের কাজ ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে। পুরোদমে চলছে কাজ। তবে
বেঁধে দেওয়া সময়ের আগে শেষ হচ্ছে না সাবমেরিন এর কাজ। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড
জানিয়েছিল ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হবে এবং ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বিদ্যুৎ এর আলোয়
আলোকিত হবে সন্দ্বীপবাসী। কিন্তু কাজ শুরুই হয়েছে ডিসেম্বারে। ১৭ ডিসেম্বর চীন থেকে আনা সাবমেরিন ক্যাবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে সন্দ্বীপ উপকূলে তিনটি জাহাজ নোঙর করেছে।
চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ বিতরণ সিস্টেম প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সাব মেরিনের কাজ আরও আগ থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্ষাকালে সন্দ্বীপ চ্যানেল উত্তাল ছিল তাই কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান আগামি জুন মাসে কাজ শেষ হতে পারে। জানা গেছে, সাগরের তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে সীতাকুণ্ডের বাকখালী থেকে সন্দ্বীপের বাউরিয়া পর্যন্ত সন্দ্বীপ চ্যানেলে দীর্ঘ ১৫ কি. মি. জুড়ে টানা হবে সাব মেরিন ক্যাবল, এর মাধ্যমে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে আওতায় চায়নার এইচডি এস এস জেডটিটি ও সিসিই তিনটি কোম্পানি যৌথভাবে এ প্রকল্পটির কাজ শেষ করবে। পূর্ব সন্দ্বীপ হাই স্কুল সংলগ্ন গুপ্তছড়া–সন্দ্বীপ সড়কের পাশে কাজ এগিয়ে
চলছে পাওয়ার সাব–স্টেশন নির্মাণ কাজ । সাব স্টেশনের নির্মাণের সরঞ্জামাদি ইতোমধ্যে সন্দ্বীপে আসতে শুরু করেছে।
সন্দ্বীপে বর্তমানে সরকারীভাবে ইংল্যান্ড থেকে আমদানীকৃত ২টি জেনারেটরের মাধ্যমে প্রায় ২০০০ গ্রাহককে প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এ বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ পড়ে প্রতি ইউনিটে ২০ টাকারও বেশি। পুরবী এনার্জি নামে একটি বেসরকারী সোলার প্ল্যান্টও দ্বীপের এনাম নাহার এলাকায় ১ বর্গ কি. মি. জুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। এ বিদ্যুৎ ব্যবহারে গ্রাহকদের ইউনিট প্রতি ৩৩ টাকা বিল গুণতে হয়। দ্বীপের প্রত্যন্ত এলাকায় কয়েক হাজার গ্রাহক সোলার প্যানেলের মাধ্যমে কোন মতে আলোর চাহিদা পূরণে চেষ্টা করছে। এ প্যানেল থেকে বর্ষাকালে আলো পেতে নানা ভোগান্তি লেগেই থাকে। এ বিদ্যুৎ দিয়ে ফ্যান চালানো কিংবা অন্যান্য সুবিধা নেয়া কঠিন এবং অপষ্ট আলোয় ছাত্র–ছাত্রীদের লেখাপড়া করতে গিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ হলে এখানকার প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণসহ বিভিন্ন েতে্র বিনিয়োগের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
গড়ে উঠবে ছোট ছোট শিল্প কারখানা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে পর্যটন স্পট সৃষ্টির পাশাপাশি এখানকার মৎস্য, কৃষি ও দুগ্ধজাত শিল্প বিকাশের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণে ব্যাপক সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।