“আর্তের তরে সেবা দান, প্রভাত হোক জাগ্রত চেতনার আহ্বান” এই স্লোগানকে সামনে রেখে বৃহষ্পতিবার (২ নভেম্বর) চাঁদপুর সদর উপজেলার মান্দারী সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায় প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থা, মহামায়া শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০টায় রক্তদান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা বিনিময়, পারস্পরিক সম্পর্ক সৃষ্টিবিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। প্রভাত মহামায়া শাখার সভাপতি মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সাধারন সম্পাদক মো. মাসুদ হোসেনের সঞ্চালনায় অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান জনাব স্বপন মাহমুদ, মান্দারী আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নেছার আহমাদ, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউপি সদস্য মো. কামরুল হোসেন মোল্লা, মান্দারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. এমেলী খান, প্রভাত মহামায়া শাখার উপদেষ্টা ও মহামায়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. কামাল হাজী, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী আলী আরশাদ গাজী, মাদ্রাসার সহ:অধ্যাপক মাওলানা আঃ হাই।
এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রভাত হাজীগন্জ শাখার সদস্য সালাহউদ্দিন সাকিব, নাছির হোসেন, মো. রবিউল, রাছেল শিকদার, শাহরাস্তি শাখার সভাপতি তানজিজুল আজিজ, প্রভাত মহামায়া শাখার সহ:সাধারন সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম নোবেল, সহ:সভাপতি জুয়েল হাজী, সাঙ্গঠনিক সম্পাদক রিয়াদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক জান্নাত আক্তার, সহ:নারী ও শিশু সম্পাদ মিস জান্নাত, সহ:ক্রিয়া সম্পাদক মো.কাউসার, সমাজকল্যাণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম হানিফ, ত্রাণ ও দূর্যোগ সম্পাদক মো.রিয়াদ হোসেন, সদস্য জেসমিন আক্তার, মিনহাজ পাঠান, এইচ এম শামীম, আকলিমা আক্তার। টেকনেশিয়ান সাকিব, আবু সাঈদ, মাইনুল ইসলাম, অন্তরসহ বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ বলেন, রক্ত দিলে কারও কোন ক্ষতি হয় না। বরং অন্যের উপকার হয়। তাই রক্ত দেয়ার ব্যাপারে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। আমি নিজেও রক্ত দিবো। কারো যদি রক্ত লাগে দিন রাত যে কোন সময় আমি রক্ত দিতে প্রস্তুত। এবং প্রভাত মহামায়া শাখার সদস্যদের উদ্যেশে বলেন, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে রক্তের অভাবে যেন একজন মানুষও মারা না যায় সে জন্য আপনারা আপনাদের কার্যোক্রম চালিয়ে যান। এখানে যা যা করা দরকার আমার সর্বাত্তক সহযোগীতা থাকবে।
এ দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রভাত মহামায়া শাখা থেকে ৪২তম রক্তদাতা হিসেবে শিমুল চন্দ্র শীল চাঁদপুর মিডল্যান্ড হাসপাতালে একজন প্রসূতি মাকে “ও” পজেটিভ রক্ত দান করেন। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ৩টা পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন ছাত্র ছাত্রী ও সাধারন মানুষের মাঝে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করানো হয়।
উল্যেখ্য স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদানকারী আড়ালে থাকা সেসব মহৎপ্রাণ মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত ২ নভেম্বর জাতীয় রক্তদান দিবস। ১৯৭২ সালে ১০ জুন জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম দেশের স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে রক্তদান করেন। তার পর ১৯৭৮ সাল থেকে বাংলাদেশে স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে প্রতিবছর ২ নভেম্বর জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদাতা দিবস পালন করা হয়।