রামগঞ্জ প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কাটাখালী এসটিসি এবং দেহলা মদিনা
ইটভাটার কতৃপক্ষ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ফসলি জমির টপ সয়েল লুটের
মহোৎসব চালিয়েছে। ইটভাটার মালিক ও ট্রলি গাড়ীর মালিকের
যোগসাজসে সরকারী খালপাড়ের মাটিগুলো তোলা হচ্ছে ইটভাটা। ভাটার
বর্জগুলো খালের পানিতে ফেলে দেওয়ায় পানিগুলো কালো-তৈলাক্ত বর্ণ ধারন
করে। সেচ প্রকল্পের আওয়াতাধীন কৃষি জমিনে উক্ত পানি ব্যবহার করতে ফসল
নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে চলতি বছরে ইরি-রোবো লক্ষ্য মাত্রা অর্জনে বাধা হওয়ার
সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে সোমবার সকালে গিয়ে দেখা যায় দেহলা মাঠে ৫০টি ট্রলি
গাড়ীতে ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে মদিনা ইটভাটাতে নেওয়া হচ্ছে।
শ্রমিকেরা সরকারী খালের পাড়ের মাটি গুলো কেটে একই ভাবে ভাটাতে
তুলছে। কাটাখালী এসটিসি ইটভাটার মালিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে
ড্রেজিং মিশিন বসিয়ে সরকারী খাল সংলগ্ন স্থানে বালি তোলায় খালের
পাড়,কৃষকের জমি,সেচ প্রকল্পের ড্রেন ভেঙ্গে পড়ছে এমনকি সেচ প্রকল্পে
থাকায় বিদ্যুতের পিটার উপড়ে পড়ছে। দেহলা-সমেষপুর মাঠের কৃষক মফিজ
উল্যাহ,মোস্তফা রশিদ বলেন,দেহলা ইটভাটার মালিক আমির হোসেন মজুমদার
নানা ভাবে প্রবাহিত করে নামমাত্র টাকা দিয়ে ফসলি জমিনের টপ সয়েলগুলো
কেটে নিচ্ছে। কেই মাটি দিতে অস্বীকার করলে তার জমিনের ফসল নষ্ট করে
দেয়।কিছু কিছু জমির এবং খালপাড়ের মাটি কেটে খালের তলার চেয়ে গভীর
করায় জমিনে পানি তোলা সম্ভাব হচ্ছে না। কাটাখালী সেচ প্রকল্পের
ম্যানেজার আকবর হোসেন ও কৃষক হাবিবসহ কয়েকজন বলেন,কাটাখালী
টিএসসি ইটভাটার মালিক মমিন হোসেন স্থাণীয় এক জনপ্রতিনিধির
দাপট দেখিয়ে সরকারী খাল সংলগ্ন স্থানে ৮শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করে ড্রেজার
মিশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে। বালু উত্তোলন শেষে পানি নিস্কাশন করতে
গেলে খাল পাড়,কৃষি জমি,সেচ প্রকল্পের পানি সরবরাহ ড্রেনভেঙ্গে পড়ে
এবং বিদ্যুতের পিলার উপড়ে পড়ে। মৌসুম শুরুতে সেচ প্রকল্পের ড্রেন ভেঙ্গে
পড়ায় ৫০একর জমিনে ইরি চাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়ছে। ব্রর্মপাড়া
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলারা জাহান বলেন, কাটাখালী
এসটিসি ইটভাটার তৈল পোছানো ধোয়ার গন্ধে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে
পারছে না। দেহলা মদিনা ই্ধসঢ়;টভাটার মালিক আমির হোসেন মজুমদার
বলেন,ভাটার মালিকেরা উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে,ডিসির
এলআর ফান্ডে,নোয়াখালীতে পরিবেশ অধিদপ্তর,কৃষি অফিস সহ বিভিন্ন
দপ্তরে ৮ লক্ষাধিক টাকা দিয়ে ভাটা চালাতে হচ্ছে। লেখালেখি করলে যারা ব্যবস্থা
নিবে আমরা আগেই তাদের মুখ বন্ধ করে রেখেছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবু ইউসুফ বলেন,শীগ্রই ইটভাটার
অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।