গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:
নাটোরের গুরুদাসপুরে নিখোঁজের দুইদিন দিন পর খাদিজা (৭) নামে এক ছাত্রীর
বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের বিলশা
গ্রামের একটি পুকুর থেকে পুলিশ ওই লাশ উদ্ধার করে নাটোর মর্গে পাঠিয়েছে।
এদিকে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের বাদল ভক্তি (৪২) ও তার স্ত্রী
নাজমা বেগম (৩৮) ও বাদলের ভাতিজা নজরুল ইসলাম (৩৫) কে আটক করেছে পুলিশ। ওসি
দিলীপ কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খাদিজার পরিবারের পক্ষ থেকে
হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকান্ডের বিষয়ে আঁটককৃতদের
জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খাদিজা বিলশা গ্রামের মনিরুল ইসলামের মেয়ে। বিলশা দাখিল
মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল খাদিজা।
অন্যদিকে শিশু খাদিজার লাশ উদ্ধার ও জড়িত সন্দেহে আঁটকের ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাদল
ভক্তি ও শহিদুল ভক্তির বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খুবজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ওই
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
খাদিজার চাচা মুরশিদ অভিযোগ করেন, পুর্ববিরোধের জের ধরে আঁটককৃতরা তার
ভাতিজি খাদিজাকে কৌশলে অপহরণ করে। সুযোগ বুঝে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দি করে
আঁটককৃতদের বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। শুক্রবার লাশ ভেসে উঠলে ঘটনাটি প্রকাশ
পায়।
খাদিজার বাবা মনিরুল ইসলাম জানান, বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে
খাদিজা নিখোঁজ হয়। বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত বাড়িতে ফিরে না আসায়
উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তারা। পরে সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজাখুঁজি, এলাকায়
মাইকিং করে না পেয়ে বৃহষ্পতিবার গুরুদাসপুর থানায় জিডি (নম্বর-৮৩৫) করা হয়।
খাদিজার চাচা মুরশেদ আলম ভক্তি ওই ডায়েরীটি করেন।
মুরশিদ তার ভাতিজি খাদিজাকে হত্যার কারন উল্লেখ করে আরো অভিযোগ করেন, ২০১২
সালে তার চাচাতো ভাই শাহ আলম খুন হয়। ওই হত্যাকান্ডের ঘটনায় শাহ আলমের ছোঁট
ভাই হাসান ভক্তি বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।
ওই মামলায় বাদলভক্তির চাচা শহিদুল ভক্তি, চাচাতো ভাই নজরুল ভক্তিসহ দেলোয়ার ভক্তি,
আসলাম ভক্তি, আসাদ ভক্তি, স্বাধীনুর রহমান ভক্তি, মোতালেব হোসেন ভক্তি, আব্দুর রশিদ ভক্তি,
দশরত হোসেন ভক্তি, জাহাঙ্গির ভক্তি আসামী ছিলেন। ওই মামলায় এসব আসামীরা জামিনে
রয়েছেন। খাদিজার পরিবারের অভিযোগ ওই বিরোধের জের ধরেই খাদিজাকে কৌশলে
অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, নিহত শিশু খাদিজার বাবা মনিরুল ইসলাম ও মা
রাখী বেগম বিলাপ করছেন। প্রতিবেশিরা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে।
বিলাপের সুরে বাদল ও তার স্ত্রী নাজমা বেগমকে হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী করছেন। তারা
খাদিজা হত্যাকান্ডের জড়িতদের ফাঁসি দাবী করছেন।
গুরুদাসপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তারেকুর রহমান সরকার জানান, স্থানীয়দের দেওয়া
তথ্যের ভিত্তিতে বাদল ভক্তির ঘর থেকে রক্তমাখা একটি পিঁড়ি জব্দ করেছে পুলিশ।