পারভেজ কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালী কলাপাড়ায় দুই সন্তানের জননী গৃহবধু অসহায় লাকি বেগম (৩০) কে বেধড়ক লাঠিপেটা ঘটনায় অবশেষে স্বামী গ্রেফতার। ০২/১১/২০১৭ রোজ
বৃহস্পতিবার সকালে পাষন্ড স্বামী খলিল রাঢ়ী গ্রেফতার করে কলাপাড়া থানার পুলিশ।গত রবিবার সন্ধ্যায় কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ওই নির্যাতন ঘটনাটি ঘটেছে। ষষ্ঠ শ্রেণি পড়য়া লামিয়া ডাক-চিৎকার দিয়ে মাকে রক্ষার চেষ্টা করলে পাষন্ড খলিল লামিয়াকে আছাড় দেয়।
এমনকি লামিয়াকে ধরে মারধর করতে ধাওয়া করে। পড়শি কেউ এগিয়ে যাবে এজন্য লাঠি নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে খলিলসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। বর্তমানে লাকি বেগম হাসপাতালে মহিলা ওয়ার্ডের শয্যায় কাতরাচ্ছেন। মায়ের শয্যাপাশে লামিয়ার দু’চোখের পানি ঝরছে। এখন দুই সন্তানসহ অসহায় লাকির আশ্রয় জুটেছে নিতান্ত আরেক অসহায় শ্রমজীবী বাবা বৃদ্ধ মকবুল বেপারীর ঘাড়ে।চোখের জলে লাকি জানান, যৌতুকের জন্য বিয়ের চার বছর পর থেকেই মারধর নির্যাতন চলে আসছে আমার উপর। এনিয়ে একাধিকবার চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ স্থানীয়রা সালিশ করেছেন।
এমনকি অসহায় বাবা সংসারের যোগান দিতে জামাই খলিলকে এক লাখ কুড়ি হাজার টাকায় একটি অটো বাইক কিনে দেন। কিন্তু তা বিক্রি করে দেয়।
এরপরও নানা ছলে ফের যৌতুকের দাবিতে মারধর নির্যাতন চলে।
সবশেষ তিনমাস আগে নীলগঞ্জ আবাসনের বাসীন্দা শিরিনাকে বিয়ে করে খলিল।এই তিন মাসে লাকিসহ তার দুই সন্তানের ভরন-পোষন, খোরাকিসহ কোন ধরনের বাজার-সওদা দেয়নি খলিল।
এমনকি লামিয়ার লেখাপড়া পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। এরপরও আরেক মেয়ে তিন বছরের মারিয়াকে নিয়ে অর্ধাহার-অনাহারে স্বামীর ঘরে ছিলেন লাকি।
হঠাৎ করে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে রোববার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যার পরে হানা দেয় লাকির ঘরে। তার শাশুড়ি চুলের মুঠি ধরে।
সতিন শিরিনা. দেবর ও জা জাপটে ধরে একত্রে বেধড়ক লাঠিপেটা করে।
জাপটে ধরে পরিকল্পিতভাবে বাহু, রানে, পিঠে, পাছায় লাঠিপেটা চালায়।
লাকির ভাষায়, লাকড়ি, চলা, লাডি ও জুতার বাড়িতে শরীরডার এক ইঞ্চি জায়গা পিডাইতে বাহি রাহে নায়।
ডাক-চিৎকার করলে মুখ চেপে ধরা হতো। বর্তমানে এই অসহায় গৃহবধূ লাকির চিকিৎসার খরচ যোগানের মতো আর্থিক সঙ্গতি নেই। হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে নিজেরসহ দুই সন্তানের অনিশ্চিত ভবিষ্যত ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়েন।