শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে কোনো পশু সংকট নেই – সাভারে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ সাভার ও আশুলিয়ায় অপরিকল্পিত বাসা বাড়িতে বসবাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জনগণ প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকার-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী   কুমিল্লার নাগরিক সেবায় নতুন অধ্যায়: গঠিত হচ্ছে ওয়াসা ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে ছোট পাইপ স্থাপনের অভিযোগ আশুলিয়ার জামগড়া ইস্টার্ন হাউজিং বাজারে জলাবদ্ধতায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির, ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ গৃহবধূ হত্যা মামলার আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার! আশুলিয়ার বাইপাইল- ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং কতৃক অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র অপহরণের পর হত্যা: ২০ মাস পর লাশ উত্তোলন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কলাপাড়ায় লালুয়া ইউনিয়নে সিডরে সাত গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ১০ বছরেও নির্মান হয়নি 

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭
  • ৩৭২ বার পড়া হয়েছে

পারভেজ, কলাপাড়া প্রতিনিধি :  পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৩ নং লালুয়া ইউনিয়নের সিডরের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও  ভাঙ্গনকবলিত ক্ষতিগ্রস্ত রামনাবাদ নদের মোহনা ঘেষা সাতটি গ্রামের মানুষের নিরাপত্তায় নেয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ। অন্য দিকে রাবনাবাঁধ ভাঙ্গনের সাত গ্রামের মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। এলাকাবাসী রামনাবাদ  নদীর ভাঙ্গনরোধে শক্ত বেরিবাঁধ চান। যুগযুগ ধরে ঝড়,জলোচ্ছাসে সর্বস্ব হারাচ্ছে এখানকার মানুষ। প্রাকৃতিক দূর্যোগের সাথে যুদ্ধ করতে করতে এ গ্রামগুলোর ১০ সহস্রাধিক মানুষ আজ নিঃস্ব। ঝড়, জলোচ্ছাস হলেই নিশ্চিত মৃত্যু এমন আশংকায় থাকলেও তাদের নিরাপত্তায় আজও নির্মাণ হয়নি একটি আশ্রয়কেন্দ্র উপজেলার ৩ নং লালুয়া ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া, ছোট পাঁচনং, হাসনাপাড়া, নাওয়াপাড়া, ধনজুপাড়া, এগার নং হাওলা এবং মুন্সীপাড়া গ্রামে কোন আশ্রয়কেন্দ্র নেই। এ গ্রামগুলো ঘুরে দেখাযায়, চারিদিকে শুধুই ধংসের চিহ্ন। মাঠে ফসল নেই। বাড়ির পুকুরে নদীর জোয়ার ভাটার ওঠানামা করছে। প্রায় প্রতিটি বাড়ির চারপাশে শ্যাতশ্যাতে কর্দমাক্ত। একটি মাটির রাস্তা ও অক্ষত নেই।বেড়িবাঁধ গুলো ভেঙ্গে যাওয়ায় এক গ্রামের সাথে অন্য গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। দিনমজুর ও মাছধারা পেশায় নিয়োজিত হতদরিদ্র এ আটটি গ্রামের মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য নাওয়াপাড়া গ্রামে ৪০ বছর আগে পাঁচ একর জমির উপর একটি মাটির কিল্লা নির্মান হলেও তা এখন পরিত্যক্ত প্রায়। এ মাটির কিল্লায় ওঠার নেই কোন রাস্তা। খাল সাঁতরিয়ে দূর্যোগের সময় এ মাটির কিল্লায় মানুষ আশ্রয় নিতে হয়।২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্নিঝড় সিডরের সময় এ কিল্লায় আশ্রয় নিতে গিয়ে নাওয়াপাড়া গ্রামের শেরআলী বয়াতী (৭০) এক বৃদ্ধ পানিতে ডুবে মারা গেছে। আহত হয়েছে শতাধিক মানুষ। নাওয়াপাড়া গ্রাম থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে বানাতিপাড়া আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে গাছচাপা পড়ে পগুত্ব বরন করতে হয়েছে এ গ্রামের মোখলেছ(৪০)কে। একই ভাবে আয়লা’র তান্ডবে এ গ্রামগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এ গ্রাম গুলোর প্রটেকশন বেড়িবাঁধ একাধিক স্থান থেকে ভেঙ্গে যাওয়ায় এ অবস্থা সৃষ্ঠি হয়েছে।এ সাতটি গ্রামের দশ সহস্রাধিক মানুষকে ঝড়, জলোচ্ছাসের সময় আশ্রয় জীবন বাঁচাতে রহিমুদ্দিন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বানাতিবাজার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় , চাড়িপাড়া রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘূর্নিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র হচ্ছে এখন একমাত্র ভরসা। যা ওই সাতটি গ্রাম থেকে ৪/৫ কিলোমিটার দূরে। একারনে ঝড় হলে এ গ্রামগুলোর মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়।এ গ্রামের স্কুল পড়ুয়া একাধিক ছাত্র-ছাত্রী জানায়, হগল গ্রামে স্কুল থাকলেও মোগে গ্রামে স্কুল নাই। যদি স্কুল থাকতো তাইলে ঝড়ের সময় আমরা স্কুলে যাইয়া ওঠতে পারতাম। বই খাতা বাচাইতে পারতাম। মোগে ক্ষতি হইতো না।চৗধুরীপাড়া, ছোট পাঁচনং, হাসনাপাড়া, নাওয়াপাড়া, ধনজুপাড়া, এগার নং হাওলা এবং মুন্সীপাড়া গ্রামের শতশত মানুষ জানায়, সিডরের পর থেকে এ গ্রামের মাঝামাঝি একটি আশ্রয় কেন্দ্র বানানোর জন্য আবেদন করলেও তাদের আর্তি কারও কাছে পৌছেনি। এ কারনে সব ঝড়,বৃষ্টিতে এ গ্রামগুলোর মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছে।লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর তারিকুজ্জামান তারা জানান, আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় লালুয়ার সাত গ্রামের মানুষের দূর্ভোগের শেষ নেই। জরুরী ভিত্তিতে এখানে আশ্রয় কেন্দ্র দরকার।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451