পারভেজ, কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালী কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া মৌজার সর্বস্তরের শত শত মানুষ ও কৃষক পরিবারের সদস্যরা তিনফসলী জমিসহ বসতভিটা এলাকা অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে ২৭/১০/২০১৭ শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটায়
নিশানবাড়িয়াএসএমএফকে দাখিল মাদ্রাসার সামনের রাস্তায় ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এই সমাবেশে এলাকার নারী-পুরুষ অংশ নেয়। এসময় অনুষ্ঠিতপ্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গাজী রাইসুল ইসলাম রাজীব, শওকত হোসেন তালুকদার, মহিব মিয়া প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন আব্দুর রশিদ তালুকদার। বক্তারা বলেন, তিনফসলী জমি, ঘনবসতিপুর্ণ এলাকা, বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কবরসহ তাদের শত বছরে পুরনো বাড়িঘর যা বিভিন্ন সংস্থার নামে কোন ধরনের যাচাই বাছাই ছাড়াই অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। ফলে বসতভিটা হারা হচ্ছে সাধারণ হাজারো কৃষক পরিবার।সরকারের এক শ্রেণির কর্মকর্তাকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করে এসব জমি অধিগ্রহণের আওতায় নেয়া হচ্ছে বলেও বক্তারা অভিযোগ করেন। এইসব অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে তারা যে কোন ধরনের প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।ষাটোর্ধ সালেহা বেগম বলেন, ‘হুনি ব্যাবাক লইয়া যাইবে। তিনডা ফসল যদিযায়, বাচমু ক্যামনে। কষ্ট-ক্লেশ কইর্যা যেডু জাগা-জমি করছি হেইয়া যদি লইয়া যায় তাইলে যামু কই। এইললইগ্যা এইহানে (মানববন্ধনে) আইছি।’ উত্তর নিশানবাড়িয়া গ্রামের এই বৃদ্ধার মতো গন্ডামারি গ্রামের কৃষক সোহেল তালুকদার বলেন, ‘মরলে এইহানে বইয়া মরমু। জাগা আর দেওন যাইবে না। কই যামু? রক্ত দিতে রাজি আছি। লাশ পড়বো। জমি দেওয়া যাইব না। জমি যারা আগে দেছে ওই জায়গার সবাই ভিখারি অইয়া গ্যাছে।’ ৮৫ বছরের বৃদ্ধ শানু মৃধা বলেন, ‘বাড়িঘর ছাড়াযাইবে না। জাগাটুকু যা আছে দেওয়া যাইবে না।’এসব মানুষ এমন অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে অত্যাচার-অনাচারের সঙ্গে তুলনা করেন।এছাড়াও তারা বলেন, ধানখালী হলো আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক। প্রতিটা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে তারা শতকারা ৯৫টি দেয় বলে দাবী করেন। তারা আরো বলেন, আওয়ামী লীগকে বেশী ভোট দেয়ার কারনেই কি তাদেরকে আবাদী জমিসহ বাড়ি-ঘর থেকে উচ্ছেদের পায়তারা চলচ্ছে। তারা এটাকে অন্যায় অত্যাচার বলেও দাবি করেন। এবং সরকারের প্রয়োজন হলে তারা জমি ছেড়ে দিবেন কিন্তু কোন কোম্পানি কিংবা সংস্থাকে তারা তাদের জমি দেবেন না
বলে জানান তারা। সকল ইউনিয়নের চেয়ে কৃষিজমিতে বেশি উৎপাদন হয় এই ইউনিয়নে। অথচ একই ইউনিয়নে একের পর এক তিন ফসলী জমি বসতভিটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাপ-দাদার কবর কোন কিছুই বাদ পড়ছে না। কেন ধানখালীতে তিন ফসলী জমিতে একের পর এক বেসরকারি কোম্পানি জমিরনামে কৃষিজমিসহ বসতভিটা অধিগ্রহণ করছে। এসব প্রক্রিয়াকে তারা বসতভিটা থেকে জোর করে উচ্ছেদ করার শামিল বলে মন্তব্য করেন। শওকত হোসেন বলেন,আমাদের সমাবেশ সরকারের উন্নয়ন ব্যাহত করার জন্য নয়। বাসস্থান রক্ষার জন্য।এরা সবাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণের আবেদন জানান। এসব মানুষ এখন উপায়হীন হয়ে আন্দোলনমুখী হয়ে উঠেছেন।উল্লেখ্য, আরপিসিএল নামের একটি বেসরকারি সংস্থা এই এলাকায় আরও একটি বিদ্যুতপ্লান্ট করার জন্য কাজশুরু করেছে। এছাড়া একই ইউনিয়নে ১৩২০ মেগাওয়াট পায়রা তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আরও একাধিক বিদ্যুত প্লান্টের পরিকল্পনা রয়েছে বলে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক-জেলেসহ এই ইউনিয়নের হাজার হাজার পরিবারের নারী-পুরুষ।