মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
চোরাচালানের সোনা লুটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার প্রত্যাহার করা হলো ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মেদ কবিরকে। শনিবার (২০ জানুয়ারি) সকালেই স্টেশন ত্যাগ করেছেন তিনি। এ পর্যন্ত লুটের ৩ কেজি ৪০০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে দুইজনকে। ঘটনার প্রধান নায়ক কোটচাঁদপুর পৌরসভার কমিশনার রেজাউল পাঠানকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা যায়নি।
খবরের সত্যতা স্বীকার করে এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ বলেছেন, প্রশাসনিক কারনে মহেশপুর থানার ওসিকে প্রত্যাহারের নিদের্শ কার্যকর করা হয়েছে এবং বর্তমানে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে তাকে। শুক্রবার খুলনা বিভাগীয় রেঞ্জ ডিআইজি দিদারুল আলম মহেশপুর থানার ওসি প্রত্যাহারের নির্দেশ জারি করেন। এর আগে একই থানার আরো দুইজন এস,আইসহ ৮ পুলিশ সদস্যকে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। চলছে তদন্ত। বেরিয়ে আসছে সোনা চোরাকারবারীদের গডফাদারের নাম। সঠিক ভাবে তদন্ত করা হলে ফেঁসে যেতে পারেন অসৎ আরো কতিপয় পুলিশ সদস্য।
পুলিশ সুত্র জানায়, চলতি মাসের ৪ তারিখ দিবাগত ভোর রাতে জেলার কালীগঞ্জ- জীবননগর সড়কের পুরন্দপুর এলাকায় ঢাকার গাবতলি থেকে ছেড়ে আসা দর্শনাগামী সোনারতরী নামের নৈশকোচ থামিয়ে চোরাচালানের বিপুল পরিমান সোনা লুট করা হয়। এ ঘটনা ধামা দেওয়ার চেষ্টা করে সংশ্লিষ্ট মহেশপুর থানা পুলিশ। ৬ জানুয়ারি থানা পরির্দশনের সময় বিষয়টি জানতে পারেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ। এরপর তার নির্দেশে পুলিশ বাদি হয়ে থানায় একটি বাস ডাকাতির মামলা দায়ের করা হয়। ৭ জানুয়ারি এ ঘটনায় জড়িত সন্ধেহে ওই থানার একজন এসআইসহ ৪ পুলিশ সদস্যকে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। ৯ জানুয়ারি দায়িত্ব অবহেলার দায়ে আরো একজন এসআইসহ ৪ জন পুলিশ সদস্যকে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।
গতকাল শুক্রবার ভোর রাতে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে ৩ কেজি ৪০০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে প্রত্যাহার করা হলো। সাতক্ষীরা জেলা থেকে নতুন ওসি যোগদান করছেন বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত: চোরাচালানীর সোনা উদ্ধারের পরে গায়েব করে দেওয়ার আরো কয়েকটি ঘটনা ইতিপুর্বে ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে উদ্ধার করা কোটি কোটি টাকার সোনা হজম করতে সাজানো হয়েছে নানা নাটক। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে গোয়েন্দা দল মাঠে নামলেও আজো কিনারা করতে পারেননি তারা।
লুট করা সোনা উদ্ধারের অভিযানের নেতৃত্ব দানকারী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ বলেছেন ঘটনার প্রধান হোতা কোটচাঁদপুর পৌরসভার কমিশনার রেজাউল পাঠানকে ধরার জন্য অভিযান চলছে। তার কাছে লুট করা সোনার একটি বড় অংশ রয়েছে বলে গ্রেফতার করা সোনারতরী পরিবহনের ম্যানেজার পটলার কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
এমাআরউ