মোঃ আশিকুর রহমান টুটুল, নাটোর জেলা প্রতিনিধি:-
নাটোরের লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া ইউনিয়নের দিলালপুর রায়পুর সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয় সংলগ্ন বয়ে চলা এক সময়ের খরস্রোত চন্দনা নদী দখল করে অবৈধভাবে দ্বিতল
পাকা দোকান ঘর নির্মাণ করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। প্রকাশ্যে নদী দখল করে
অবৈধভাবে দ্বিতল পাকা ভবন নির্মাণ করা হলেও এতে কোন মাথা ব্যাথা নেই প্রশাসনের।
এই ভাবে অবাধে নদী দখল হতে থাকলে বর্ষা মৌসুমে নদীর স্বাভিক গতি প্রবাহ বাঁধা
গ্রস্থ হবে এমন কি নদী রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হতে পারে বলে
ধারণা করছেন স্থানীয়রা। এদিকে নদীর অবৈধ দখল ঠেকাতে স্থানীয়রা লালপুর উপজেলা
প্রশাসনকে অবগত করলেও তার কোন ফল মিলেনি গত এক বছরেও এতে স্থানীয়দের মাঝে
চাঁপা খোব বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানায়, দিলালপুর রায়পুর গ্রামের তালেব আলীর ছেলে
বাবলু, মায়নুর ও একই গ্রামের মৃত মসলেম আলীর ছেলে আনোয়ার আলী গত ২০১৭ সালের
মে মাস থেকে চন্দনা নদীর মধ্যে (আর সি সি) পিলার দিয়ে ঘর নির্মাণ শুর করেছিলো যা
এখন পূর্ণাঙ্গ একটি দ্বিতল পাকা দোকান ঘরে রূপ নিয়েছে। এর মধ্যে মায়নুর মারা
গেছে। যদিও গত ২০১৭ সালের মে মাসে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আবু তাহির
একবার ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিক ভাবে ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। কিন্তু
প্রভাবশালীরা প্রশাসনের সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আবার কাজ শুরু করে। তারা আরো
বলেন, এই দোকান ঘর এখন টাকার বিনিময় ভাড়া দেওয়া আছে। ঘর নির্মাণকারীরা
এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের কেউ কিছু বলে না। এদিকে বুধবার সকলে সরেজমিনে
গিয়ে দেখা গেছে নবনির্মিতি দ্বিতল এই দোকানের ঘর ভাড়া দিয়ে চলছে ব্যবসা। এ
ব্যাপারে ঘর নির্মাণকারী বাবলু বলেন, ‘এই এলাকার ছেলেরা খেলাধুলা করে। তার জন্যই
ক্লাব হিসেবে ঘরটি তৈরী করা হয়েছে। তবে ভাড়া দেওয়ার বিষটি তিনি অস্বীকার
করেছেন।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ও এলাকাবাসি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা স্থানীয়
প্রশাসন কে অনেক বার জানিয়েছি কিন্তু ব্যবস্থা নিচ্ছি বলে বছর পার হলেও তার কোন
কাজ হচ্ছেনা। এই নদীর অবৈধদখল বন্ধ করতে অনেক চেষ্ট করেও তা রক্ষা করতে পারিনি।’
নদীটির অবৈধ দখল মুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তিপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন
স্থানীয়রা।
এদিকে নদীর অবৈধ স্থাপানা উচ্ছেদের জন্য নথি তৈরী হচ্ছে বলে জানিয়েছেন লালপুর
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম।